সভা চলাকালীনই কয়েকজন এসে অভিযোগ তোলেন, ডাকঘর চাকরির ফর্ম জমা নিচ্ছে না। সঙ্গেসঙ্গেই অভিযোগকারীদের নিয়ে ওই ডাকঘরে রওনা দেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। তবে কিছুক্ষণ অপেক্ষার পরেও পোস্টমাস্টারের দেখা না পেয়ে ডাকঘর ঘেরাও করেন কংগ্রেস কর্মীরা। অধীরবাবুর সামনেই ওই আধিকারিককে মারধর ও গালিগালাজ করা হয় বলে অভিযোগ। যদিও অধীরবাবুর প্রতিক্রিয়া, ‘‘সরকারি দফতরে ভাঙচুর হয়ে থাকলে পুলিশ আমায় গ্রেফতার করুক।’’

মঙ্গলবার বিকেলে শহরের কার্জন গেট চত্বরে সহায়ক মূল্যে দান কেনার দাবিতে ও সাম্প্রতিক চাষি মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে একটি প্রতিবাদ সভা ডাকে কংগ্রেস। সভায় যোগ দেন অধীরবাবু। সভা শেষের দিকে আচমকা কাঁটাপুকুরের বাসিন্দা অয়ন দেয়াসিন, ঝাঁপানতলার সংযুক্তা দে-সহ বেশ কয়েকজন চাকরির আবেদনপ্রার্থী অধীরবাবুর কাছে অভিযোগ করেন, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত ফর্ম জমা দেওয়ার লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পরেও তাঁদের ফর্ম জমা নেওয়া হয়নি। উল্টে ডাকঘরের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয় আর ফর্ম জমা নেওয়া যাবে না। অভিযোগ শুনে ওই আবেদনপ্রার্থী ও জনা তিরিশ দলীয় কর্মীদের নিয়ে অধীরবাবু ডাকঘরে পৌঁছন। কিন্তু পোস্টমাস্টারের দেখা না মেলায় উত্তেজিত কংগ্রেস কর্মীরা তাঁর সামনেই ভাঙচুর শুরু করেন বলে অভিযোগ। পরে অবশ্য পোস্টামাস্টার দেখা করেন। ফর্ম জমা নেওয়াও হয়।

কংগ্রেস কর্মীদের দাবি, এ দিন বিকেল ৫টা নাগাদ অধীরবাবু ডাকঘরে ঢুকতেই তাঁকে দেখে কাউন্টারের কর্মীরা ভিতরে চলে যান। প্রায় ১০ মিনিট বাইরে অপেক্ষা করার পরে বারবার পোস্টমাস্টারের সঙ্গে দেখা করার আবেদন জানান অধীরবাবু। ডাকঘরের কর্মীরাও জানান, অল্প সময়ের মধ্যেই পোস্টমাস্টার প্রদীপ দে চলে আসবেন। তবে বেশ কিছুক্ষণ কেটে যাওয়ার পরেও প্রদীপবাবুর দেখা না মেলায় উত্তেজিত অধীরবাবু দলীয় কর্মীদের ডাকঘরে তালা ঝুলিয়ে দিতে বলেন। ডাকঘর ঘেরাও করারও নির্দেশ দেন। এরপরেই উত্তেজিত হয়ে পড়েন কংগ্রেস কর্মীরা। অধীরবাবুর সামনেই ডাকঘরের ২-৩ টি কাচের জানলায় ভাঙচুর চালান তাঁরা। যদিও ভাঙচুর চালাতে দেখেই অধীরবাবু দলীয় কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করেন। ততক্ষণে যদিও পোস্টমাস্টারের দফতরে একদল কংগ্রেস কর্মী ঢুকে পড়েন। পোস্টমাস্টার প্রদীপ দে-র কলার চেপে ধরে চড়-থাপ্পড় মারা হয় বলেও অভিযোগ। এরপর অধীরবাবুও পোস্ট মাস্টারের ঘরে ঢোকেন। অধীরবাবুর উপস্থিতিতেই কংগ্রেস কর্মীরা প্রদীপবাবুকে মারধর করতে থাকে বলে অভিযোগ। যদিও কংগ্রেস কর্মীরা ‘‘কে মারল কে মারল’’ বলে চিৎকার শুরু করে দেন।

অধীরবাবুর অভিযোগ, ‘‘৫০-৬০ জন চাকরিপ্রার্থী লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সত্ত্বেও তাদের ফর্ম বা টাকা না নিয়ে ফেরৎ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার ফর্ম জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল। বৃহস্পতিবার কি সবাই জমা দিতে পারবে?’’ চাকরিপ্রার্থী বর্ধমানের লক্ষ্মীপুরের বাসিন্দা বিভাকিশোর লাহিড়ি, লোকোর বাসিন্দা পিঙ্কি কোনাররা অভিযোগ করতে থাকেন, ‘‘ডাকঘর কর্মীরা নিজেদের পরিচিত প্রার্থীদের ফর্ম জমা নিয়েছেন।’’ কংগ্রেস কর্মীরাও এ দিনই ফর্ম জমা নেওয়ার দাবি তোলেন। ডাকঘরের অধিকারিক প্রদীপবাবুর কাছে কংগ্রেস সভাপতির আরও অভিযোগ, ‘‘‘দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও আপনার বা অন্য কারও দেখা মেলেনি।’’ এর মধ্যেই যুব কংগ্রেস নেতা ইন্তেকাব আলম প্রদীপবাবুর দিকে আঙুল উঁচিয়ে গালিগালাজ করতে শুরু করেন। প্রদীপবাবু যদিও অধীরবাবুর কাছে দাবি করতে থাকেন, ‘‘এখানে আপনার আসার খবর আমাকে কেউ দেয়নি। একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়ে গিয়েছে।’’ প্রদীপবাবুর আরও দাবি, এ দিন ইন্টারনেটের লিঙ্ক পাওয়া যাচ্ছিল না। তার জেরে সময় পেরিয়ে যাওয়ায় চাকরির জন্য আবেদন প্রার্থীদের ফর্ম ও টাকা জমা নেওয়া যায়নি।

এরপরে বর্ধমানের স্পেশাল সুপারেনডেন্ট অভিজিৎ ভট্টাচার্য ডাকঘরে চলে আসেন ও ফর্ম জমা নেওয়ার কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন। ফর্ম জমা নেওয়া হয়নি কেন প্রশ্ন করা হলে অভিজিৎবাবু বলেন, ‘‘সবই আপনারা চোখের সামনে দেখেছেন। পুরো বিষয়টি মিটে গিয়েছে।’’