প্রেমের সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছিলেন আদিবাসী তরুণীটি। সে জন্য মুখে অ্যাসিড মারার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ। শেষমেশ তরুণীর দেহ উদ্ধার হল অভিযুক্ত যুবকের বাড়ি থেকে। 

ঘটনাটি উত্তর ২৪ পরগনার ন্যাজাট থানার বয়ারমারি গ্রামের নেতাজিপল্লির। মূল অভিযুক্ত চন্দন দাসকে মঙ্গলবার সকালে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার বাবা-মাকেও গ্রেফতার করতে হবে, এই দাবিতে পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে জনতা। দেহ নিয়ে শুরু হয় পথ অবরোধ। পুলিশের গাড়িতে ইট-পাটকেল মারা হয়। পরে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। দেহ পাঠানো হয় ময়নাতদন্তে। চন্দন ও তার বাবা-মায়ের নামে পুলিশের কাছে খুনের অভিযোগ দায়ের হয়েছে। 

পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার নাম স্বপ্না মালি (২৩)। পেশায় ভ্যানচালক অদ্বৈত মালির মেয়ে স্বপ্না কালীনগর কলেজে ভূগোল অনার্স নিয়ে দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছিলেন। কয়েক মাস আগে ফেসবুকে চন্দনের সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর। সম্পর্ক গড়ায় প্রেমে। কিন্তু কিছু দিন পর থেকে স্বপ্না চন্দনকে এড়িয়ে চলতে শুরু করেন। স্বপ্নার বাবা জানান, মেয়ে বুঝতে পেরেছিল, ছেলেটা ভাল নয়। 

কিন্তু এই ব্যাপারটা মানতে  পারেনি চন্দন। অভিযোগ, স্বপ্নাকে নানা ভাবে উত্যক্ত করত সে। মুখে অ্যাসিড ছুড়ে মারবে বলে হুমকি দেয়। 

সোমবার সন্ধ্যা থেকে খোঁজ মিলছিল না স্বপ্নার। খোঁজাখুঁজির সময়ে তাঁর এক পাটি জুতো পুকুরের ধারে পড়ে থাকতে দেখেন এলাকার বাসিন্দারা। স্বপ্নার গয়না মেলে তাঁদের বাড়ির উঠোনেই। মেয়েকে টেনেহিঁচড়ে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে সন্দেহ দানা বাধে পরিবারের। স্বপ্নার বাবা অপহরণের অভিযোগ করেন থানায়। মঙ্গলবার সকালে পুলিশ ওই গ্রামেরই বাসিন্দা চন্দনের বাড়িতে হাজির হয়। তার বাবা-মা বাড়ি ছিলেন না। পুলিশ গিয়ে দেখে, খাটের উপরে মৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে স্বপ্নার দেহ। এরপরেই চন্দনকে গ্রেফতার করা হয়। 

ওই যুবকের পরিবারের অবশ্য দাবি, স্বপ্না নিজের ইচ্ছেয় বাড়িতে এসেছিলেন। রাতে শ্বাসকষ্ট হয়। তখনই মারা যান। যা মানতে নারাজ স্বপ্নার পরিবার। তাঁদের দাবি, স্বপ্নার কোনও দিন এ ধরনের রোগ ছিল না।