সপ্তাহখানেকের মধ্যেই তাজপুর বন্দর নির্মাণের প্রাথমিক সমীক্ষার কাজ শুরু হচ্ছে। বুধবার কলকাতা বন্দরের চেয়ারম্যান বিনীত কুমার এ কথা জানান। চেয়ারম্যান বলেন, ‘‘তাজপুর বন্দরের টেকনো-ইকনমিক ফিজিবিলিটি স্টাডির  কাজ সাত দিনের মধ্যে শুরু হবে। তিন-চার মাসের মধ্যে তার রিপোর্ট হাতে আসবে। এর পরেই শুরু হবে বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট (ডিপিআর) তৈরির কাজ।’’

ভোর-সাগর নামে গঙ্গাসাগরে একটি বন্দর কলকাতা পোর্ট ট্রাস্ট ও রাজ্য সরকার যৌথ ভাবে তৈরির প্রকল্প হাতে নিয়েছিল। কিন্তু তার মাঝেই তাজপুরে নতুন বন্দর তৈরির সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য। তখন কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রক জানায়, তাজপুরে রাজ্য বন্দর নির্মাণ করলে, সাগর বন্দর থেকে হাত গোটাবে তারা। বিস্তর আলোচনার পর ঠিক হয়, দু’টি বন্দর কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ উদ্যোগে হবে। কেন্দ্রের অংশীদারি থাকবে বেশি। সেই সূত্র মেনেই তাজপুরের কাজ শুরু করছে জাহাজ মন্ত্রক।

বন্দর চেয়ারম্যান জানান, নেপালে পণ্য পাঠানোর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। প্রতিবেশী দেশে পণ্য পাঠাতে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, তা দেখার জন্য এক জন অফিসার নিয়োগ করার কথাও জানান তিনি। ইদানীং হলদিয়া ও কলকাতা বন্দরের অসহযোগিতায় নেপালের ব্যবসায়ীরা বিশাখাপত্তনম বন্দরে পণ্য নামাতে শুরু করেছিলেন। বন্দর চেয়ারম্যান জানান, হলদিয়ায় এবিজি নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা চলছে। তা দ্রুত মিটে যাবে। ২০১৭-১৮ সালে কলকাতা বন্দরে ৫.৭৮৮ কোটি টন পণ্য খালাস হয়েছে। যা দেশের বড় বন্দরগুলির নিরিখে তৃতীয়। পণ্য খালাসের পরিমাণ বাড়াতে ও দ্রুত পণ্য খালাসের ব্যবস্থার জন্য একগুচ্ছ নতুন প্রকল্পের কথাও ঘোষণা করেন বন্দর চেয়ারম্যান।