• চিত্রিতা চক্রবর্তী
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

ডোভার লেন সঙ্গীত সম্মেলন ২০১৯

বৈচিত্র এবং স্বাতন্ত্র্যের সন্ধানে

Shaheen Parvez
শাহিদ পারভেজ

অনুষ্ঠানসূচিতে ‘তারকা’ শিল্পীর সংখ্যা অন্য বারের তুলনায় একটু কমই ছিল। পরিবর্তে অনেক নবীন শিল্পী সঙ্গীত পরিবেশনার সুযোগ পেয়েছেন। চার রাত্রিব্যাপী এই সঙ্গীতানুষ্ঠানে নতুনদের ঘিরে প্রত্যাশা ছিল অনেক। উলটো দিকে প্রথিতযশা শিল্পীদের ভিড়ে নিজেদের স্বাতন্ত্র্যকে চিনিয়ে দেওয়ার ঝুঁকিও কম ছিল না। অন্য রকম এক অভিজ্ঞতার সাক্ষী রইল এ বছরের ডোভার লেন সঙ্গীত সম্মেলন।

এ বছরের ‘সঙ্গীত সম্মান পুরস্কার’-এ ভূষিত হলেন শিল্পী হৈমন্তী শুক্ল। প্রথমেই শোনালেন পুরিয়া কল্যাণ রাগে তিনতালের একটি বন্দিশ। পুরিয়া কল্যাণ রাগটি অত্যন্ত শ্রুতিমধুর এবং তার চলনপথও ব্যাপ্ত। সামান্য সুরবিস্তারের পরেই বন্দিশ শুরু করলেন শিল্পী। তাঁর পরবর্তী পরিবেশনা ছিল একটি স্বল্পশ্রুত মিশ্র রাগ হরিকোশ। কিন্তু রাগের চলনটি ঠিক বোধগম্য হল না এই সংক্ষিপ্ত পরিবেশনায়। শ্যামকল্যাণ রাগের একতালের বন্দিশ ‘সোতন ঘর না যা রে বালমা’ ছিল উপভোগ্য। তবে অতি দ্রুততায় তিনি পরিবেশনা সমাপ্ত করেছেন। এ ছাড়াও শিল্পী শোনালেন ঠুমরি, ভজন এবং বাংলা বন্দিশ। বাংলা বন্দিশটি ছিল আলি আকবর খানের কম্পোজ়িশন। ছোট ছোট ভাগে পরিবেশনাকে সাজানোর ফলে তাঁর পরিবেশনা অনেক বেশি বৈচিত্রমণ্ডিত হয়েছিল ঠিকই, তবে উপস্থাপনা আরও একটু প্রলম্বিত হলে মার্গ সঙ্গীতের যথার্থ রসাস্বাদন করার সুযোগ হত।

মাইসোর মঞ্জুনাথ এবং মাইসোর নাগরাজ

উমাকান্ত এবং রমাকান্ত গুন্ডেচার (গুন্ডেচা ব্রাদার্স) যৌথ ধ্রুপদ গায়ন মন্দ লাগেনি। বাগেশ্রী রাগে সুরফাঁকতালে নিবদ্ধ একটি ধ্রুপদ পরিবেশন করলেন তাঁরা। শুরুর নোমতোম আলাপটি বেশ ভাল লাগছিল। তবে কিছু জায়গায় একটু খাপছাড়া মনে হয়েছে। আড়ানা রাগে শিবস্তুতিটিও খুবই গতিময় এবং প্রাণবন্ত ছিল। শেষ পরিবেশনা শঙ্করা রাগে সৃজিত ভজনটিও ভাল গেয়েছেন গুন্ডেচা ভ্রাতৃদ্বয়।

তাঁর কণ্ঠ এবং পরিবেশনকৌশল উভয়ই খুব উপভোগ্য। তাই শিল্পী অশ্বিনী ভিড়ে-র কাছে শ্রোতাদের প্রত্যাশা একটু বেশিই থাকে। এ বারও তিনি সুষমামণ্ডিত একটি পরিবেশনা শ্রোতাদের উপহার দিলেন। বিভাস রাগে একতালে নিবদ্ধ বিলম্বিত এবং দ্রুত বন্দিশ দু’টি খুবই যত্নের সঙ্গে গেয়েছেন। সাবলীল স্বরবিস্তার, সপাট তান, ছুটতানের সমন্বয়ে তাঁর পরিবেশনা হয়ে উঠেছিল উপভোগ্য। বিভাসের পরে শোনালেন হিন্দোল-পঞ্চম রাগে আল্লাদিয়া খান সাহেবের একটি কম্পোজ়িশন। বেশ অন্য রকম ছিল এই পরিবেশনা। হিন্দোল রাগের তারানাটি আরও একটু গতিময় হলে ভাল লাগত। পরিশেষে শোনালেন কবীরের একটি ভজন।

বর্তমান সময়ের এক জন সম্ভাবনাময় শিল্পী ওমকার দাদরকর। বয়সে নবীন হলেও এই শিল্পীর উপস্থাপনায় পরিণতমনস্কতার ছোঁয়া থাকে। তিনি শোনালেন হাম্বীর রাগ। রাগ-প্রবেশক সুরবিস্তারটি বেশ সুবিন্যস্ত ছিল। বিলম্বিত বন্দিশটি শ্রুতিনন্দন হয়ে উঠেছিল ওমকার দাদরকরের গায়কির স্পর্শে। দ্রুত তিনতালের বন্দিশটি খুব উপভোগ করেছেন শ্রোতারা। তবলার বর্ধিত গতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বন্দিশের গতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার কাজটি সুনিপুণ কৌশলে করেছেন শিল্পী। তাঁর পরবর্তী পরিবেশনা ছিল রাগ বসন্ত। এই রাগটি তেমন দাগ কাটল না। তারসপ্তকের বিস্তারেই বসন্তের সৌন্দর্য। কিন্তু তারসপ্তকে বেশ কয়েক বার সুর থেকে বিচ্যুত হয়েছেন শিল্পী। চড়ার দিকে গলা মাঝেমাঝেই ভেঙেছে। স্কেল নির্বাচনে সচেতন হলে হয়তো এই সমস্যা হত না। 

শুরুটা বেশ প্রত্যয়ী ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরিবেশনার সেই মান ধরে রাখতে পারলেন না কলাপিনী কোমকলি। তাঁর কণ্ঠস্বর বেশ দাপুটে। উপরন্তু বিশিষ্ট শাস্ত্রীয় সঙ্গীতজ্ঞ কুমার গন্ধর্ব তাঁর পিতা। ফলে শ্রোতারাও অধিক প্রত্যাশায় বুক বেঁধেছিলেন। নন্দ রাগের সুরবিস্তারেই শিল্পীর বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বরের ঝলক পাওয়া গেল। শোনালেন বিলম্বিত এবং দ্রুত বন্দিশ। চমৎকার বিস্তার করলেন শিল্পী। কিন্তু তানকারিতে মন ভরল না। ধীর লয়ের বিস্তারে তিনি যতটা সাবলীল, দ্রুত লয়ের তানকারিতে ততটাই অস্বচ্ছন্দ। তানকারিতে বেশ অস্পষ্টতাও ছিল। গতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তানবিস্তারকে পরিপূর্ণতা দিতে পারেননি তিনি। তবে বেশ কিছু অন্য রকম রাগ তিনি শুনিয়েছেন, যা এই মরসুমে এক প্রকার বিরলই ছিল বলা যায়। বেশির ভাগ শিল্পী খুব পরিচিত কিছু রাগের মধ্যেই ঘোরাফেরা করেছেন। সিন্ধুরা, সোহিনী-ভাটিয়ার রাগে বন্দিশ শোনালেন শিল্পী। পিতার কাছে শেখা একটি ব্যতিক্রমী তারানাও পরিবেশন করলেন তিনি। তাঁর শেষ পরিবেশনা ছিল দু’টি ভজন।

রাজন মিশ্র এবং সাজন মিশ্র শোনালেন ভৈরবী রাগে বিলম্বিত এবং দ্রুত বন্দিশ। তাঁদের পরিবেশনা ছিল মোটের উপরে চলনসই। বয়সের ভারে তাঁদের কণ্ঠস্বরে বেশ জড়তা ছিল। সুরবিস্তার কিংবা তানকারিতে সেই জড়তা ফুটে উঠছিল। পরিবেশনাটি পরিপূর্ণতা লাভ করেনি।

সঞ্জীব অভয়ঙ্কর

গায়নে মন ভরিয়ে দিয়েছেন সঞ্জীব অভয়ঙ্কর। ডোভার লেনের সেরা মুহূর্তটি উপহার দিয়েছেন তিনি। বাগেশ্রী রাগে বিলম্বিত এবং দ্রুত বন্দিশ শোনালেন শিল্পী। যদিও এ বার অনেকের পরিবেশনাতেই ছিল এই রাগটি। তবে সঞ্জীবের উপস্থাপনা রাগটিকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। বিস্তার, অলঙ্কার, তানকারি— প্রতিটি ক্ষেত্রেই কুশলতার পরিচয় রেখেছেন তিনি। উন্মুক্ত কণ্ঠের তানকারি খুবই ভাল লেগেছে। ধীর গতি হোক কিংবা দ্রত, যে কোনও লয়েই তিনি সমান স্বচ্ছন্দ। খুবই বৈচিত্রমণ্ডিত ছিল তাঁর উপস্থাপনা। পরবর্তী নিবেদন ছিল মধুকোশ রাগ। রূপক ও তিনতালের বন্দিশ দু’টি খুব উপভোগ্য ছিল।

বর্ষীয়ান শিল্পী উল্লাস কাশলকর শোনালেন ললিত রাগে বিলম্বিত এবং মধ্যলয়ের দু’টি বন্দিশ। বন্দিশ দু’টি তিনতালে নিবদ্ধ। এখনও বেশ দৃপ্ত তাঁর গায়নভঙ্গি। ভোরের প্রাক্‌-মুহূর্তে ললিত রাগের পরিবেশনা বেশ ভাল লেগেছে। বিস্তার, তানকারিতে সুকৌশলী এক জন শিল্পীর ঝলক পাওয়া গেল। অন্য দিকে আর এক বর্ষীয়ান শিল্পী পণ্ডিত যশরাজ বেশ কিছু ভজন শোনালেন। বর্ষীয়ান এই শিল্পীর উপস্থিতি সঙ্গীত সম্মেলনটিকে গরিমাময় করেছে ঠিকই, তবে তাঁর গায়ন স্পর্শ করেনি।

ঝিঁঝিট এবং আত্রাউলি চন্দ্রকোশ শোনালেন ভারতী প্রতাপ। ঝিঁঝিট রাগে বিলম্বিত একতালের একটি বন্দিশ এবং মধ্য ও দ্রুত তিনতালে দু’টি বন্দিশ পরিবেশন করলেন শিল্পী। তারসপ্তকে শিল্পী বেশ সাবলীল। তবে মন্দ্রসপ্তকে সুর থেকে বিচ্যুত হয়েছেন বেশ কয়েক বার। স্থায়ী স্বরে গলায় কম্পনও ধরা পড়ছিল মাঝেমাঝে। আত্রাউলি চন্দ্রকোশ রাগে নোমতোম আলাপের পরে একটি দ্রুত বন্দিশ শোনালেন শিল্পী। নোমতোম আলাপটি বেশ অন্য রকম ছিল। রাগের চলনটিও ছিল ব্যতিক্রমী। খাম্বাজ রাগে পরিবেশিত দ্রুত বন্দিশ এবং তারানাটি মন্দ লাগেনি। তবলার সঙ্গে কসরতের সময়ে কোনও কোনও ক্ষেত্রে একটু তাল কেটেছে।

মিতা পণ্ডিতের সঙ্গীত পরিবেশনা বেশ হতাশ করেছে। শঙ্করা রাগে গ্বালিয়র ঘরানার বিলম্বিত বন্দিশ শোনালেন শিল্পী। কিন্তু কণ্ঠে জড়তার কারণে তাঁর গায়কি মনে দাগ কাটেনি। কণ্ঠস্বর বেশ পাতলা। দাপট তেমন নেই। শঙ্করা রাগের বীর রসাত্মক রূপটির প্রতি শিল্পীর কণ্ঠ সুবিচার করেনি। বহু বার সুর থেকে বিচ্যুত হয়েছেন তিনি। তানকারির সময়ে লয় ধরে রাখতেও বেশ সমস্যা হচ্ছিল তাঁর। দেশ রাগে সৃজিত চতুরঙ্গটিও তেমন মনে ধরেনি। তারসপ্তককে এক প্রকার এড়িয়েই গেলেন তিনি চতুরঙ্গ গাওয়ার সময়ে। গলায় সমস্যা থাকতেই পারে, কিন্তু সেই অনুযায়ী স্কেল নির্বাচন করলে শিল্পীও স্বচ্ছন্দে গাইতে পারতেন, শ্রোতারাও উপভোগ করতেন। পরবর্তী পরিবেশনা— মঙ্গলভৈরব রাগে ভজন এবং সিন্ধু রাগে গীত পঞ্জাবি টপ্পা ‘ও মিয়াঁ বে জানেওয়ালে’ অতিরিক্ত মনে হয়েছে। শিল্পী তাঁর পরিবেশনা সীমিত করলে ভাল হত।

পরভিন সুলতানা

অনুষ্ঠানের শেষরাতের শিল্পী পরভিন সুলতানা শোনালেন গুর্জরি টোড়ি। বিলম্বিত এবং দ্রুত বন্দিশে সাজানো পরিবেশনাটি ভাল লেগেছে। তাঁর কণ্ঠের ব্যাপ্তি চমৎকার। সুরসঞ্চালনাও দৃপ্ত। গুর্জরি টোড়ি ছাড়াও বসন্ত এবং জৌনপুরি রাগ শোনালেন তিনি। সামগ্রিক ভাবে তাঁর উপস্থাপনা ভাল লেগেছে।

যন্ত্রসঙ্গীতের ক্ষেত্রেও মিশ্র এক অভিজ্ঞতার সাক্ষী থাকলেন শ্রোতারা। তেজেন্দ্রনারায়ণ মজুমদারের সরোদবাদন মন্দ লাগেনি। তিনি শোনালেন কাফি-কানাড়া রাগে আলাপ-জোড়-ঝালা এবং জ়িলা কাফি রাগে বিলম্বিত, মধ্য এবং দ্রুত তিনতালের তিনটি গৎ। কাফি-কানা়ড়া রাগে আলাপটি বেশ ভাল। তবে ঝালায় তাঁর সরোদবাদন একটু চড়া লেগেছে। অপেক্ষাকৃত ভাল বাজিয়েছেন জ়িলা কাফি রাগটি।

এ বছরের সঙ্গীত সম্মেলনে সবচেয়ে বেমানান ছিল মাইহার ব্যান্ডের অনুষ্ঠান। মেঘ, বাগেশ্রী কানাড়া রাগে ছোট ছোট কম্পোজ়িশন শোনালেন তাঁরা। ভীষণই একঘেয়ে ছিল তাঁদের পরিবেশনা। কম্পোজ়িশনগুলিতে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের কোনও ছোঁয়া ছিল না। এ ছাড়াও তাঁরা শোনালেন জনপ্রিয় ভজন ‘বৈষ্ণবজন তো’। অনেকেই শুনিয়ে থাকেন। তবে পরিবেশনার সময় শিল্পীরা তাঁদের মতো করে গানটিকে পরিপূর্ণতা দেওয়ার চেষ্টা করে থাকেন। মাইহার ব্যান্ড যেটা শোনাল সেটা এক জনপ্রিয় গায়িকার কণ্ঠে গীত ভজনটির ‘হুবহু’ প্রতিলিপি। প্রিল্যুড, ইন্টারল্যুড সব কিছু এক রকম। এই পরিবেশনাকে আর যাই হোক, মার্গ সঙ্গীতের মর্যাদা দেওয়া যায় না।

শাহিদ পারভেজের সেতারবাদন প্রতি বারের মতোই মনোহর ছিল। তাঁর সুরসঞ্চালনা শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছে। আহির ভৈরব রাগে আলাপ-জোড়-ঝালা শোনানোর পরে তিনতালের একটি গৎ শোনালেন শিল্পী। পরিশেষে শোনালেন ভৈরবী রাগে একটি সুমিষ্ট ধুন।

ভারতী প্রতাপ

রাজেন্দ্র প্রসন্নর বংশীবাদন সামগ্রিক ভাবে সুন্দর ছিল। বাগেশ্রী রাগ দিয়ে শুরু করলেন শিল্পী। সংক্ষিপ্ত একটি সুরবিস্তারের পরই গৎ শুরু করেছেন। বিলম্বিত একতাল এবং দ্রুত তিনতালের গৎ দু’টি উপভোগ্য ছিল। পরিশেষে তিনি শোনালেন পিলু রাগ। সুমিষ্ট এই রাগটিকে যথাসাধ্য পরিপূর্ণতা দিয়েছেন শিল্পী।

শুভেন্দ্র রাও ও সাসকিয়া রাওয়ের সেতার এবং চেলোর যুগলবন্দি তেমন জমেনি। দু’টি বাদ্যযন্ত্রের ধরন একেবারেই আলাদা। পৃথক ভাবে শুনতে ভাল লাগছিল। কিন্তু সম্মিলিত বাদন ততটা ভাল লাগেনি। বিলাসখানি টোড়িতে আলাপ-জোড় এবং ঝালার পরে দ্রুত তিনতালে গৎ শুনিয়েছেন। এ ছাড়াও শোনালেন বৈরাগী এবং আহির ভৈরবের মিশ্রণে তৈরি চক্রনারায়ণী রাগ। শুভেন্দ্রর বাদন বেশ ভাল, তবে সাসকিয়ার চেলো ততটা ভাল লাগেনি। গতি ধরে রাখতে পারছিলেন না শিল্পী, তাল থেকে বিচ্যুত হচ্ছিলেন মাঝেমাঝেই।

সরোদবাদক দেবজ্যোতি বসু বেহাগে খুব সংক্ষিপ্ত আলাপ আর জোড় বাজিয়েছিলেন। ছোট ছোট পরিবেশনায় মন দিয়েছিলেন শিল্পী। দ্রুত ঝাঁপতাল, মধ্যলয়, দ্রুত এবং অতিদ্রুত তিনতালের কম্পোজ়িশনগুলি শুনতে খারাপ লাগেনি। তবে দ্রুতগতির একটি কম্পোজ়িশনে সুর থেকে বিচ্যুত হয়েছেন শিল্পী বেশ কয়েক বার। 

সেতারবাদক কুশল দাসের হেমন্তের পরিবেশনা একটু প্রলম্বিত ছিল। আলাপ-জোড়-ঝালার পরে ঝাঁপতাল এবং তিনতালে গৎ শোনালেন শিল্পী। শিল্পীর সুরসঞ্চালনায় যত্নের ছাপ ছিল। তবে তবলার সঙ্গে কসরত দেখাতে গিয়ে দ্রুত লয়ের উপস্থাপনাকে অনর্থক দীর্ঘ করেছেন। দ্রুত লয়ে তবলা এবং সেতারবাদন উচ্চকিত লেগেছে। 

কুমার বসু, তিরুবরুর ভক্তবৎসলম এবং গিরিধর উদুপা-র যৌথবাদন ছিল উপভোগ্য। তবলা, মৃদঙ্গম এবং ঘটমের এই সমন্বয় শ্রোতাদের সমাদর পেয়েছে। তাঁরা শোনালেন দক্ষিণী রাগ মোহনম (ভূপালি)-এ আদি তালে নিবদ্ধ একটি কম্পোজ়িশন। সামগ্রিক ভাবে তাঁদের বাদন ভাল লেগেছে।

দেবাশিস ভট্টাচার্য এবং প্রবীণ গোধকিন্ডি-র স্লাইড গিটার ও বাঁশির যৌথবাদন চমৎকার ছিল। মালকোশ রাগ পরিবেশন করলেন তাঁরা। মধ্যলয় রূপক এবং তিনতালের কম্পোজ়িশন শোনালেন শিল্পীদ্বয়। পৃথক ভাবে এবং একত্রে— উভয় ক্ষেত্রেই তাঁদের বাদন উপভোগ্য ছিল। 

এ বারের অধিবেশনের সেরা যন্ত্রসঙ্গীত পরিবেশনা ছিল মাইসোর মঞ্জুনাথ এবং মাইসোর নাগরাজের যৌথ বেহালাবাদন। উপস্থাপনার প্রতিটি মুহূর্ত শ্রোতাদের আবিষ্ট করে রাখলেন তাঁরা। আনন্দভৈরবী, ষণ্মুখপ্রিয়া, সিন্ধু ভৈরবী প্রভৃতি রাগ শোনালেন শিল্পীদ্বয়। সুনিপুণ পরিবেশনায় মন ছুঁয়ে গেলেন তাঁরা।

চার রাত্রিব্যাপী এই সঙ্গীত সম্মেলনে শিল্পীদের তবলায় সহযোগিতা করেছেন যোগেশ সামসি, শুভঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, সমর সাহা, অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়, তন্ময় বসু, সঞ্জয় অধিকারী, বিভাস সাংহাই, স্বপন চৌধুরী, শুভাশিস ভট্টাচার্য প্রমুখ। হারমোনিয়ামে সহযোগিতা করেছেন জ্যোতি গোহো, রূপশ্রী ভট্টাচার্য, গৌরব চট্টোপাধ্যায়, প্রদীপ পালিত, হিরণ্ময় মিত্র, সনাতন গোস্বামী প্রমুখ। 

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন