বাবা-মা মরা মেয়েটা বড় হচ্ছিল মামার সংসারে। কিন্তু স্কুল বন্ধ করে ভাগ্নির বিয়ের তোড়জোড় শুরু করেন মামা-মামিমা। বছর চোদ্দোর মেয়েটি অবশ্য রুখে দাঁড়িয়েছে। মামা বাড়ি থেকে পালিয়ে পূজা গোপ নামে ওই নাবালিকা আশ্রয় নিয়েছে ঝাড়গ্রাম শহরে সম্পর্কিত জেঠু-জেঠিমার বাড়িতে।

পড়বে বলেই চলে এসেছে পূজা। কিন্তু তাতেও বাধ সাধছেন মামা বিমল বড়ু। অভিযোগ, পূজার বয়সের প্রমাণপত্র ও গড়বেতার চাঁদমুড়া গ্রামের জুনিয়র হাইস্কুল থেকে অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণের ‘স্কুল লিভিং সার্টিফিকেট’ আটকে রেখেছেন তিনি। ফলে ঝাড়গ্রামের স্কুলে নবম শ্রেণিতে পূজার ভর্তি এখন অনিশ্চিত। ঝাড়গ্রামের বিডিওকে তাই পূজার লিখিত আর্জি, ‘বিয়ে নয়, আমি পড়তে চাই।’

অপরিণত বয়সের বিয়ে রুখতে লাগাতার প্রচার, কন্যাশ্রী প্রকল্প, পুলিশ-প্রশাসনের সক্রিয়তায় এখন বহু নাবালিকাই বিয়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াচ্ছে। পড়াশোনা করে স্বনির্ভর হওয়ার জেদ দেখাচ্ছে। পূজাও সেই সাহসিনীদেরই একজন। তার আদত বাড়ি মেদিনীপুর সদর ব্লকের বেঙাইয়ে। পূজার বয়স যখন ৮, তখন মা লক্ষ্মী গোপ পুড়ে মারা যান। মাস ছয়েক পরে জন্ডিসে ভুগে মারা যান বাবা বিশু গোপও। পূজার ঠাঁই হয় গড়বেতার চাঁদমুড়ায় মামা বাড়িতে। স্থানীয় জুনিয়র হাইস্কুলে ভর্তি হয় সে। কিন্তু সপ্তম শ্রেণিতে ওঠার পরই মামা-মামি বিয়ের জন্য চাপ দিতে শুরু করেন বলে অভিযোগ। আর অষ্টম শ্রেণিতে পড়াকালীন পূজার স্কুলে যাওয়া বন্ধ করা হয়। স্কুলে যেতে চাইলে জুটত মারধর। কন্যাশ্রী প্রকল্পে যাতে নাম না ওঠে, সে জন্য পূজার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও খুলতে দেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুন: বধূর ‘ভূত’! ভয়ে কাঁটা ময়নাগুড়ির বার্নিশ

পাকা দেখার দিন ঠিক হতেই পূজা সোজা বাস ধরে চলে আসে ঝাড়গ্রামের শক্তিনগরে, সম্পর্কিত জেঠু পেশায় দর্জি শম্ভু বাগের বাড়িতে। শম্ভুবাবু ও তাঁর স্ত্রী কাজলদেবী বলেন, “মেয়েটা এখানে আসার পরেও ফোনে হুমকি দিত মামা। কিন্তু পূজা ফিরতে রাজি হয়নি।” পূজার মামা পেশায় মাছ বিক্রেতা বিমলবাবুর অবশ্য দাবি, “পূজাকে জোর করিনি। সার্টিফিকেটও আটকে রাখিনি।”

পুজার সমস্যা সম্প্রতি জানতে পারেন ননীবালা বালিকা বিদ্যালয়ের করণিক অনুপম মণ্ডল। ওই বিদ্যালয়ের টিচার-ইনচার্জ সুচেতা সেনগুপ্ত বসুর আশ্বাস, “আমরা পূজাকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি নেব। ওর আগের স্কুল লিভিং সার্টিফিকেট ও জন্মের শংসাপত্র যাতে উদ্ধার করা যায়, প্রশাসনকে সেই অনুরোধ করেছি।” ঝাড়গ্রামের বিডিও সুদর্শন চৌধুরীও বলছেন, “মেয়েটির পড়াশোনায় যাতে সমস্যা না হয়, সেই পদক্ষেপ করা হচ্ছে।”