অফিস থেকে বাড়ি ফিরে গা এলিয়ে দিলেন সোফায়। হাতে এক পেয়ালা চা বা ঠান্ডা পানীয়ের গ্লাস। শেষ করে কোথায় রাখবেন? সেন্টার টেবল বা কফি টেবল তো চাই। আর তার সঙ্গে চাই একটু নতুনের স্পর্শ। আর পাঁচটা বাড়ির চেয়ে ঠিক কী ভাবে নিজের বৈঠকখানার সেন্টার টেবলকে আক্ষরিক অর্থেই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু করে তোলা যায়, সেটাই দেখা যাক।

গাছের গুঁড়ি: মোটা কাঠের লগ কিনে, তা কেটে বিভিন্ন আকার দিয়ে ব্যবহার করতে পারেন টেবল হিসেবে। অথবা গাছের গুঁড়ির মতো দেখতে অন্য মেটিরিয়ালের সেন্টার টেবলও বানিয়ে নিতে পারেন।

চাকা লাগানো টেবল: এই ধরনের টেবল এখন অনেক দোকানেই পাওয়া যায়। ঘরের জায়গা খালি করতে বা স্থান বদল করতে খুব সহজেই এই চাকা লাগানো টেবল ঠেলে সরানো যায়।

অ্যাকোয়ারিয়াম: মাছের শখ থাকলে অ্যাকোয়ারিয়াম রাখুন ঘরের মাঝে। তার উপরে কাচের ঢাকা দিয়ে তা ব্যবহার করতে পারেন সেন্টার টেবল হিসেবে। বেশ অভিনব দেখাবে। আর জায়গাও বাঁচবে। একই জিনিসে শখও মিটবে, কাজও হবে।

লেয়ারড টেবল: তিন-চারটি স্তরে বিভক্ত থাকে এই ধরনের টেবল। ফলে প্রত্যেকটা স্তরকে জিনিস রাখার জন্য তাকের মতো ব্যবহার করা যায়। 

স্টোরেজ টেবল: এই ধরনের টেবলের নীচের দিকে শেল্‌ফের মতো ভাগ থাকে। ফলে বই থেকে শুরু করে সাজানোর জিনিস রাখার জন্যও ব্যবহার করা হয়ে থাকে স্টোরেজ টেবল।

ট্রাঙ্ক: বাড়িতে পুরনো দিনের ট্রাঙ্ক আছে। যা হয়তো ধুলো মেখে শুয়ে আছে খাটের তলায়। সেটাকে বার করে এনে ঘরের সঙ্গে মানানসই ধাতব রং মাখিয়ে সাজিয়ে ফেলতে পারেন বসার ঘর। তবে এ ক্ষেত্রে বেশ উজ্জ্বল রং বেছে নেওয়াই ভাল।

বইয়ের স্তূপ: যেখানে টেবল নেই, সেখানেও নিমেষে বানিয়ে নেওয়া যায় এই ধরনের সেন্টার টেবল। তার জন্য চাই মোটা মোটা বাঁধানো একগুচ্ছ বই। বইগুলি পাশাপাশি ও উপর-নীচে সাজিয়ে ফেলুন। তার পরে উপরে কোনও বড় কাচ বা পিচবোর্ড রেখে সেন্টার টেবলের মতোই ব্যবহার করতে পারেন।

কেনার আগে মনে রাখবেন

 সেন্টার টেবলের আকার ঘরের অন্য আসবাবের তুলনায় দুই-তৃতীয়াংশ হতে হবে।

 সোফায় বসার জায়গার সমান বা কম উচ্চতার হতে হবে কফি টেবল। 

 অন্যান্য আসবাবের সঙ্গে কমপক্ষে দেড় ফুটের ব্যবধান থাকবে সেন্টার টেবলের।

বড় আয়তাকার বা এল-শেপড সোফা সেটের সঙ্গে আয়তাকার টেবল মানাবে ভাল। অন্য দিকে চৌকো সোফা সেট বা গোলাকার সোফা সেটের সঙ্গে গোল বা চৌকো কিংবা অন্য জ্যামিতিক আকারের সেন্টার টেবল কিনতে পারেন।

সেন্টার টেবল কী কাজের জন্য ব্যবহার করবেন, সেটা আগে ভেবে নিন। যেমন বই রাখতে স্টোরেজ সমেত টেবল কিনতে পারেন। অন্য দিকে ঘর সাজানোই যদি উদ্দেশ্য হয়, পুরো কাচ দিয়ে ঘেরা টেবল কিনুন। ছোট ছোট শো পিস, কোস্টার দিয়েও সাজাতে পারবেন।

কী দিয়ে এই টেবল তৈরি, সেটা প্রথমেই দেখে নিন। ধাতু, কাঠ বা কাচের যে রকম টেবল কিনবেন, তা পরিষ্কার রাখবেন কী ভাবে, তা জেনে নিন। কাঠের টেবলে সূক্ষ্ম কারুকাজ থাকলে নিয়মিত মুছবেন। এক বার সেখানে ধুলো জমলে, তা পরিষ্কার করা মুশকিল।

খেয়াল রাখবেন, সেন্টার টেবলের উপরে একগাদা জিনিস জমিয়ে রাখাটা দৃষ্টিকটু। সেন্টার টেবল কাচের হলে খুব বেশি ভারী জিনিস রাখলে তা ভেঙেও যেতে পারে। বসার ঘরের আসবাবে ধুলো জমলে কিন্তু একটুও ভাল লাগবে না।