গোলাপের গন্ধমাখা রোজওয়াটারের উপকারিতা অনেক। সে কিন্তু আপনার ত্বকের এমন বন্ধু, যে কখনও ধোঁকা দেবে না, তা আপনার স্কিন টাইপ যেমনই হোক না কেন! বিশেষত, তা যদি হয় সেনসিটিভ, তা হলে তো কথাই নেই, নির্ভাবনায় ভরসা করতে পারেন এই বন্ধুটির উপর। এর মধ্যে থাকা সুদিং, অ্যান্টিসেপটিক উপাদান যে কত ভাবে আপনার উপকার করে... এ বার সেটাই জেনে নিন।

• ক্লেনজিং, টোনিং, ময়শ্চারাইজিং আপনার রোজকার রূপচর্চার রুটিনে বাধ্যতামূলক। কিন্তু ভেবে দেখুন তো, টোনিংয়ের পার্টটুকু কি আপনি অবলীলায় বাদ দিয়ে দেন না? যদিও অতিরিক্ত তেল, ধুলো ময়লা যা ক্লেনজার বের করতে পারে না, তা থেকে ত্বককে বাঁচাতে টোনিংয়ের ভূমিকা রয়েছে। ত্বকের পিএইচ ব্যালান্স ঠিক রাখতে রোজ ওয়াটার ভীষণ ভাবে সাহায্য করে। আর এর মধ্যে অ্যাসট্রিনজেন্ট উপাদান থাকার কারণে রোমকূপে ঢুকে থাকা তেল ও ময়লা বের করে আনে। নিয়মিত গোলাপজলের ব্যবহার অতিরিক্ত তেলমুক্ত রাখে বলে ব্ল্যাকহেডস, হোয়াইটহেডস, অ্যাকনে, পিম্পলের সমস্যা ত্বকে কম হানা দেয়। তাই কেমিক্যাল বেস্‌ড টোনারের চেয়ে টোনার হিসেবে রোজ ওয়াটার অনেক বেশি উপকারী। কিছুক্ষণ এটি মুখে লাগিয়ে রাখুন। গোলাপের মিষ্টি গন্ধে আপনার মনও ভাল থাকবে।  

• গোলাপজলে থাকা অ্যান্টিব্যাকটিরিয়াল উপাদান কিন্তু আঘাতের কারণে কোনও দাগ হয়ে থাকলে, তা মিলিয়ে যেতেও সাহায্য করে। আবার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ত্বককে ঋজু রাখে। ফলে বার্ধক্য ত্বকে থাবা বসায় দেরিতে।

• অনেকেরই চোখের নীচে একটা ফোলাভাব লক্ষ করা যায়। যেহেতু ওই অংশের স্কিন খুব পাতলা হয়, তাই ওই অংশ ফুলে গেলে, সহজেই বোঝা যায়। এ ক্ষেত্রে রোজওয়াটার চোখের নীচে লাগাতে পারেন। যদি ক্লান্তি বা কম ঘুমের কারণে চোখের নীচ ফোলা লাগে, তা হলে একটা গোলাপজলের বোতল ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে, একটা তুলোর বলে সেই জল নিয়ে চোখের নীচে লাগান। এতে  ফোলাভাবও কমবে, আরামও পাবেন।

• মেকআপ রিমুভার হিসেবেও রোজ ওয়াটারের কার্যকারিতা কিন্তু লা-জবাব! ত্বক শুষ্ক বা তৈলাক্ত যেমনই হোক, ত্বকের প্রতি রুক্ষ না হয়ে, এটি মেকআপ তুলে দেবে। এক চামচ নারকেল তেল বা আমন্ড অয়েলের সঙ্গে দু’টেব্‌ল চামচ রোজ ওয়াটার মিশিয়ে মেকআপ রিমুভার হিসেবে ব্যবহার করুন। যত চড়া মেকআপই হোক, এর কাছে জব্দ হবেই। আই মেকআপ তোলার জন্যও এটি উপকারী।

• শীত হোক বা গ্রীষ্ম, আপনি যে কোনও ঋতুতেই গোলাপজল ব্যবহার করতে পারেন। মুখ শুকনো লাগুক বা ঘামে ভেজা, মুখে স্প্রে করে নিলেই চটজলদি পেয়ে যাবেন সমস্যার সমাধান। আপনিও থাকবেন রিফ্রেশড।

• ত্বকের সঙ্গে চুলেরও কিন্তু নানা উপকারে লাগে রোজ ওয়াটার। এটি কন্ডিশনার হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। শ্যাম্পু করার পর এককাপ রোজ ওয়াটার দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। চুল হবে উজ্জ্বল।

• আবার আপনার চুল যদি খুব শুষ্ক হয়, সম পরিমাণ রোজ ওয়াটার ও গ্লিসারিন মিশিয়ে একটি কটন প্যাড দিয়ে স্ক্যাল্পে লাগান। ১০-১৫ মিনিট ধরে মাসাজ করুন। তার পর আধ ঘণ্টা রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন। 

• আমরা প্রত্যেকেই কমবেশি ব্যস্ত। এবং একটা বয়সের পর রূপচর্চা চলে যায় ব্যাকসিটে। স্কিন থাকে না যথেষ্ট হাইড্রেটেড। ত্বকের ডিহাইড্রেশন এবং শুষ্কতা কিন্তু প্রিম্যাচিয়োর এজিংয়ের একটা বড় কারণ। তাই ত্বক ভিতর থেকে যেমন হাইড্রেটেড রাখা দরকার, তেমনই বাইরে থেকেও। এর জন্য যেমন যথেষ্ট পরিমাণে জল খাবেন, তেমনই হাইড্রেটিং স্প্রেও আপনার ত্বককে বাইরে থেকে রাখবে আর্দ্র। আপনি সরাসরিও ত্বকে গোলাপজল লাগাতে পারেন, আবার আপনার ময়শ্চারাইজার বা সানস্ক্রিনেও সামান্য পরিমাণে রোজওয়াটার মিশিয়ে লাগাতে পারেন। এটি ত্বকে খুব তাড়াতাড়ি মিশে যায় এবং ত্বকও থাকে নরম, ঠান্ডা এবং হাইড্রেটেড।

• খুব বেশি ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফেরার পর অনেক সময়ই ঘুম আসতে চায় না। এ ক্ষেত্রে আপনি বালিশে কয়েক ফোঁটা গোলাপজল ছড়িয়ে দিন। মিষ্টি গন্ধে আপনার ক্লান্তি দূর হবে। ঘুমও আসবে সহজে।

এ বার দেখুন আপনার কোন কোন সমস্যার সমাধান হতে পারে গোলাপজল দিয়ে।