• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

রেজিস্ট্রারের পদে ডিন কেন, বিতর্ক যাদবপুরে

Jadavpur University

দু’জন যুগ্ম রেজিস্ট্রার আছেন। রয়েছেন দু’জন সহ-রেজিস্ট্রারও।

তা সত্ত্বেও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ডিন চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন অস্থায়ী রেজিস্ট্রার করায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসমিতির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, অতিরিক্ত হিসেবে আপাতত ছ’মাস রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব সামলাবেন চিরঞ্জীববাবু।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্বতন রেজিস্ট্রার প্রদীপকুমার ঘোষ সহ-উপাচার্য হয়ে যাওয়ার পর থেকে স্থায়ী রেজিস্ট্রারের পদটি ফাঁকা। রেজিস্ট্রারের কার্যভার প্রথম ছ’মাস সামলেছিলেন অন্যতম যুগ্ম রেজিস্ট্রার পার্থ লাহিড়ী। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরেই প্রশ্ন উঠেছে, দু’জন যুগ্ম রেজিস্ট্রার থাকতে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ডিনকে অস্থায়ী রেজিস্ট্রার করা হল কেন? যে-কোনও বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় রেজিস্ট্রারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিন-পদেরও গুরুত্ব অনেক। আঞ্চলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে দেশের শীর্ষ স্থানে থাকা যাদবপুরে এমন দু’টি পদ এক জনকেই চালাতে হবে— এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কি? হয়ে থাকলে সেটা আদৌ হল কেন?

এ বিষয়ে সহ-উপাচার্য প্রদীপকুমার ঘোষের বক্তব্য, কর্মসমিতির সম্মতিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ‘‘কর্মসমিতি যা ভাল বুঝেছে, সেটাই করা হয়েছে,’’ বলেন প্রদীপবাবু। সোমবার কর্মসমিতির যে-বৈঠকে চিরঞ্জীববাবুকে অস্থায়ী রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাতে সভাপতিত্ব করেন প্রদীপবাবুই। উপাচার্য দীর্ঘ ছুটিতে চলে যাওয়ায় এবং রেজিস্ট্রারের পদ খালি থাকায় যাদবপুরে কর্তা-সঙ্কট চলছিল। চিরঞ্জীববাবুকে অস্থায়ী রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব দিয়ে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা চলছে বলে শিক্ষা শিবির সূত্রের খবর। কিন্তু সেই অস্থায়ী নিয়োগ ঘিরেও শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।

এরই মধ্যে এ দিন থেকে দেড় মাসের ছুটিতে গিয়েছেন বিজ্ঞান বিভাগের ডিন সুব্রত কোনার। আগে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, চিরঞ্জীববাবু আগামী দেড় মাস বিজ্ঞান বিভাগের ডিনের দায়িত্ব সামলাবেন। কিন্তু এ দিন রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পাওয়ার পরে তিনি তিনটি দায়িত্ব একসঙ্গে কী করে চালাবেন, তা নিয়ে কর্মসমিতির বৈঠকে প্রশ্ন ওঠে। ঠিক হয়, বিজ্ঞানের ডিনের দায়িত্ব আগামী দেড় মাস চিরঞ্জীববাবুর বদলে সামলাবেন ইন্টারডিসিপ্লিনারি স্টাডিজ, আইন ও ম্যানেজমেন্টের ডিন শমিতা সেন।

উপাচার্য সুরঞ্জন দাস এখনও ছুটিতে। প্রথমে ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাঁর ছুটি মঞ্জুর করেছিলেন আচার্য-রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী। তিনি উপাচার্যের কাজ চালানোর দায়িত্ব দিয়েছিলেন সহ-উপাচার্য প্রদীপবাবুকে। তার পরে উপাচার্যের ছুটি আরও বেড়েছে। অথচ সহ-উপাচার্যই যে এই সময়েও উপাচার্যের দায়িত্ব সামলাবেন, সেই বিষয়ে রাজভবন থেকে নতুন কোনও আদেশ সোমবার রাত পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছয়নি বলে যাদবপুর সূত্রের খবর।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন