শুক্রবার, রাত ৮টা। কলকাতা বিমানবন্দরে ‘বোর্ডিং পাস’ নিয়ে এক-এক করে দুবাইগামী বিমানে উঠছেন যাত্রীরা। কয়েক জন যাত্রী নির্দিষ্ট আসনে বসেও পড়েছেন। হঠাৎ ঘোষণা করা হল, বিমান থেকে যাত্রীদের নেমে যেতে হবে। ‘যান্ত্রিক ত্রুটি’ হয়েছে। 

ওই দিন রাত ৮টা ৫০ মিনিটে নির্দিষ্ট সময়ে বিমানটি তো ছাড়েইনি, উল্টে কার্যত এক দিন ধরে শহরেই আটকে থাকতে হয় বিমানযাত্রীদের। কয়েক জন যাত্রীকে পরের দিন শনিবার নির্দিষ্ট, রাত ৮টা ৫০ মিনিটের দুবাইগামী উড়ানে তুলে দেওয়া সম্ভব হলেও ‘ত্রুটিপূর্ণ’ বিমানটি এ দিন রাতে কলকাতাতেই আটকে পড়েছে। 

কলকাতা থেকে আন্তর্জাতিক বিমান কমতে কমতে এমিরেটস এয়ারলাইন্স-এর উড়ানগুলিই এখন কার্যত ‘হাতের পেনসিল’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সপ্তাহে বেশির ভাগ দিনই দু’টি করে উড়ান-সহ গোটা ১২ দুবাইগামী উড়ান রয়েছে। এই বিমানের যাত্রীরা বেশির ভাগই সাধারণত ইউরোপ বা আমেরিকায় যাবেন বলে বিমানে ওঠেন। তাঁদের লক্ষ্য, আদতে দুবাই থেকে ‘কানেক্টিং ফ্লাইট’ ধরা। দুবাইগামী বিমানটির ‘যান্ত্রিক ত্রুটি’র জেরে তাই কার্যত ঘোর সঙ্কটে পড়েন ২৫০ জন যাত্রী। প্রিয়াংশু নামের এক যাত্রীর কথায়, ‘‘ওয়াশিংটন ডিসি-তে চাকরিতে যোগ দিতে যাচ্ছি। এই দেরির খেসারত কে দেবে?’’ শনিবার রাতের দুবাইগামী বিমানটি ছাড়ার আগেও বোর্ডিংয়ের প্রাক-মুহূর্তে বিমানবন্দরে বিক্ষোভ দেখান কয়েক জন যাত্রী। বিমান সংস্থার আধিকারিক এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে বচসা চলে দীর্ঘ ক্ষণ। শেষমেশ অবশ্য পরিস্থিতি সামলান নিরাপত্তাকর্মীরা। তবে বিক্ষোভের দরুণ শনিবারের দুবাইগামী উড়ান ছাড়তেও খানিক ক্ষণ দেরি হয়েছে। 

এমিরেটস কর্তৃপক্ষের তরফে যাত্রীদের অসুবিধার জন্য দুঃখপ্রকাশ করা হলেও, নিরাপত্তার বিষয়ে আপস করা সম্ভব ছিল না-বলেই মন্তব্য করা হয়েছে। দুবাই থেকে ইঞ্জিনিয়ারদের কলকাতায় বিমান মেরামতির জন্য ডেকে আনা হয়। সূত্রের খবর, বিমানটির হাইড্রোলিক ব্যবস্থায় গোলমাল ধরা পড়ে। শুক্রবার কার্যত রাতভর বিমানবন্দরেই কাটান ২৫০ জন যাত্রী। ভোরের দিকে স্থানীয় একটি হোটেলে রাখা হয় তাঁদের। শনিবার দফায় দফায় বিমান ছাড়ার সম্ভাব্য সময় ঘোষণা করা হলেও বিমানটি ওড়ার জন্য তৈরি হতে পারেনি। কখন ওই বিমানটি ছাড়বে, এ দিন রাত পর্যন্ত তা নিশ্চিত ভাবে বলতে পারেননি এমিরেটস কর্তৃপক্ষ।