আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসবে চাঁদের হাট

ছেলেবেলা থেকে ভারী মুশকিল মিখাইলের, পুশকিনের কবিতা তার ভাল লাগে না। কেন লাগে না, তা সে নিজেও জানে না। একবার ক্লাসে শাস্তি পেয়েছিল, পুশকিনের কবিতা শোনায় অমনোযোগী ছিল বলে। আবার উঁচু ক্লাসেও শাস্তি পেয়েছিল, পুশকিনের কবিতা মুখস্থ বলতে না পারায়। ঐতিহ্যময় রুশ সাহিত্যের এমন এক মহান কবির প্রতি মনোযোগ না দেওয়া, বা তাঁকে স্মৃতিধার্য করে না রাখা তো রীতিমতো অপরাধ! এমন এক নগণ্য নাগরিকের জীবন কমেডিতে মুড়ে তৈরি হয়েছে রুশ নাটক ‘সেভ কামেরান্কার পুশকিন’ (সঙ্গে সে নাটকেরই একটি দৃশ্য), যা শেষমেশ আচমকা ট্র্যাজিক হয়ে ওঠে। এ কাহিনির আস্তরণে বোনা থাকে গত শতকের ইতিহাসের পালাবদল, কী ভাবে সোভিয়েত ইউনিয়ন রাশিয়া হয়ে গেল, লেনিনগ্রাদ হয়ে গেল সেন্ট পিটার্সবার্গ। সমাজ আর ব্যক্তির অদলবদল হাত ধরাধরি করে চলতে থাকে। কালিন্দী ব্রাত্যজন আয়োজিত পঞ্চম আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসবে এ বার যেন চাঁদের হাট। ‘হার নেম ইজ ভেনিস ইন ডেজার্টেড ক্যালকাটা’, সত্তর দশকের মাঝামাঝি যে ছবি বানিয়ে কান ফেস্টিভ্যালে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন মার্গারিট দ্যুরাস, বাঙালি তাঁকে সবচেয়ে বেশি মনে রেখেছে ‘হিরোশিমা মাই লাভ’-এর চিত্রনাট্যকার হিসেবে। সেই মার্গারিটের লেখা নাটক, এ বারের ফরাসি প্রযোজনা ‘ওয়র: আ মেমোয়ার’ দেখার সুযোগ পাবে কলকাতা। কলকাতার দর্শককে ভিনদেশি প্রযোজনা দেখার সুযোগ আগেও করে দিয়েছে এই উৎসব। রুশ ফরাসি নাটকের পাশাপাশি আছে ব্রিটেন মিশরের নাটক, থাকছে পটনা কলকাতার নাটকও। ‘নতুন ভাবনার সব নাটক, যা দেখে তর্ক তোলা যায়। সারা পৃথিবীর থিয়েটারের একটা ঝলক এ-উৎসব। নাটকের আন্তর্জাতিক উৎসব সংগঠিত করা খুব শক্ত, লটবহর-লোকলস্কর নিয়ে কাজ, দুরূহের সাধনা প্রায়...’, বলছিলেন ব্রাত্য বসু, নাট্যগোষ্ঠীর কর্ণধার। প্রতি বারের মতো এ বারেও ‘বিষ্ণু বসু স্মারক বক্তৃতা’ দেবেন গৌতম মুখোপাধ্যায়। ৩১ মে অ্যাকাডেমিতে বিকেল ৫টায় উদ্বোধন করবেন সুগত বসু, উদ্বোধনী সঙ্গীতও গাইবেন তিনি। অতিথি হিসেবে থাকবেন সুমন মুখোপাধ্যায় ও আইসিসিআর-এর আঞ্চলিক অধিকর্তা গৌতম দে। ৫ জুন, শেষ দিন ‘ব্রাত্যজন নাট্যপত্র’ প্রকাশ করবেন দেবাশিস মজুমদার, ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা-র অধিকর্তা ওয়ামান কেন্দ্রে-র উপস্থিতিতে।

 

তথ্যচিত্র

১৯৬১-তে কলকাতায় আসা ফাদার গাস্তঁ রোবের্জ-এর। ক্যালিফর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম স্টাডিজের তরুণ ছাত্রটির সেই থেকেই নিরবচ্ছিন্ন ঠিকানা এই শহর। এখন কলকাতার সিনেমাপ্রেমী মানুষ মাত্রেই ফাদারকে চেনেন সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে সিনেমার প্রবাদপ্রতিম শিক্ষক, অভিজ্ঞ চিত্রসমালোচক ও চলচ্চিত্র-তাত্ত্বিক হিসেবে। সিনেমা-চর্চার প্রসারে শুরু করেন প্রতিষ্ঠান ‘চিত্রবাণী’, লিখেছেন চলচ্চিত্র-বিষয়ক বহু বই, ১৯৯৮-এ পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কার। মাদার টেরিজার স্নেহধন্য মানুষটি সেবাব্রতীও— এড্স সচেতনতার প্রচারক থেকে দুঃস্থের আশ্রয়। ঋদ্ধ এই জীবন নিয়েই ফিল্মস ডিভিশন-এর প্রাক্তন অধিকর্তা কে জি দাস বানিয়েছেন তথ্যচিত্র ‘মাস্টার প্রিচার অব ফিল্ম থিয়োরি’, দেখানো হবে ১ জুন সন্ধে সাড়ে ছ’টায় ম্যাক্সমুলার ভবনে। ফাদার নিজে থাকবেন, সঙ্গী বিশেষ অতিথি চিত্রসমালোচক স্বপন মল্লিক ও ছবিটির প্রযোজক, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. বাসুদেব মণ্ডল।

 

দাদা

পঙ্কজ রায় বলছেন, তিনি সর্বকালের সেরা বাঙালি ক্রিকেটার। গাওস্করের মতে, ভারতের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক। নিঃসন্দেহে অসামান্য সাফল্য, তবে শুধু যদি এটাই হত, তা হলে অবসরের পর তো সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মুছে যাওয়ার কথা। কিন্তু দক্ষ প্রশাসক, টিভি ভাষ্যকার, সি এ বি কর্তা, ‘দাদাগিরি’র ছয় নম্বর পর্বে আরও আরও জনপ্রিয়তা তাঁকে আলাদা করে দিয়েছে। অথচ চলার পথে পাথর ছিল যথেষ্টই, তবু আশ্চর্য কামব্যাক স্পিরিট বার বার তাঁকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে। গৌতম ভট্টাচার্য অসামান্য সাবলীলতায় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় থেকে হর্ষ ভোগলে, অগ্নিমিত্রা পল থেকে প্রসেনজিৎ থেকে শ্রীজাত, নানা জনের কলমে সৌরভের এই ছবিটা তুলে আনতে পেরেছেন তাঁর সম্পাদিত, সদ্যপ্রকাশিত দাদা (পার্পল মুভি টাউন) বইতে। আছে দারুণ সব ছবি। উল্লেখ্য, পার্পল মুভি টাউনের স্টুডিয়োতেই শুটিং হয় ‘দাদাগিরি’র।

 

আলপনা

আচার্য ক্ষিতিমোহন সেনের স্ত্রী কিরণবালা দেবীর হাত ধরে আলপনা আসে শান্তিনিকেতন আশ্রমের প্রতিষ্ঠাপর্বে। তবে নন্দলাল বসুর হাতেই এর প্রাণপ্রতিষ্ঠা। শুরু হল শান্তিনিকেতনী আলপনার নবযুগ। ক্রমে সুকুমারী দেবী, গৌরী ভঞ্জ, যমুনা সেন— আরও কত নাম জড়িয়ে গেল। বিশ্বভারতী শিক্ষাসত্রের শিক্ষক সুধীরঞ্জন মুখোপাধ্যায় দীর্ঘদিন বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে ব্যস্ত। যোগসূত্র রচনা করেছেন আলপনার সঙ্গে রবীন্দ্রগানের। ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে এই নিয়েই আয়োজন উত্তরপাড়ার জীবনস্মৃতি ডিজিটাল আর্কাইভে। সন্ধে ৬টায় ‘ফোকাস-এর সহযোগিতায় প্রদর্শিত হবে সুধীরঞ্জনকৃত আলপনাচিত্র। শিল্পী রবীন্দ্রগানের সঙ্গেই রচনা করবেন আলপনা, সঙ্গে ‘বাংলার আলপনা’ শীর্ষকে বলবেন সুশোভন অধিকারী। প্রদর্শনী ১২ জুন পর্যন্ত, ৬-৮ টা।

 

নয়ছয়

পাঁচ বছরের নিবিড় বন্ধন কুড়িতেও অটুট! এঁরা প্রত্যেকেই গভর্নমেন্ট আর্ট কলেজের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক। ১৯৯১-’৯৬ এক সঙ্গে হইহই করে শিল্পশিক্ষা করেছেন। তাই প্রদর্শনীর নাম ‘আমরা নয়ছয়’ (উই আর ফ্রম ১৯৯৬)। কেউ আজ শিল্পী, কেউ শিল্প-ব্যবসায়ী, কেউ চাকুরে, কেউ বা আর্ট কলেজেই শিক্ষক। তাঁদের ৩৪ জন শিল্পীর কাজ নিয়ে এক প্রদর্শনী অ্যাকাডেমিতে, চলবে ৩ জুন (৩-৮টা) পর্যন্ত। শিল্পীদের মতে, ‘এটাকে বলা যেতে পারে গেট-টুগেদার এগজিবিশন!’ সঙ্গের ছবির শিল্পী অপূর্ব বিশ্বাস।

 

সত্যের মুখোমুখি

রবীন্দ্রনাথের শেষ দশ বছর... এই পর্বে ইউরোপে তাঁর ছবি সম্পর্কে মানুষ কি অনাগ্রহী, শীতল? তা নিয়ে কবি কি ক্লিষ্ট? কী ভাবেই বা এই ‘ডার্কনেস’ কাটিয়ে উঠেছিলেন? এটাই বিষয় প্রবীণ গবেষক-পরিচালক শঙ্কর মজুমদারের ‘ট্রিস্ট উইথ ট্রুথ’ ছবিটিতে। পঞ্চান্ন মিনিটের ছবিটি কবির সার্ধশতজন্মবর্ষে লন্ডনে দেখানোর পর এ বার কলকাতায় ৩১ মে বিড়লা অ্যাকাডেমিতে সন্ধে সাড়ে ৬টায় দেখানো হবে। পরিচালকের কথায়, ‘কবি বারে বারে সত্যের মুখোমুখি হয়েছেন, ওই টালমাটাল সময়েও তিন হাজার ছবি এঁকেছিলেন, কাজ কিন্তু থেমে থাকেনি। কবি ওই সময় লন্ডনের যে যে বাড়িতে ছিলেন, তার বৃত্তান্তও তুলে ধরেছি।’ অন্য দিকে, সমাজের বিভিন্ন স্তরের জীবনযাত্রার প্রতিচ্ছবি নিয়ে ফিল্মস ডিভিশন, অ্যাডোবি প্রজেক্ট ১৩২৪ ও সল্ট লেক সিটি প্রয়াসম ‘ব্যাড অ্যান্ড বিউটিফুল ওয়ার্ল্ড’ (তৃতীয়) শীর্ষক এক চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন করেছে এস আর এফ টি আই-তে, ৪ জুন ৩টে থেকে সাড়ে ৫টায়। আর আছে ফিল্মস ডিভিশনের আইজল শাখার ২০ মিনিটের একগুচ্ছ ছবি। ছবিগুলিতে লিঙ্গ-বৈষম্য, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, রাগ, প্রতিহিংসা, সন্দেহ এমন নানা বিষয় নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গিতে উপস্থাপিত করেছেন প্রয়াসমের তরুণ পরিচালকরা। প্রয়াসমের গত বছরের বেশ কিছু ছবি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে দেখানো হয়েছে।

 

সংলাপ অবিরত

জোড়াসাঁকোর বাড়িতে লেখা ছেড়ে এসে রবীন্দ্রনাথ পাঁচালি পড়া শুনছেন, বা আঁকা ছেড়ে গগন অবন নাটকে মেতেছেন, কিংবা যামিনী রায়ের ছবিকে নিবিড় ভাবে ঘিরে ধরেছেন বিষ্ণু দে, সুধীন দত্তরা। কী ভাবেই বা গণেশ পাইনের ছবির প্রথম আলোকদীপ্ত সমালোচনা লিখছেন শক্তি চট্টোপাধ্যায়— সংস্কৃতির এ ঘর ও ঘর চলাফেরা এমনই সাবলীল করতে সঞ্জয় ঘোষের সম্পাদনায় ৪ জুন অবনীন্দ্র সভাগৃহে সন্ধে সাড়ে ৬টায় অন্তর্জাল পত্রিকা সংলাপ অবিরত পথ চলা শুরু করবে। ওয়েবসাইট: www.sanglapabiroto.com। উদ্বোধনে বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত।

 

স্মারক বক্তৃতা

পিতৃব্য ক্ষিতিমোহন সেনের সাহসে ভর করে গানের টানে ’৪৭-এ শান্তিনিকেতনে। সংগীতশিক্ষা শৈলজারঞ্জন, ইন্দিরা দেবী, শান্তিদেব ঘোষ প্রমুখের কাছে। সাহচর্য পেলেন সহপাঠী অশোকতরু, অরবিন্দ বিশ্বাসদের। ইন্দিরা দেবী যেমন চেয়েছিলেন, রবীন্দ্রগানের প্রচার ও প্রসারের দায়িত্বই জীবনভর পালন করেছেন রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী-শিক্ষক প্রসাদ সেন। গানকে পাথেয় করে পথ চলা শুরু ১৯৫১ থেকে। বছর দেড়েক আগে প্রয়াণ। শিল্পীর হাতে গড়া সংস্থা ‘সোহিনী’র আয়োজনে তাঁর পঁচাশিতম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রিজেন্ট এস্টেটে অঙ্কুর প্রতিষ্ঠানের সভাগৃহে ৫ জুন সন্ধে ৬টায় প্রথম প্রসাদ সেন স্মারক বক্তৃতা: ‘এখন রবীন্দ্রনাথের গান’, বলবেন স্বপন সোম। গাইবেন উৎসব দাস, শতভিষা ঘোষ ও নীলাঞ্জনা ঘোষ।

 

ষড়ভুজের নাটক

তিরিশ বছর ধরে ষড়ভুজ নিবিড় নাট্যচর্চায় মগ্ন। এর একটা বড় অংশ জুড়ে আছে বাংলার নানা লোকনাট্যের আঙ্গিককে আধুনিক নাট্যের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা। স্বীকৃতি মিলেছে দেশবিদেশে। এ বার তারাই তিরিশ বছরের জন্মদিন উপলক্ষে ৩১ মে সন্ধ্যায় মিনার্ভা থিয়েটারে প্রযোজনা করছে মনোজ মিত্রের নাটক ‘ভেলায় ভাসা সীতা’। রামায়ণের চেনা আখ্যান থেকে নাট্যকার যেমন স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে বার করে এনেছেন এই সময়ের নির্যাস, নাটকটিতে তেমনই ব্যবহার করা হয়েছে লোকনাট্যের বিভিন্ন উপাদান। নির্দেশনায় তরুণ প্রধান।

 

মহাবোধি ১২৫

অনাগারিক ধর্মপাল ১৮৯১ সালের ৩১ মে কলম্বো শহরে ‘মহাবোধি সোসাইটি অব শ্রীলঙ্কা’ প্রতিষ্ঠা করেন। সেই বছরেই তৈরি হল কলকাতা শাখা (সঙ্গের ছবিতে এই ধর্মরাজিক চৈত্যের বুদ্ধমূর্তি)। প্রথম সভাপতি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় এবং সাধারণ সম্পাদক অনাগারিক ধর্মপাল। পরে বঙ্কিম চ্যাটার্জি স্ট্রিটে চৈত্যের অনুকরণে বাড়ির নকশা তৈরি করেন মনোমোহন গঙ্গোপাধ্যায়। এখান থেকেই ১৮৯৩ সালে অনাগারিক ধর্মপাল শিকাগো ধর্মমহাসভায় গিয়েছিলেন স্বামী বিবেকানন্দের সঙ্গে। আছে প্রকাশনা, পত্রিকাও। গত শনিবার মহাবোধি সোসাইটির কলকাতা কেন্দ্রে পালিত হল গৌতম বুদ্ধের ২৫৬০তম জন্মজয়ন্তী। এ বছর এদের ১২৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে। এই উপলক্ষে ৩১ মে সকাল দশটায় শুরু হবে অনুষ্ঠান, থাকবেন চিত্ততোষ মুখোপাধ্যায়, সুনীতিকুমার পাঠক প্রমুখ। সন্ধ্যায় মহুয়া রায়চৌধুরীর নির্দেশনায় নৃত্যালেখ্য ‘বুদ্ধচরিত’। ১ জুন থাকছে জাতীয় স্তরের আলোচনাচক্র।

 

কলকাতা কথকতা

১৯১০ সালে শ্রীঅরবিন্দ কলকাতা ছেড়ে চলে যান। এ শহরে তাঁর জন্মস্থান বর্তমানে থিয়েটার রোডের শ্রীঅরবিন্দ ভবন। পুরনো কলকাতাকে ফিরে দেখার এক অভিনব প্রয়াসে সেখানেই একত্র হচ্ছেন সংগ্রাহকরা। আলিপুর জাজেস কোর্ট থেকে আসছে বোমার মামলার নথি (সঙ্গের ছবিতে মুরারিপুকুর বাগানবাড়ি), ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল থেকে পুরনো ছবি, আর ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে এনামেল বোর্ডে বিজ্ঞাপন, দেশলাই বাক্স, পিকচার পোস্টকার্ড, পতাকা, পুরনো ক্যামেরা, পোর্সিলেন, স্ট্যাম্প, দলিলপত্র, মুদ্রা, বই, রেকর্ড, যানবাহনের টুকিটাকি, কত কী। সহযোগিতায় ‘কিঞ্জল’ পত্রিকা। শ্রীঅরবিন্দ ভবনে ৪ জুন ৫টায় ‘কলকাতা কথকতা’ উদ্বোধন করবেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, প্রদর্শনী ৬-৮ জুন, রোজ ৪-৮টা। প্রকাশিত হবে চন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের বই কলকাতা ত্রিপদী।   

 

নৃত্য

ওড়িশি শাস্ত্রীয় নৃত্যের প্রথম আভাস ভুবনেশ্বরের উদয়গিরি, খণ্ডগিরির শিলালিপিতে। সমাজ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পোশাক, নৃত্যশৈলী, যন্ত্রানুষঙ্গেরও পরিবর্তন এসেছে। শিল্পী দেবমিত্রা সেনগুপ্তের এই বিষয়-ভাবনা থেকেই ‘তরঙ্গিণী’ শীর্ষক ওড়িশি নৃত্যানুষ্ঠান, ৪ জুন রবীন্দ্রসদনে সন্ধে সাড়ে ৬টায়। পরিবেশনায় দেবমিত্রা ও তাঁর ‘কলকাতা ময়ূরললিত ডান্স অ্যাকাডেমি’র ছাত্রছাত্রীরা। সংগীতে পণ্ডিত ভুবনেশ্বর মিশ্র, পণ্ডিত রঘুনাথ পাণিগ্রাহী, গুরু কেলুচরণ মহাপাত্র প্রমুখ, ভাষ্যপাঠে বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়। অন্য দিকে গ্লোবাল ওয়ার্মিং-কে না-বাড়তে দেওয়ার অঙ্গীকারের ধ্বনি উঠেছে ডিসেম্বরে প্যারিসে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনেও। আর এই ভাবনা থেকেই স্যাফায়ার ডান্স অ্যাকাডেমি অ্যান্ড স্যাফায়ার ক্রিয়েশনস ডান্স কোম্পানির আয়োজনে ৪ জুন সন্ধে ৭টায় কলামন্দির-এ নৃত্যানুষ্ঠান ‘ইকোনামা’। পরিবেশনায় স্যাফায়ার এবং পুরুলিয়ার ছৌ নৃত্যশিল্পীরা। অনুষ্ঠানটিতে অতিথি কোরিয়োগ্রাফার তুরস্কের সেলসুক গোলডার, সংগীতে সিঙ্গাপুরের ফিলিপ টান এবং কানাডার বঙ্গসন্তান দেবাশিস সিংহ। বিষয়-ভাবনা স্যাফায়ার-এর পরিচালক সুদর্শন চক্রবর্তীর।

 

স্মরণ

সাধন চক্রবর্তী কলেজজীবন থেকেই চলচ্চিত্র আন্দোলনে যুক্ত, প্রোজেক্টর কাঁধে ঘুরে বেড়িয়েছেন গ্রামগঞ্জে। সিনে সেন্ট্রাল-এর তিনি ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা ও কার্যকরী সমিতির সদস্য। অলক চন্দ্র চন্দ্রের মৃত্যুর পর এল সম্পাদকের দায়িত্ব, পরে হন সহ-সভাপতি। ২০০৯ সালে বেঙ্গালুরুর ‘সুচিত্রা ফিল্ম সোসাইটি’ তাঁকে জীবনকৃতি সম্মান দেয়। হঠাৎই প্রয়াত মানুষটির স্মরণে সভা ৩১ মে বিকেল ৫টায় নন্দন-এ।

 

আগশুদ্ধি

আশির দশক, পুরুলিয়ার এক গ্রামে ডাইনি সন্দেহে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় পৌঁছে গিয়েছিলেন সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়। ‘গ্রামটি প্রত্যন্ত ছিল না, তবু পুলিশ তার হদিশ করতে পারেনি। দেখেছিলাম ছাইয়ের গাদা ভেদ করে তখনও দাঁড়িয়ে আছে অঙ্গারিত শাল-খুঁটি যার সঙ্গে বেঁধে পোড়ানো হয়েছিল মানুষগুলিকে।’ দগদগে সে স্মৃতি থেকেই সুদীপ্ত লেখেন রমাপ্রসাদ বণিকের চেনামুখ-এর জন্য ‘আগশুদ্ধি’, অবলম্বন আর্থার মিলারের ‘দ্য ক্রুসিবল’, এক কুখ্যাত ডাইনি হত্যা মামলাকে ভিত্তি করে পঞ্চাশের দশকে লেখা। ‘ক্ষমতার মুখোমুখি সোজা মেরুদণ্ডকে যে আগুনে পোড়ানো যায় না, তাই লিখেছিলেন মিলার’, বলছিলেন সুদীপ্ত। সে সত্যের পুনরুদ্ধারেই এত বছর পর তাঁর নির্দেশনায় ফের ‘আগশুদ্ধি’, স্পেক্টঅ্যাক্টর্স-এর নতুন প্রযোজনা। ৫ জুন সন্ধে সাড়ে ৬টায় জ্ঞান মঞ্চে প্রথম অভিনয়। নাট্যকার, পরিচালক, অভিনেতা, গায়ক, নাট্যতাত্ত্বিক সুদীপ্ত দীর্ঘ বিদেশবাসের পর এখানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন দ্য সোশাল সায়েন্সেস-এর কালচারাল স্টাডিজ-এর শিক্ষক। লালনকে নিয়ে তাঁর রচনা ও একক অভিনয়ে সুমন মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ‘ম্যান অব দ্য হার্ট’ দেশে-বিদেশে মঞ্চায়ন হয়ে চলেছে দশ বছরের ওপর। কৈশোরের নাট্যগুরু অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়, এ ছাড়াও শিক্ষক হিসেবে পেয়েছেন রমাপ্রসাদ বণিক ও রিচার্ড শেখনারকে। সিনেমায় ‘আমার নতুন গুরুপ্রাপ্তি— বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত’, বললেন সুদীপ্ত। শিগ্‌গিরই বুদ্ধদেবের নতুন ছবি ‘টোপ’-এ মুখ্য চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে।

 

প্রবাদপ্রতিম

সংস্কৃতে সুপণ্ডিত, দর্শনে প্রবাদপ্রতিম। বিমলকৃষ্ণ মতিলাল সম্পর্কে এই কথাগুলি যেমন অত্যুক্তি নয়, তেমনই যথেষ্টও নয়। ভারতীয় ও প্রাচ্য দর্শনের ধারাটিকে তিনি আক্ষরিক অর্থে প্রোথিত করেছিলেন পাশ্চাত্য তথা পৃথিবীর দর্শন-ভূমিতে। কলকাতার সংস্কৃত কলেজের বিদগ্ধ পণ্ডিতদের ছাত্র তিনি, সেখানেই পড়িয়েছেন ১৯৫৭-’৬২। ফুলব্রাইট বৃত্তি নিয়ে ‘নব্যন্যায়’ দর্শনে পিএইচ ডি হার্ভার্ড থেকে, সংস্কৃত পড়ান টরন্টো-য়। ১৯৭৭-এ অক্সফোর্ড তাঁকে সম্মানিত করে ‘স্পল্ডিং প্রফেসর অব ইস্টার্ন রিলিজিয়ন্স অ্যান্ড এথিক্স’ হিসেবে। ১৯৯১-এর ৮ জুন অকালপ্রয়াণের আগে অবধি ছিলেন এই পদে। অমর্ত্য সেন, গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক-এর সঙ্গে ছিল সহৃদয় বন্ধুতা। গায়ত্রীর সঙ্গে রামায়ণ-মহাভারত বিষয়ে একটি বইয়ের কাজ করছিলেন, বিমলকৃষ্ণ চিরায়ত আঙ্গিকটি থেকে, গায়ত্রী বিনির্মাণ-তত্ত্বের আলোকে। অসমাপ্তই থেকে গিয়েছে সেই কাজ। রবীন্দ্রজন্মশতবর্ষে ধ্যানেশনারায়ণ চক্রবর্তী সংস্কৃতে অনুবাদ করেন ‘ডাকঘর’, আর বিমলকৃষ্ণ অনুবাদ করেন ‘কালের যাত্রা’— ‘রথরজ্জু’ নামে, যার অভিনয়ও হয়েছিল কলকাতায়। তাঁর মৃত্যুর পঁচিশ বছর পূর্ণ হচ্ছে, সেই উপলক্ষে রামকৃষ্ণ মিশন ইন্সটিটিউট অব কালচারের বিবেকানন্দ হল-এ ১ জুন দুপুর তিনটেয় পরিবারের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হবে বিমলকৃষ্ণ মতিলাল স্মারক আলোচনা। গায়ত্রী বলবেন ‘ক্ষণিক, ভাস্বর সেই সময়’ নিয়ে। সংস্কৃত কলেজে বিমলকৃষ্ণের ছাত্র প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়ও বলবেন। সভামুখ্য প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অমিতা চট্টোপাধ্যায়, থাকবেন ইন্সটিটিউট অব কালচারের সম্পাদক স্বামী সুপর্ণানন্দ। বিমলকৃষ্ণ স্মরণে ১৯৯২-এ অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় একটি অনুষ্ঠানপুস্তিকা প্রকাশ করেছিলেন, সে দিন নবরূপে পুনঃপ্রকাশিত হওয়ার কথা সেটিরও।

 

কাত্‌রিনের ছবিতে অন্য সৌমিত্রের আখ্যান

নিরহঙ্কার সুন্দরী ফরাসিনিকে দেখে বোঝার উপায় নেই, তিনি বিশ্ববিখ্যাত প্যারিস-নাঁতের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টরেট ও কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব জার্নালিজ্‌ম অ্যান্ড রিপোর্টিং-এর ডিগ্রিধারী। আমেরিকার প্রবাদপ্রতিম চলচ্চিত্রকার কিং ভিদর-কে নিয়ে কৃতী গবেষক কাত্‌রিন বের্জ খাঁটি প্যারিসীয়, চমৎকার ইংরেজি বলেন। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের ওপর তথ্যচিত্র-নির্মাতা হিসেবে সুপরিচিত কাত্‌রিন সদ্য ঘুরে গেলেন কলকাতায়। ইস্মায়েল মার্চেন্ট আর জেমস আইভরি প্রযোজিত সৌমিত্র-জীবনের সেই ব্যতিক্রমী পুনর্নির্মাণ ‘গাছ’ মুক্তি পায় ১৯৯৮-এ। ছবি শুরু হয়েছিল ‘অপুর সংসার’-এ অপু-অপর্ণা যে বাড়িতে ঘর বেঁধেছিল সেই বাড়িতে প্রবীণ সৌমিত্র ও শর্মিলা ঠাকুরের ফিরে আসা দিয়ে। সত্যজিৎ রায়ের ছবির কুশীলবরা অনেকেই ছিলেন সেই তথ্যচিত্রে। অমিতাভ নাগকে (সঙ্গে সাম্প্রতিক শুটিংয়ের ছবিটি তাঁরই তোলা) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাত্‌রিন জানিয়েছেন ‘রে ওয়াজ আ জিনিয়াস— হি নিউ হাউ টু ডু এভরিথিং একসেপ্ট অ্যাক্ট, সো সৌমিত্র বিকেম রে’জ ভয়েস।’ কাত্‌রিন এ বার এসেছিলেন বৃহত্তর বাংলা থিয়েটারের পরিপ্রেক্ষিতে সৌমিত্রের নাটক নিয়ে ছবি করতে। ঠিক কুড়ি বছর আগে যখন কলকাতায় আসেন, সৌমিত্রর আমন্ত্রণে সোজা চলে যান তাঁর থিয়েটার দেখতে। তখনকার ‘টিকটিকি’ থেকে হালফিল ‘রাজা লিয়ার’— সবই তাঁর দেখা। লন্ডনে ‘দ্য মার্চেন্ট অব ভেনিস’-এ শাইলক-এর চরিত্রে লরেন্স অলিভিয়ের-এর অভিনয় দেখতে গিয়ে যে ভাবে দমবন্ধ হয়ে আসে দর্শকের, এখানেও সৌমিত্রর ‘লিয়ার’ দেখতে দেখতে ঠিক সেটাই ঘটে, মনে হয়েছে কাত্‌রিন-এর। তাঁর এই নতুন প্রকল্পে সুচিন্তিত পরামর্শ পেয়েছেন তাঁর দীর্ঘকালের বন্ধু, ফরাসিবিদ্ চিন্ময় গুহের। আর কিমাশ্চর্যম! ক্যামেরার সামনে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় নিজের নাট্যভাবনাকে উন্মোচিত করলেন পাপড়ির মতো। নাট্যাচার্য শিশিরকুমারের কাছে তরুণ বয়সে সপ্তাহে দু’দিন যাওয়া, তাঁর জন্য নানান লাইব্রেরি থেকে বই নিয়ে আসা (শেষ বইটি ছিল ই কে চেম্বার্সের লেখা দি এলিজাবেথান স্টেজ),তাঁর কাছে অভিনয় শেখা, তাঁর মুখের অতুলনীয় অভিব্যক্তিময়তা থেকে গিরিশচন্দ্র, দানীবাবু, অর্ধেন্দুশেখর, শম্ভু মিত্র কিছুই বাদ দিলেন না তিনি। বললেন মায়ের বানানো রাংতার মুকুট আর তাঁর শাড়ি দিয়ে উইংস বানিয়ে শিশুকালে অভিনয়ের কথা। রবীন্দ্রনাথের ‘মুকুট’ অভিনয় করতে গিয়ে বালক সৌমিত্রের মনে জ্বলে উঠল আলো। আজ পর্যন্ত ২৯টি নাটক লিখেছেন, এখন ইচ্ছে মলিয়ের মঞ্চস্থ করার। অমন নির্ভেজাল কমেডি তো কেউ লেখেননি! কাত্‌রিন-এর ছবিতে জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামেরায় ধরা রইল সেই অন্য সৌমিত্রের, হয়তো আসল সৌমিত্রের আখ্যান।