কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘নগরকীর্তন’-এ প্রায় ১৮-২০ জন বৃহন্নলা অভিনয় করেছেন। যাঁদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে শঙ্করীকে। পরিচালকের কথায়, ‘‘বৃহন্নলাদের মধ্যে যাঁর নেত্রীসুলভ কর্তৃত্ব থাকে, তাঁকে বলা হয় গুরু মা। শঙ্করী ওই চরিত্রে অভিনয় করছেন।’’ 

ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের শখ শঙ্করীর। অল্প বয়সে বাবাকে হারান। অভাবের সংসারে হস্টেলে থেকে পড়াশোনা। তবে অভিনয়ের স্বপ্ন ছাড়েননি। শঙ্করীর কথায়, ‘‘স্কুলে আমি দ্রৌপদী, সীতার চরিত্রে অভিনয় করেছি।’’ এই ছবির প্রস্তাব পেলেন কী ভাবে? ‘‘কৌশিকদার ছবিতে কাজ করা আমার কাছে স্বপ্নের মতো। প্রথমে ফোনে যোগাযোগ করা হয়। তার পরে কৌশিকদা এবং ওঁর টিমের কয়েক জন বাড়িতে এসে স্ক্রিপ্ট শোনান।’’

ছবিতে ঋদ্ধিকে (পুঁটি) যখন তার বাড়ি থেকে বার করে দেওয়া হয়, তখন শঙ্করীই প্রথম তাকে আশ্রয় দেয়। ত্রুমে ঋদ্ধির বৃহন্নলা রূপে আত্মপ্রকাশ, শাড়ি পরা, আদবকায়দা শেখা... সব কিছুই শঙ্করী অভিনীত চরিত্রটির হাত ধরে। ছবি শুরুর আগে বেশ কয়েক দিন রিহার্সাল করতে হয়েছে শঙ্করী ও বাকিদের। কৌশিকের কথায়, ‘‘অভিনেতা হতে গেলে যে গুণ সবচেয়ে বেশি জরুরি, ওঁদের সকলের মধ্যেই সেটা রয়েছে। ওঁদের মধ্যে কোনও জড়তা নেই। সকলেই নিষ্ঠাবান ছাত্রীর মতো এই ছবিতে কাজ করেছেন।’’

কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘নগরকীর্তন’ ছবির দৃশ্য

এই ছবির সৌজন্যে শঙ্করীর মতো বৃহন্নলারা মূলস্রোতে স্বীকৃতি পাবেন বলে আশাবাদী পরিচালক। শঙ্করীর পছন্দের টলিউড শিল্পী জিৎ ও কোয়েল। হাসতে হাসতে বললেন, ‘‘জিৎকে আমি ভালবাসি। আর বুম্বাদাকে শ্রদ্ধা করি।’’