প্র: ফোকাস কি ধীরে ধীরে কলকাতা থেকে সরে মুম্বই হচ্ছে?

উ: ঠিক তা নয়। ন্যাশনাল প্ল্যাটফর্মের জন্য দুটো ওয়েব সিরিজ় বানাচ্ছি। মূল ভাষা বাংলা হলেও অন্য ভাষা থাকবে। একটার পরিচালক আমিই।

প্র: ‘পরি’র পর আরও একটি হিন্দি ছবিতে কাজ করছেন বলে খবর।

উ: একটা কাজের কথা অনেক দূর এগিয়েছে। শুধু বলতে পারি, নামী প্রযোজনা সংস্থার ছবি।

প্র: পরিচালনা-প্রযোজনা কি অভিনেতা পরমব্রতকে কোণঠাসা করে দিচ্ছে?

উ: এ বছর আমার অভিনীত ছবি বলতে একমাত্র ‘পরি’। ‘সোনার পাহাড়’ আর ‘খেলছি আজগুবি’ দুটো ছবি পরপর ডিরেক্ট করলাম। নিজের প্রোডাকশনের ক্রিয়েটিভ দিকটাও দেখি। ফলে সময় করে উঠতে পারছিলাম না। তবে এ বছরের শেষ থেকে আবার অনেক ছবিতে অভিনয় করতে দেখা যাবে। মাঝে সরওয়ার ফারুকির ছবিটা করলাম। ‘রিইউনিয়ন’, ‘শর্টকাট’ করলাম। আসলে, নিজেকে নিয়ে বেশি কথা বলি না, দূরে দূরে থাকি। তাই লোকে জানতে পারে না কী করছি।

প্র: এই দূরে থাকার বিষয়টা তো আগে ছিল না। কোনও নির্দিষ্ট কারণ?

উ: সকলে মিলে এক জায়গায় হয়ে হ্যা-হ্যা করা বা বলা ভাল, ওই আড্ডাটা আর ভাল লাগছে না। একে তো প্রচণ্ড ব্যস্ত। কত পার্টিতে যেতে পারি না। এসভিএফ-এর কয়েকটা পার্টিতে যেতেই পারলাম না। আর পার্টিগুলোয় মাঝে মধ্যে আউট অব প্লেস মনে হয়। ছোট্ট ইন্ডাস্ট্রি... একটাই নেক্সাস, একটাই সার্কল... একঘেয়ে লাগে। এখন আমার একটা সংসার জীবন আছে। অফিসের ছেলেমেয়েগুলোর সঙ্গেও হ্যাংআউট করি। ইন্ডাস্ট্রির ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা ছাড়া কারও সঙ্গে যোগাযোগ নেই।

প্র: এসভিএফ-এর এতগুলো ছবি ঘোষণা হল। আপনি একটাতেও নেই। লোকে তো ভাবতেই পারে সমস্যা আছে।

উ: জানি ভাবছে (হাসি)! বিষয়টা হল, সমস্যা তো দূরের কথা, আমি এর মধ্যে ‘হইচই’-এর জন্য অনেকগুলো কাজ করেছি। সৃজিতের ‘চৌরঙ্গী’তেও কাজ করার কথা চলছে।

প্র: ‘সোনার পাহা়ড়’-এর মা-ছেলের সম্পর্কে ব্যক্তিগত ছোঁয়া কতটা?

উ: বাস্তবধর্মী ছবিতে নিজেদের জীবনের কিছু না কিছু উপাদান থাকবেই। তনুজাদির চরিত্রায়নের সঙ্গে আমার মায়ের মিল আছে। ওই বয়সের অসহায়তা, নিঃসঙ্গতা আমার মায়ের মধ্যেও প্রত্যক্ষ করেছি। আমি যিশুকে (সেনগুপ্ত) গল্পটা বলার পর দেখি, অঝোরে কাঁদছে। বলছে, ‘এটা তো আমার গল্প’। ওকে বললাম এটা আমারও গল্প।

প্র: প্রায় সব বাংলা ছবিতে যিশু সেনগুপ্ত প্রধান মুখ। আপনিও কি সেই জন্যই নিলেন?

উ: না (হাসি)!  প্রথমে যিশুর চরিত্রটা আমার করার কথা ছিল। আর আমারটা সৃজিতের। সেটা হয়নি। তার পর যিশুর কথা ভাবি। আর পরিচালনার সময় সেটে বন্ধুরা থাকলে ভাল লাগে। যিশু ইজ় আ লাভলি পার্সন। খাতায়-কলমে আমরা প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারি। কিন্তু সেই ব্যাপারটা আমাদের মধ্যে জাস্ট নেই।

প্র: ‘লড়াই’ সফল হয়নি। তার পর আবার ফুটবল নিয়ে ছবি করতে গেলেন কেন?

উ: ‘খেলছি আজগুবি’ আর ‘লড়াই’-এর মধ্যে ফুটবল ছাড়া আর কোনও মিল নেই। খেলা নিয়ে কমেডি আগে কখনও হয়নি। কলকাতার ময়দান নিয়ে কখনও ছবি হয়নি। এত আফ্রিকান ফুটবলার খেলে গিয়েছেন এখানে, তাঁদের নিয়েও তো ছবি হয়নি। ‘খেলছি আজগুবি’ খুব অন্য রকম একটা ছবি হতে চলেছে।

প্র: এর পর কোন ছবি পরিচালনা করবেন, নিশ্চয়ই ঠিক হয়ে গিয়েছ?

উ: সামনের বছর একটা থ্রিলার করার ইচ্ছে আছে। রুদ্রর (রুদ্রনীল ঘোষ) সঙ্গে ‘হাওয়া বদল টু’-এর পরিকল্পনা আছে।

প্র: গরমকালে সাধারণত কলকাতায় থাকেন না। এ বার রয়েছেন যে!

উ: গরমে কলকাতায় না থাকার কারণ তো এখন কলকাতায় (হাসি)! 

প্র: যে সংসার জীবনের কথা বলছিলেন?

উ: হ্যাঁ। গত নভেম্বরে ইকা এখানে চলে এসেছে। কিছু দিন পর কাজেও জয়েন করবে।

প্র: নিজের দেশ, লোকজন, সব কিছু ছেড়ে চলে আসাটা তো বিরাট  ব্যাপার!

উ: বলতে দ্বিধা নেই, শি ইজ় মাই বিগেস্ট স্ট্রেংথ। ও যে এটা করতে পেরেছে, তার জন্য স্যালুট। ইকা এত ভাল সার্জেন। এখানে মনের মতো কাজ পাবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ ছিল। সেই সমস্যা মিটেছে। (একটু থেমে) ২০১২-১৩ সালে আলোচনা করতাম, আমরা দু’জনে আলাদা আলাদা থাকছি। শেষটা কোথায় হবে বুঝতে পারতাম না। এতটাই নার্ভাস লাগত যে, আলোচনাটাই এড়িয়ে যেতাম। সেই জায়গা থেকে আজকের দিনে এসেছি।

প্র: আপনি এত ব্যস্ততার মধ্যে সময় দিতে পারছেন বান্ধবীকে?

উ: যতটা পারছি দিচ্ছি। ওর এখানে প্রচুর বন্ধু। ইকা যে ভাবে কলকাতাকে আপন করেছে আমি কাউকে ওই রকম দেখিনি! রাস্তাঘাট, অলি-গলি সব চিনে গিয়েছে। নিজের মতো অটো, মেট্রোয় ঘুরে বেড়ায়।

প্র: পরমব্রত লং ডিসট্যান্স রিলেশনশিপে ছিলেন এবং শেষমেশ থিতু হলেন। এতে কিন্তু অনেকেই অবাক হবেন!

উ: জানি তো (হাসি)!