বিতর্ক মেটার কোনও ইঙ্গিতই নেই টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘পহেরেদার পিয়া কী’র। কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি নিজে বিষয়টি দেখছেন বলে খবর। ঠিক কোন কোন বিষয় নিয়ে বিতর্ক, তা অনুসন্ধানের নির্দেশ তিনি দিয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে। কিন্তু সোমবার ধারাবাহিকের নির্মাতা স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, গল্প বদলের সম্ভাবনা নেই।

ছবির চরিত্র দিয়ার বয়স ১৮ বছর। এবং তার স্বামী রতন সিংহের বয়স ৯। এই অসম বয়সি প্রেম ও বিয়ে নিয়েই যাবতীয় বিতর্কের সূত্রপাত। টেলিভিশনের জনপ্রিয় তারকা কর্ণ ওয়াহি প্রথম মুখ খোলেন এই শোয়ের বিরুদ্ধে। তার পর সোশ্যাল নেটওয়ার্কে জনগণ ‘পহেরেদার পিয়া কী’ নিয়ে ক্রমশ তাঁদের ক্ষোভ উগরে দিতে থাকেন। শো বন্ধ করার আর্জি জানিয়ে অনলাইনে পিটিশন সই করা হতে থাকে। দেড় লক্ষের বেশি মানুষ এই ধারাবাহিকের বিরোধিতা করে স্বাক্ষর করেছেন। কিন্তু এ সবে আমল দিতে নারাজ নির্মাতারা। প্রযোজক সুমিত এবং সাক্ষী মিত্তল এ দিন বলেন, ‘‘যাঁরা এই পিটিশনে সই করেছেন, তাঁরা শোয়ের ব্যাপারে আদৌ জানেন না। শোয়ে কী দেখানো হয়, তা না জেনেই তাঁরা বিরোধিতা করছেন।’’

ধারাবাহিকে কেন্দ্রীয় চরিত্রদের মধুচন্দ্রিমার দৃশ্য রয়েছে। তা নিয়েও বিস্তর আপত্তি উঠেছে। এ প্রসঙ্গে সুমিত মিত্তলের বক্তব্য, ‘‘অশ্লীল কিছুই দেখানো হয়নি। ধারাবাহিকটির ২০টি এপিসোড হয়ে গিয়েছে। প্রকৃত দর্শক জানেন, আমরা খারাপ কিছু দেখাইনি। রতন সিংহ এবং দিয়া একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে পড়ে বিয়ে করে। বাল্য বিবাহকে সমর্থন করার মতো কিন্তু কিছু দেখানো হয়নি।’’

প্রযোজকেরা জানাচ্ছেন, স্মৃতি ইরানির তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও বার্তা তাঁদের কাছে এসে পৌঁছয়নি। এলে তাঁরা সেই মতো পদক্ষেপ করবেন।

তাই এই মুহূর্তে ধারাবাহিকের গল্প বদলানোরও কোনও প্রয়োজন দেখছেন না নির্মাতারা। শোয়ের লেখিকা এবং প্রযোজক সাক্ষী মিত্তল বলছেন, ‘‘গল্পই আমাদের শক্তি। তা কোনও ভাবেই বদলাব না। বিতর্কের সাহায্যে জনপ্রিয়তা পাওয়ার কোনও ইচ্ছে নেই আমাদের। এখনও পর্যন্ত শোয়ের টিআরপি ১। যদি জনপ্রিয়তা বাড়ানোর উদ্দেশ্য থাকত, তা হলে এই টিআরপি থাকত না।’’  তাঁদের এই বক্তব্যে এমন প্রশ্নও উঁকি মারছে, তা হলে কি দর্শকও ধারাবাহিকটি পছন্দ করছেন না বলেই টিআরপি ভাল হচ্ছে না? এর কোনও স্পষ্ট জবাব নির্মাতাদের থেকে পাওয়া যায়নি। অনেকের প্রশ্ন, বিতর্কের হাত থেকে রেহাই পেতে গল্প খানিকটা এগিয়ে দেওয়া হবে কি না? এই প্রসঙ্গে সাক্ষী জানালেন, লিপ নেওয়ার কোনও ইচ্ছে এই মুহূর্তে নেই।

নির্মাতারা ধারাবাহিকের অভিনেতাদের এই বিতর্ক থেকে দূরে রাখতে চান। যদিও কিছু দিন আগে দিয়ার চরিত্রের অভিনেত্রী তেজস্বিনী শোয়ের সমর্থনে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছিলেন। তবে আপাতত তাঁরা এ নিয়ে কিছু বলছেন না। সাক্ষী জানালেন, ছবির সেটে অভিনেতারা খুব স্বাভাবিকই রয়েছেন। বিতর্ক নিয়ে মাথা ঘামানো কোনও কাজের কথা নয়। তেজস্বিনী আর অফন (রতন সিংহ) দু’জনেই খুব বন্ধু। অফনের স্কুলের হোমওয়ার্কেও সাহায্য করে তেজস্বিনী!