তাঁকে ঘিরে প্রশ্ন ক্রমেই বাড়ছে। রায়দিঘির তৃণমূল বিধায়ক দেবশ্রী রায় কেন হঠাৎ দিল্লির বিজেপি অফিসে হাজির হলেন, তার পর সেখান থেকে গেলেনই বা কোথায়, কেনই বা ফোনে বা মেসেজে ধরা যাচ্ছে না তাঁকে।

শুক্রবার বারবার ফোন করেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। ফোন দিনভর সুইচড অফ। অন্য একটি নম্বরে ফোন করলে তাঁর দাদা মৃগাঙ্ক রায় ফোনটি ধরে বলেন, ‘‘দেবশ্রী কোথায় জানি না। ওঁর সঙ্গে যে ফোন থাকে, সেখানে ফোন করুন। আমার সঙ্গে কোনও কথা হয়নি দেবশ্রীর।’’ তাঁর নম্বরে হোয়াট্‌সঅ্যাপ করলে সেই মেসেজ রাত পর্যন্ত ডেলিভার্ড হয়নি। দেখা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ৯ মিনিটে শেষবার দেবশ্রী তাঁর হোয়াট্সঅ্যাপ দেখেছেন।

তিনি কী ভাবে বুধবার দিল্লির বিজেপি অফিসে চলে গিয়েছিলেন, তা নিয়েও রহস্য বাড়ছে। এ ব্যাপারে মুকুল রায়ের কোনও ভূমিকা ছিল কি না, প্রশ্ন উঠছে তা নিয়েও। মুকুল অবশ্য বলেছেন, দেবশ্রীর দিল্লি-যাত্রা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না।

তবে বিজেপি সূত্রের খবর, বুধবার বিকেলে ওই দলে যোগ দেওয়ার আগে দফতরের একটি ঘরে মুকুল, শোভন চট্টোপাধ্যায়, বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়, অরবিন্দ মেনন, জয়প্রকাশ মজুমদার বসেছিলেন। হঠাৎই ‘একটু আসছি’ বলে বেরিয়ে যান মুকুল। খানিক পরে তিনি মেননকে ডেকে পাশের ঘরে নিয়ে গিয়ে দেবশ্রীর সঙ্গে আলাপ করান। বাংলার অভিনেত্রী ও তৃণমূলের বিধায়ক দেবশ্রীও বিজেপিতে যোগ দিতে ইচ্ছুক বলে পরিচয় করান মুকুল। বিজেপির সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা শিবপ্রকাশজির অনুমতি প্রয়োজন, মেনন এ কথা বলায় মুকুল ফোন করেন শিবপ্রকাশকে। সবুজসঙ্কেত পৌঁছয় জে পি নড্ডার কাছেও।

সূত্রের খবর, এমন একটি পরিস্থিতিতে হঠাৎ দেখা যায় বৈশাখীর সঙ্গে শোভনের তর্ক বেধেছে। তারও কেন্দ্রে দেবশ্রী-ই ছিলেন কি না, সে বিষয়ে মতভেদ আছে। কারণ বৈশাখী নিজেই তা অস্বীকার করেছেন। তবে বিজেপিতে যোগদানের পরে জে পি নাড্ডার ঘরে আলাপচারিতায় শোভন-বৈশাখী দু’জনেই জানিয়ে দেন, দেবশ্রী যোগ দিলে তাঁরা বিজেপি ছেড়ে দেবেন। তখন নাড্ডা আশ্বাস দেন, দেবশ্রীকে বিজেপিতে নেওয়া হচ্ছে না।

এ দিকে, দেবশ্রীর এই ভূমিকায় তৃণমূল নেতৃত্ব খুশি নন। কেন দলের অগোচরে বিধায়ক দেবশ্রী এ কাজ করলেন, তা নিয়ে তাঁর কাছে ব্যাখ্যা চাইবে তৃণমূলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার দলীয় সভাপতি শুভাশিস চক্রবর্তীর বক্তব্য, ‘‘দলে ওঁর কোনও সমস্যা হয়েছে বলে কোনও দিন জানাননি।’’