• Gauri and Sussane
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

শক্তিরূপেণ

বলিউডে নায়ক-তন্ত্রের পাশাপাশি স্ত্রী-তন্ত্রও কিন্তু দিব্যি চলে। স্টার ওয়াইফদের হাতেও ক্ষমতা কম নয়।কীসের জোরে তাঁদের এই দাপট?

Gauri and Sussane
গৌরী ও সুজান
  • Gauri and Sussane

Advertisement

রূপসী স্ত্রীর হাতে হাত দিয়ে পার্টিতে প্রবেশ, ক্যামেরার ঝলকানি, পেজ থ্রি-তে ছবি... বলিউডে নায়কদের অর্ধাঙ্গিনীদের ক্যারিশমা এখানেই শেষ, এমন ভাবার কারণ নেই। স্রেফ ট্রফি ওয়াইফ একেবারেই নন তাঁরা। স্বামীদের পরিচয় ছাড়া নিজের আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছেন অনেকেই। তবে সেটাও তেমন নতুন কথা নয়। এমন কেউ কেউ আছেন যাঁরা একার হাতে ইন্ডাস্ট্রির অনেক সমীকরণই বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। নায়কদের মধ্যে যেমন আলাদা আলাদা গোষ্ঠী রয়েছে, তেমনই রয়েছে তাঁদের স্ত্রীদের মধ্যেও।

 

শক্তিপুঞ্জ

সবচেয়ে ক্ষমতাশালী যদি কোনও গোষ্ঠী থেকে থাকে, তা হল গৌরী খান, সুজান খানের। এঁদের মধ্যে অর্জুন রামপালের স্ত্রী মেহের জেসিয়া, সঞ্জয় কপূরের স্ত্রী মাহিপ, চাঙ্কি পাণ্ডের স্ত্রী ভাবনা, সুনীল শেট্টির স্ত্রী মানা রয়েছেন। আরবাজ খানের প্রাক্তন স্ত্রী মালাইকা, সোহেল খানের স্ত্রী সীমা, সলমনের
বোন অর্পিতা খানও কিন্তু এই দলেরই সদস্য।

তবে আসল কলকাঠি নাড়ার কাজটা গৌরী খানই করে থাকেন। দিন দুয়েক আগেই সুজান বলেছেন, ‘‘গৌরীর সঙ্গে আমার কোনও প্রতিযোগিতা নেই।’’ বলবেন তো বটেই। দু’জনেই ইন্টিরিয়র ডিজাইনিংয়ের কাজ করলেও কেউ কারও রাস্তা কাটেন না। গৌরী দুবাই থেকে ফিরে এসে মুম্বইয়ে বেশ বড় স্টোর খুলেছেন। সারা দেশ জুড়েই নিজের ক্লায়েন্ট তালিকা বাড়িয়ে চলেছেন। নেপথ্যে অবশ্যই শাহরুখ খান। কিন্তু গৌরীর একার আধিপত্যও কম নয়। কম যান না সুজান খানও। তাঁর ক্লায়েন্ট তালিকাও যথেষ্ট ঈর্ষণীয়! খবর বলছে, মুম্বইয়ে রিয়েল এস্টেটের ব্যবসা এখন তলানিতে। সেখানে সেলেব নাম যুক্ত হলে আখেরে লাভ আছে। শোনা যাচ্ছে, মুম্বইয়ের এক ব্যবসায়ী সম্প্রতি সুজানকে দিয়ে একটি বিল্ডিংয়ের ইন্টিরিয়র করিয়েছেন। যাতে সুজানের নামেই ক্রেতা পাওয়া যায়। বিনিময়ে সুজান বিনামূল্যে একটি ফ্ল্যাটও পেয়েছেন।

হৃতিকের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে গেলেও সুজানের প্রতিপত্তি কমেনি। আর এখন তো দু’জনের দিব্যি ভাবও রয়েছে। এ দিকে আরবাজের সঙ্গে বিচ্ছেদ হলেও মালাইকা এই শক্তিপুঞ্জের অন্যতম পিলার। সীমা খানের একটি রিটেল বুটিক আছে। যেখানে সুজান আর মািহপও পার্টনার। এই দলের আর এক স্তম্ভ কিন্তু মানা শেট্টি। লো প্রোফাইলে থাকলেও সুনীল শেট্টি যেমন অনেক ক্ষমতা ধরেন, মানাও তাই। তাঁর নিজস্ব এনজিও আছে। সমাজসেবার পাশাপাশি ব্যবসা, ডিজাইনার স্টোর ইত্যাদিও চালিয়ে থাকেন মানা। প্রোডাকশন হাউজের ব্যবসায় এঁরা প্রায় সকলেই যুক্ত। গৌরী তো বটেই। তিনি রে়ড চিলিজের অন্যতম কান্ডারি। সিনেমার প্রোডাকশনের কাজেও এঁরা বেশ হস্তক্ষেপ করেন। গৌরী খানের ক্ষমতার জ্বলন্ত উদাহরণ প্রিয়ঙ্কা চোপড়া। মিসেস খানের রোষে পড়ার জন্যই নাকি প্রিয়ঙ্কাকে হলিউড পাড়ি দিতে হয়েছিল। এই গোষ্ঠীর মধ্যে কিন্তু করিনা এবং করিশ্মা রয়েছেন। তবে তাঁরা তো নিজেরাই তারকা। এই দলে রয়েছেন দুই ফারহাও। সুজানের বোন জুয়েলারি ডিজাইনার এবং পরিচালক-কোরিওগ্রাফার ফারহা খান।

কিরণ, মালাইকা ও টুইঙ্কল

একা নিজ দ্বীপে

এই গোষ্ঠী থেকে আলাদা নিজের মতো থাকেন টুইঙ্কল খন্না, কিরণ রাওয়েরা। একসঙ্গে পার্টি করা কিংবা বেড়াতে যেতেও দেখা যায় না তাঁদের। কিরণ যেমন সকলের সঙ্গে উপর উপর ভাব রেখে চলেন। তবে আমিরের সাম্রাজ্যের উপর কিরণের যথেষ্ট প্রভাব। আমিরের প্রযোজনা সংস্থার অনেক সিদ্ধান্তই তিনি একা হাতে নেন। কিরণের সঙ্গে অল্প বিস্তর ভাব আছে শিল্পা শেট্টির। টুইঙ্কল নিজেও নায়িকা ছিলেন। শ্রীমতী অক্ষয় এখন নিজস্ব একটা জায়গা তৈরি করে নিয়েছেন। প্রযোজনায় এসেছেন। বলিউডে বেশ ঘটা করে করবা চৌথ পালনের প্রথা রয়েছে। টুইঙ্কল যেমন একবার দুম করে বলে বসলেন, ‘‘বলিউডে যেখানে বিয়েই টেকে না, সেখানে করবা চৌথ করার মানেটা কী!’’ মিসেস ফানি বোনসের টিপ্পনীকে কিন্তু অনেকেই ডরায়।

সেলেব কর্তাদের সমীকরণ দিয়ে যদিও গিন্নিদের মাপা যাবে না। শাহরুখের সঙ্গে হৃতিকের অন্তরঙ্গ সম্পর্ক না-ও থাকতে পারে বা সলমনের সঙ্গে ঝগড়ার সময়গুলোতেও মালাইকা বা সীমার সঙ্গে গৌরীর সম্পর্ক কিন্তু খারাপ হয়নি। এ দিকে যেমন ফারহানের সঙ্গে হৃিতকের তুমুল ভাব হলেও অধুনা ভবানী কোনও দিনই সুজানদের দলে ছিলেন না। মহিলাদের এই দলে একজন পুরুষও আছেন বটে। কর্ণ জোহর। সর্বঘটের কাঁঠালি কলা! সাংঘাতিক ধুরন্ধর এই প্রযোজক-পরিচালকের সঙ্গে কিন্তু শাহরুখ থেকে আমির হয়ে টুইঙ্কল সকলেরই দহরম মহরম। অনেক সময় কর্ণের বাড়ির পার্টিতেই স্ত্রী-রত্নদের আসর বসে। শোনা যায়, সেখানেই নাকি অনেক অভিনেতার ভবিষ্যতের হিসেব নিকেশ হয়।

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন