দুনিয়া যত হাতের মুঠোয় আসছে, অভ্যেস আর পছন্দও বদলে যাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ার বাড়বাড়ন্ত আমাদের দিনযাপন বদলে দিচ্ছে। আর অনলাইন স্ট্রিমিং পোর্টালগুলো বদলে দিচ্ছে বিনোদনের পরিভাষা।   সিনেমা, ডেলি সোপে আটকে নেই আজকের প্রজন্ম। টিভি সিরিজ়, ওয়েব সিরিজ় বিনোদনের একটা মুখ্য অংশ দখল করে নিচ্ছে। সেলেবরা নতুন বিনোদনের খোরাকে মেতেছেন। প্রতি দিন যে হারে অনলাইন স্ট্রিমিং সাইটগুলোর সাবস্ক্রিপশন বা়ড়ছে, তাতে এটা স্পষ্ট আগামী দিনে এন্টারটেনমেন্টের প্রধান মাধ্যম হতে চলেছে এটাই।

হলে গিয়ে নিয়মিত সিনেমা দেখা অনেকেরই হয় না। সেই সব সিনেমা অনলাইনেই চলে আসে এখন। কিন্তু স্রেফ সিনেমার জন্য তো নেটফ্লিক্স বা এইচবিও জনপ্রিয় নয়, তাদের ভাঁড়ারে অসংখ্য টিভি আর ওয়েব সিরিজ়ও রয়েছে। অভিনেত্রী রাইমা সেন যেমন নিজেকে ‘অ্যাডিক্টেড’ বলতেও পিছপা নন। ‘‘বন্ধুদের সঙ্গে  মুভি দেখতে যাই ঠিকই। কিন্তু হাতের মুঠোয় এত ভাল অপশন থাকতে অন্য কিছু করতে ইচ্ছে করে না। এমন কত বার হয়েছে, বন্ধুদের সঙ্গে পার্টি পর্যন্ত বাতিল করে দিয়েছি কোনও একটা সিজ়ন দেখব বলে।’’ রাইমার মোবাইলে গুচ্ছের অ্যাপ রয়েছে। তাঁর অন্যতম পছন্দের শোয়ের তালিকায় রয়েছে ‘গেম অব থ্রোনস’ ও ‘হাউস অব কার্ডস’। ‘‘অনলাইন স্ট্রিমিংয়ের সুবিধে হল, এখানে অন্য দেশের শোগুলোও পাওয়া যাচ্ছে। এই সুযোগ এত সহজে তো অন্য কোথাও মিলবে না,’’ মত রাইমার। তাঁর মতোই নেশা পাওলি দামেরও। বলছিলেন, ‘‘যত রাতই হোক বাড়ি এসে নেটফ্লিক্সের কোনও শোয়ের কয়েকটা এপিসোড না দেখলে আমার ঘুম হবে না। কোনও দিন যদি কাজ না থাকে, তা হলে সারা দিন নেটফ্লিক্স চালিয়েই বসে থাকি আমি।’’ পাওলির পছন্দের শোয়ের তালিকায় রয়েছে ‘গ্র্যান্ড হোটেল’, ‘এলিয়েনেস্ট’, ‘থার্টিন রিজ়নস হোয়াই’, ‘দ্য রেন’ ইত্যাদি।

জনপ্রিয়তা দেখে বড় পর্দার অভিনেত্রীরাও টিভি বা ওয়েব সিরিজ় করতে আগ্রহী। ‘‘অনুরাগ কাশ্যপের মতো পরিচালক শো ডিরেক্ট করছেন। আর এখানে মাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ নয়, কাজটা কেমন সেটাই আসল,’’ বলছিলেন রাইমা। সম্প্রতি একটি বাংলা অনলাইন স্ট্রিমিংয়ে কাজ করেছেন পার্নো মিত্র। ‘‘আমি অনেক বছর ধরে এই শোগুলো দেখে আসছি। এত ভাল কনটেন্ট তো সিনেমাতেও পাওয়া যায় না,’’ বক্তব্য তাঁর। সম্প্রতি ‘সেক্রেড গেমস’ দেখেছেন। সেফ আলি খান আর নওয়াজ়উদ্দিন সিদ্দিকির থ্রিলার বেশ ভাল লেগেছে পার্নোর। ‘ডার্ক’, ‘দ্য সিনার’, ‘ট্রু ডিটেক্টিভ’ তাঁর পছন্দের শো। তবে তাঁর সবচেয়ে বেশি পছন্দের টিভি সিরিজ় ‘ব্রেকিং ব্যাড’।

রাহুল এবং পাওলি।

এই মুহূর্তে অনুরাগ কাশ্যপ, বিক্রমাদিত্য মোতওয়ানের ‘সেক্রেড গেমস’ নিয়ে উন্মাদনা মারাত্মক। অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ও তার বাইরে নন। বললেন, ‘‘আমি তো একটা গোটা দিন বিঞ্জ ওয়াচ করেছি ‘সেক্রে়ড গেমস’। এ রকম একটা শো যে ভারতে হল, সেটা ভেবেই গর্ব হচ্ছে আমার!’’ রাহুল ‘ব্ল্যাক মিরর’, ‘থার্টিন রিজ়নস হোয়াই’, ‘হাউস অব কার্ডস’-এরও ভক্ত। অনলাইন পোর্টালগুলোয় অগুনতি কমেডি শো থাকলেও সেলেবদের পছন্দ অনুযায়ী থ্রিলারের দিকেই পাল্লা ভারী। রাহুল বললেন, ‘‘আসলে থ্রিলারের একটা হুক থাকে, পরের এপিসোডে কী হচ্ছে সেটা জানার আগ্রহ থেকেই সিরিজ়গুলো দেখে রাত কাবাড় হয়ে যায় অনেকের!’’

‘সেক্রেড গেমস’ ভাল লেগেছে অভিনেতা অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়েরও। তবে তাঁর মতে, সাম্প্রতিক সব সিরিজের মধ্যে সেরা ‘ফওদা’। এই ইজ়রায়েলি থ্রিলার নিয়ে বেশ উত্তেজিত অনিন্দ্য। 

মোবাইল ফোন যতই ‘সব পেয়েছি’র মাধ্যম হোক, অনেকের আবার বড় স্ক্রিন না হলে জমে না! অনিন্দ্য যেমন মোবাইল থেকে টেলিভিশনে কানেক্ট করে শোগুলো দেখেন। নইলে ক্যামেরার কাজই বোঝা যাবে না যে! একই বক্তব্য পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের। তাঁর মতে, ‘‘এত ভাল ভাল শো, দুর্দান্ত সিনেম্যাটোগ্রাফি এগুলো বড় স্ক্রিন, সাউন্ড বক্স না হলে চলে! মোবাইলে এ সব দেখা যায় না।’’

একটা শো কিন্তু সব সেলেবেরই কমন পছন্দ। ‘গেম অব থ্রোনস’। কিন্তু কেন? জবাবটা দিলেন চূর্ণি গঙ্গোপাধ্যায়, ‘‘আদতে এটা রূপকথা হলেও তার বাইরে একটা সামাজিক ইতিহাস আছে। কী ভাবে সমাজ গড়ে উঠল, সেটা রূপকথার মোড়কে দেখানো হয়েছে। আর একটা ব্যাপার হল, প্রথম এপিসোডের কোনও সামান্য চরিত্র পরবর্তী কালে মারাত্মক ভূমিকা নিল। কোন চরিত্র কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, সেটা দর্শক আন্দাজ করতে পারেন না। আর এই সিরিজ়টার লেখা চমৎকার, বুনোটটা খুব ভাল।’’ চূর্ণির অন্যান্য পছন্দের শোয়ের মধ্যে রয়েছে ‘ক্রাউন’,  ‘ব্ল্যাক মিরর’, ‘সিরিজ় অফ আনফরচুনেট ইভেন্টস’, ‘ব্রেকিং ব্যাড’, ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’।