বাঘ নেই, কিন্তু তার একটা লম্বা ছায়া পড়ে আছে। লালগড় থেকে শহর মেদিনীপুর।

কেউ দেখেছেন? গত পাঁচ-ছ’দিনে লুকনো ক্যামেরায় একবার তার শাল পাতা মাড়িয়ে শার্দুলসুলভ হাঁটাচলা ধরা পড়েছে বটে, তবে তাকে চাক্ষুষ করা যায়নি। এর বাগানে, ওর গোয়াল ঘরে বাঘের আনাগোনার ছায়া পড়েছে বটে, পুকুড় পাড়ে পায়ের ছাপও রেখে গিয়েছে সে, কিন্তু বাঘমামা উধাও!

বুধবার সকালে খবর মিলেছিল, মেদিনীপুর শহর থেকে কিলোমিটার পাঁচেক দূরে মুড়াকাটায় পদচিহ্ন রেখে গিয়েছেন তিনি। তবে ওইটুকুই। ঝোপঝাড়, বন বাদাড়, ঝিল-জলা বাঘের ছায়াটুকু ছাড়া পড়েনি কিছুই।

আর এর ফলেই ছেলেপুলেদের দুপুরের ক্রিকেট হয়েছে বন্ধ। গরু,বাছুর আবাদি মাঠে ছেড়ে রেখে গ্রামবাসীদের নিশ্চিন্ত দুপুরও উধাও। দুয়ারে খিল এঁটে লালগড় থেকে মুড়াকাটা জানলাটুকু ফাঁক করে এখন বাঘের ছায়া খুঁজছে। বন দফতরের কর্তারা বলছেন, বাঘ মেদিনীপুর শহরের কাছাকাছি এসেছিল বটে, কিন্তু এখন সে ফিরে গিয়েছে লালগড়ের গভীর জঙ্গলে।

আরও পড়ুন: সুবিধার ‘প্রতিদান’ ভোটে চাইছেন মমতা

বন দফতরের কর্তারা আশ্বস্ত করলেও আতঙ্ক কাটছে না। মেদিনীপুর সদর ব্লকের লোহাটিকরির রঞ্জন মাহাতোর কথায়, “বাঘ তো আর বলে কয়ে আসবে না! জঙ্গল ধরে এখানে সেখানে চলে আসতেই পারে। আসতে আর কতক্ষণ লাগবে! আমরা আতঙ্কেই আছি।” বুধবার বাঁকুড়ায় প্রশাসনিক বৈঠকে গিয়ে বাঘ নিয়ে বন দফতরের কর্তাদের সতর্ক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এ দিন তিনি বলেন, ‘‘বাঘ ঘুরে বে়ড়াচ্ছে। ডিএফও-র কাছে কোনও ইনফরমেশন আছে?’’ ডিএফও জানান, এ দিকে বাঘ আসেনি। সঙ্গে সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সতর্কবার্তা, ‘‘আসেনি।
আসতেও তো পারে। অ্যালার্ট করেছেন তো? আমি পুলিশকে বলছি, ড্রোন দিয়ে উপর দিয়ে দেখা হোক। আবার কখন কোন গ্রামে ঢুকে যাবে।’’ বাঘের অবস্থান সম্পর্কে ঝাড়গ্রাম জেলার সঙ্গে সমন্বয় রাখারও নির্দেশ দেন মমতা।

বাঘের সন্ধানে আরও ৫টি ক্যামেরা আনা হয়েছে। যদি আরও একবার ফ্রেমবন্দি করা যায় তাকে।