প্র: তা হলে লুচি দিয়েই শুরু করা যাক...

উ: লুচি! এই অবেলায়! ওহ, আপনি ‘মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি’র কথা বলছেন? উফ সে এক কাণ্ড বটে!

প্র: লুচিকাণ্ড! ব্যাপারটা কী?

উ: :ছবির কাস্টিংয়ের সময় অনিন্দ্য (চট্টোপাধ্যায়) বলেছিল, রামকুমার চট্টোপাধ্যায়ের একটা গানের সঙ্গে ক্লাসিক্যাল নাচ করে দিতে হবে। এক দিনের শুটিং। রাজি হয়ে গিয়েছিলাম। শুটিংয়ের দিন দেখি কোরিয়োগ্রাফারের পাত্তা নেই। অনিন্দ্য ক্যামেরা রেডি করে বলল, ‘কোরিয়োগ্রাফার নেই। তুই করবি। এক ঘণ্টা সময়। নাচ।’’ আমি তো আকাশ থেকে পড়লাম! ওর কপাল ভাল, আমি ওকে ঝোলাইনি।

প্র: গত বছর পুজোয় কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় নাকি আপনাকে একটা দারুণ উপহার দিয়েছিলেন?

উ: (হাসি) গত বছর দশমীর দিন কৌশিকদা ফোন করে মার্চের কয়েকটা দিন ব্লক করতে বলেছিলেন। আমিও ‘আচ্ছা’ বলে ফোন রেখে দিলাম। কিছুক্ষণ পরে আবার ফোন করে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুই তো জানতে চাইলি না, কেন ডেট ব্লক করতে বললাম?’ কয়েক জনকে আমি কিছু জিজ্ঞেস করি না। তার মধ্যে কৌশিকদা আছেন, শিব (শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়), লীনাদি (গঙ্গোপাধ্যায়) আছেন। যাই হোক, সে দিন উনি বলেছিলেন, ‘আমার পরের ছবিতে তুই থাকছিস, বুম্বার বিপরীতে। এটাই তোর পুজোর উপহার।’ কিন্তু শুটিংয়ের আগে ‘কিশোর কুমার জুনিয়র’ নিয়ে আলোচনা করার সময় হয়নি আমাদের। আউটডোরে যাওয়ার সময়ে তাই ভয় হচ্ছিল। ব্যাপারটা প্রকাশ করতে কৌশিকদা একগাল হেসে বলেছিলেন, ‘চলে আয় না, ঠিক হয়ে যাবে!’

প্র: জয়সলমেরে আউটডোরে গিয়ে তো আপনার লালমোহনবাবুর মতো দশা হয়েছিল...

উ: লালমোহনবাবুর চেয়েও খারাপ দশা হয়েছিল আমার! শাড়ি পরে উটের পিঠে উঠতে হয়েছিল। উট চলতে শুরু করতেই মনে হয়েছিল, ওখানেই মরে যাব! তবে সত্যি সত্যি দু’বার দুর্ঘটনার হাত থেকে পার পেয়ে গিয়েছি। একটা দৃশ্য ছিল, বালি ওড়াতে ওড়াতে জিপ ছুটে আসবে। সেটা করতে গিয়ে জিপ গড়িয়ে সোজা নীচে। আমরা তখন নীচে ছিলাম। ভাঙচুর সব যন্ত্রপাতির উপর দিয়ে হওয়ায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলাম।

প্র: ছবির সিংহভাগ জুড়ে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। আপনি কতটা জায়গা পেয়েছেন?

উ: আমি কিশোর কুমার জুনিয়র মানে বুম্বাদার (প্রসেনজিৎ) সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জুড়ে আছি। শিল্পীদের জীবন সব সময়ে এক সুরে বাজে না। তাঁদের চারপাশে যাঁরা থাকেন, তাঁদেরকে অনেক কিছু মেনে নিয়ে থাকতে হয়। অনেক দম্পতির মধ্যে রাতে ঝগড়া হয়, প্রায় মারমার-কাটকাট অবস্থা, আবার সকাল হতেই ঠিক হয়ে যায়। আমাদের সম্পর্কটাও এখানে তাই। কিশোর কুমার জুনিয়রের স্ত্রী সংসারে সব মেনে নেয়, কিন্তু প্রতিকূল পরিবেশে প্রবল সাহস দেখায়। ‘শিল্পী হতে ট্যালেন্ট লাগে, শিল্পীর বউ হতে সাহস লাগে’— বলতে পারেন, এটা আমার চরিত্রের ট্যাগ লাইন।

প্র: ‘প্রাক্তন’-এর পরে অপরাজিতা আঢ্য বেশি কাজ পাচ্ছেন। সত্যি?

উ: ‘সমান্তরাল’, ‘মেরি পেয়ারি বিন্দু’, ‘নুর জাহান’, ‘ঘরে অ্যান্ড বাইরে’, ‘মাটি’, ‘অস্কার’, ‘হামি’, ‘রসগোল্লা’, ‘মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি’, ‘কিশোর কুমার জুনিয়র’— পরপর ১০টা ছবি! ‘প্রাক্তন’-এর আগে অনেকেই ভাবতে চাইতেন না, আমি সিনেমাতেও অভিনয় করতে পারি। তাঁরা ধরে নিয়েছিলেন আমি তো টেলিভিশন স্টার। এখন সেই ধারণা পাল্টেছে।

প্র: ‘মাটি’ও এই তালিকায় থাকবে নিশ্চয়ই?

উ: অবশ্যই। তবে কুমুদিনী দেবীর চরিত্রটা লীনাদি না হয়ে অন্য কেউ অফার করলে করতাম না! কারণ আমার মনে হয়েছিল, বাংলাদেশি মহিলার চরিত্রে আমি ঠিক মানানসই নই। লীনাদিকে বলেছিলাম, শোনেনি। তবে ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পরে অনেক প্রশংসা পেয়েছি। শুনলাম, লস অ্যাঞ্জেলেসে ছবিটা দেখানোর পরে দর্শকের রি-অ্যাকশন মারাত্মক ছিল!

প্র: এখন তো ঘন ঘন বলিউডে ডাক পাচ্ছেন।

উ: বেশ কিছু কাজের অফার পেয়েছি। এই তো ক’দিন আগে প্রদীপ সরকারের পরিচালনায় একটা বিজ্ঞাপন করে এলাম। অজয় দেবগণ ছিলেন। কিন্তু বাংলা ছবি আমার কাছে আগে, তার পরে বলিউড।

আরও পড়ুন: ‘সিনেমা, গান বা লেখালিখি, প্রথম হাততালিটা কিন্তু পাওয়া যায় কপি করেই’

প্র: ধারাবাহিকে ফিরবেন না?

উ: ধারাবাহিক করলে রিলিজিয়াসলি করতে চাই। এই মুহূর্তে সময় নেই। সিরিয়াল আমাকে সব দিয়েছে, সুতরাং এটাকে নিয়ে ছেলেখেলা করতে পারব না।

প্র: ভবিষ্যতে আর কী কী কাজ করছেন?

উ: ছবির নাম বলতে পারব না। কৌশিকদা, শিব ও আর এক জন নতুন পরিচালকের কাজ শুরু করব কয়েক দিনের মধ্যেই।

প্র: দুর্গাপুজোয় কী করবেন আপনি?

উ: পরিবার ও বন্ধুবান্ধদের সঙ্গে চুটিয়ে আড্ডা দেব। অনেক ঠাকুর দেখব। দেদার খাওয়াদাওয়া করব। তার আগে কয়েকটা পুজোর ফিতে কাটাও থাকবে।