যে আগুন #মিটুর সুবাদে দেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে, তা চট করে নেভার নয়। পরপর বহু নাম উঠে আসছে অভিযোগের তালিকায়। পুরনো ঘটনাও খুঁজে পাচ্ছে বিভিন্ন নয়া মোড়়।

সোনা মহাপাত্র এবং শ্বেতা পণ্ডিত প্রথম যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলেছিলেন সঙ্গীত পরিচালক অনু মালিকের বিরুদ্ধে। এখন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও দুই মহিলাও অভিযোগ এনেছেন অনুকে নিয়ে। এক জন মহিলার কথা মতো, নিজের বাড়িতেই তাঁকে ডেকে অশালীন আচরণ করেছিলেন অনু। শেষে ডোরবেল বেজে ওঠায় নিস্তার পান তিনি। অন্য জনকে অনু বলেছিলেন, তাঁর সঙ্গে দেখা করার হলে যেন শিফন শাড়ি পরে আসেন। একা পেয়ে সেই মহিলাকে ইচ্ছের বিরুদ্ধে আলিঙ্গনও করেছিলেন অনু। এই সব অভিযোগ আসার পরে অনুর প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে নিজের উকিলের মাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, সব অভিযোগই ভিত্তিহীন। অবশ্য যে জনপ্রিয় সঙ্গীত রিয়্যালিটি শোয়ের (ইন্ডিয়ান আইডল) তিনি বিচারক ছিলেন, চ্যানেলের তরফে জানানো হয়েছে, সেই শো থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে অনুকে। নতুন বিচারক খোঁজা চলছে আপাতত।

এর আগে শ্বেতা পণ্ডিত জানিয়েছিলেন, তিনি মোটে ১৫ বছর বয়সের কিশোরী ছিলেন যখন, এক বার অনু তাঁকে চুমু খাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কৈলাস খেরের সঙ্গে অনুর নামে অভিযোগ আনেন সোনা মহাপাত্রও। অনুর বিরুদ্ধে সাম্প্রতিকতম অভিযোগ এনেছেন আর এক গায়িকা ক্যারালিসা মন্টেরো।

অন্য দিকে পরিচালক বিকাশ বহেলের বিরুদ্ধে যে বিক্ষোভ দেখা দিয়েছিল, সেই গোটা বিষয়টাই এখন ঘুরে গিয়েছে অনুরাগ কাশ্যপ এবং‌ বিক্রমাদিত্য মোতওয়ানের বিরুদ্ধে বিকাশের করা মানহানির মামলার দিকে। সম্প্রতি বিকাশের বিরুদ্ধে জমা পড়া হেনস্থা সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল। কিন্তু অভিযোগকারিণী নিজেই আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় ঘুরে গিয়েছে মামলা। বিকাশের উকিলের কথায়, ‘‘ভিক্টিম নিজেই হাজিরা না দেওয়ায় এটাই স্পষ্ট হয় যে, কেউ ওঁর ঘাড়ে রেখে বন্দুক চালাতে চেয়েছিল।’’ এখানে সেই ‘কেউ’ বলতে অনুরাগ এবং বিক্রমই। তবে বিকাশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে নেওয়া হয়নি। শুধু মামলা করতে অস্বীকার করেছেন ওই তরুণী।

আবার ‘কিজ়ি অউর ম্যানি’ ছবি থেকে #মিটু-র অভিযোগে বাদ পড়লেন পরিচালক মুকেশ ছাবরা নিজেই। এটা ছিল তাঁর পরিচালনায় প্রথম ছবি। তার আগে কাস্টিং ডিরেক্টর হিসেবে ইন্ডাস্ট্রিতে এক নম্বরে ছিলেন মুকেশ। তখনকারই কাস্টিংয়ের একটি ঘটনায় অভিযোগের তির ঘোরে তাঁর দিকে। আবার গত মাস থেকেই ‘কিজ়ি অউর ম্যানি’র নায়ক সুশান্ত সিংহ রাজপুত তাঁকে হেনস্থা করছেন বলে অভিযোগ করেছিলেন ছবির নায়িকা সঞ্জনা সাংহি। বিষয়টি নিয়ে মুকেশের কাছে দরবারও করেছিলেন অভিনেত্রী। কিন্তু তাতে লাভ কিছু হয়নি। সব মিলিয়েই শাস্তি হিসেবে ফক্স স্টার স্টুডিয়োজ় থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, মুকেশ আর ছবিটি পরিচালনা করবেন না। কিন্তু অভিযোগ তো রয়েছে সুশান্তের দিকেও। তাতে নায়কের কী প্রতিক্রিয়া? তিনি সঞ্জনার সঙ্গে নিজের মেসেঞ্জার চ্যাটের অংশ স্ক্রিনশট করে পোস্ট করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে সঞ্জনা লিখেছেন, ‘পারফর্মিং উইথ ইউ টুডে ওয়াজ় আ ট্রিট... থ্যাঙ্ক ইউ সো মাচ!’ সুশান্তের বক্তব্য, এ রকম কথোপকথনে এক বারও অপ্রীতিকর কোনও প্রসঙ্গ ওঠেনি। তা হলে এত অভিযোগ কীসের? সঞ্জনা পাল্টা কোনও জবাব দেন কি না, সেটাই এখন দেখার।

টেলিভিশনের দুনিয়াতেও অভিনেতা অলোকনাথকে নিয়ে চর্চা লেগেই আছে। বিনীতা নন্দা এবং সন্ধ্যা মৃদুলের পরে অভিনেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলেন টেলিভিশনেরই আর এক অভিনেত্রী দীপিকা আমিন। তাঁর কথায়, "মদ খেয়ে উনি এক বার আমার ঘরে চলে এসেছিলেন। কিছু ঘটার আগেই ভাগ্যবশত এক জন অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর এসে পড়েছিলেন। ঘটনাটা ১৯৯৫ সালের। অনেক পুরুষ অভিনেতাও জানেন অলোকনাথের ঘটনাগুলো। এত দিন তাঁরা কী করে চুপ ছিলেন জানি না!"