সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

শারদ অর্ঘ্যে দস্যু মোহন থেকে কিশোরী হ্যাকার

books

শারদীয়া অনুষ্টুপ-এ (সম্পা: অনিল আচার্য) প্রত্যাশাপূরণ আছে, আছে চমকও। জাতিসত্তার ধারণাকে নেড়েচেড়ে দেখতে মনস্বিতা সান্যাল ফিরে পড়েছেন মোহন সিরিজ়। সৌমিক বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন সত্যজিৎ রায়ের ‘ওয়াজিদ-নির্মাণ’ নিয়ে, যা সৌমিকের ব্যাখ্যায় ‘বিকল্প রাজধর্মের সন্ধান।’ অন্য স্বরের সন্ধান করতে ফৈজ়-উত্তর পাকিস্তানের উর্দু কবিতার তর্জমা করেছেন নীলাঞ্জন হাজরা, সঙ্গে দীর্ঘ ভূমিকা। প্রায় হাজার পাতা জুড়ে বিচিত্র প্রসঙ্গ—প্রণব বর্ধনের ভাবনার জগৎ (দীপেশ চক্রবর্তী), ভারতে মার্ক্সবাদ ও গণতন্ত্র (সুদীপ্ত কবিরাজ), রাষ্ট্র ও থিয়েটার (সৌরীন ভট্টাচার্য), শতবর্ষে সত্যজিৎ চর্চা (চিন্ময় গুহ, সন্দীপন সেন, ছন্দক সেনগুপ্ত)। তবে মূল সুরটি এ বছর বাঁধা অতিমারির দুঃখে। কঠিন এই সময় নিয়ে কলম ধরেছেন অরিন্দম চক্রবর্তী, মৈত্রীশ ঘটক, অনিতা অগ্নিহোত্রী প্রমুখ। প্রথম লেখাটি শঙ্খ ঘোষের ‘ভারতের কালো কবিতা’।

পরিচয় (সম্পা: অভ্র ঘোষ) পত্রিকার জন্ম এক আন্তর্জাতিক সঙ্কটের কালে— ১৯২৯-৩০’এর অর্থনৈতিক মন্দা। দীর্ঘ নয় দশকে আরও বহু ভয়াবহতার সাক্ষী সুধীন্দ্রনাথ দত্তের হাতে সূচিত এই পত্রিকা। অতিমারি আর আমপানের জোড়া বিপর্যয়ই এবারের শারদীয় সংখ্যার বিষয়। মননঋদ্ধ ন’টি প্রবন্ধে অভূতপূর্ব সঙ্কটকালের নানা দিক, নানা গল্প উঠে এসেছে। সমস্যার সঙ্গে সঙ্কটমুক্তির দিশাও— অন্তত আশা— তাতে আছে। প্রত্যেক বারের মতো রয়েছে কবিতা, গল্প, বিশেষ প্রবন্ধ। রয়েছে অরুণ সেন ও মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে দু’টি স্মরণলেখ। প্রকাশিত হয়েছে অনলাইনে।

কোরক সাহিত্য পত্রিকা-র (সম্পা: তাপস ভৌমিক) এবারের শারদ সংখ্যার প্রধান বিষয়: ‘মহামারি/ অতিমারি’। করোনা-কালে লেখা চন্দন সেনের নাটক, অনিতা অগ্নিহোত্রী সেলিনা হোসেন প্রমুখের গল্প ও কবিতাগুচ্ছ। সঙ্গে জন্মশতবর্ষে স্মরণ ও স্মৃতিচর্চা সুভাষ মুখোপাধ্যায়, বুদ্ধদেব বসু, অখিলবন্ধু ঘোষ, অমলেশ ত্রিপাঠী, দিলীপকুমার বিশ্বাস, প্রশান্তকুমার পাল, বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, চারু মজুমদার, সুকুমারী ভট্টাচার্য, শিবনারায়ণ রায়, অজয় বসুকে নিয়ে। বাঙালির ঘরগেরস্তি নিয়ে লিখেছেন স্বপ্নময় চক্রবর্তী, যে গদ্যে আস্বাদনের সঙ্গে মিশে থাকে সামাজিক ইতিহাসের পাঠ।

শারদীয় সংখ্যা হিসেবে না হলেও এই সময়েই প্রকাশিত হল আজকের গাঙচিল পত্রিকা (সম্পা: অধীর বিশ্বাস)। বিষয় ‘বাংলা ও বাঙালি’। বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বাঙালি ও তার জাতিসত্তার প্রশ্নটিকে দেখেছেন মধুশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়, নন্দিনী ভট্টাচার্য, পারমিতা চক্রবর্তী, দেবারতি জানা, বেগম জাহান আরা, সাধন চট্টোপাধ্যায়, জয়িতা দাস, শুভঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, তিলক পুরকায়স্থ, চিরঞ্জয় চক্রবর্তী, নির্মাল্যকুমার মুখোপাধ্যায়, ঋত্বিক মল্লিক, পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়, সোমেন সেনগুপ্ত, অমিতাভ চট্টোপাধ্যায়, দেবরাজ ঘটক, অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ।

বিভাস রায়চৌধুরী ও পিয়াস মজিদের কবিতা উল্লেখযোগ্য। আবাহন দত্তের প্রবন্ধটিও অতি সমৃদ্ধ।

সৃষ্টির প্রলয়কালে শেষ আশ্রয় হিসেবে নোয়ার নাও-এর চাইতেও বড় হয়ে উঠতে পারে যে শাম্পান, তার হদিশ পাওয়া যাবে পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা-য় (সম্পা: সিজার বাগচী) শঙ্খ ঘোষের কবিতায়। এক এথিকাল হ্যাকার কিশোরীর কাহিনি লিখেছেন কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়। স্মরণজিৎ চক্রবর্তীর উপন্যাসে উঠে এসেছে সুদূর রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলের কথা। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের উপন্যাসের পটভূমিকা আবার অতিপরিচিত বাংলার গ্রাম। 

আমপাতা জামপাতা-য় (সম্পা: দেবাশিস্ বসু) জয়দীপ চক্রবর্তীর ‘যে গল্প বুকের গভীরে’ উপন্যাসটিতে জঙ্গলের গন্ধ, তার দেবী ফিসফিসাইয়া মা-র কাহিনি। অনন্যা দাশের গল্পটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পটভূমিকায়, কিন্তু তার আবেদন চিরন্তন। সঞ্জয় কর্মকারের ‘মোবাইল চোর এবং’ গল্পে শেষ পর্যন্ত মোবাইলের মালিক আর চোরের মধ্যে বন্ধুত্বই গড়ে ওঠে।

রূপকথা, ভূত-প্রেত, গোয়েন্দাগল্প, চিত্রকাহিনিতে জমজমাট শারদীয়া কিশোর ভারতী (সম্পা: ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায়)। ফিরিয়ে এনেছে লীলা মজুমদার, হেমেন্দ্রকুমার রায় প্রমুখের দুষ্প্রাপ্য রচনা। বাঘের ছানা রাগের কলকাতা দর্শন, অন্তুর স্যর-এর সুপারপাওয়ার-এর পরিণতি, বাঘতাড়ুয়া ছাতার গল্প— কল্পনার মায়াজাল বোনার ফাঁকেও লেখকেরা গুঁজে দিয়েছেন করোনা, সিএএ-র সমকাল। বাড়তি প্রাপ্তি শঙ্খ ঘোষ, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘জাদু কবিতা’। 

মায়াকানন-এ (সম্পা: অর্ক পৈতণ্ডী) দেবজ্যোতি ভট্টাচার্যের ‘টাইগার ট্র্যাপ’, উদয়াদিত্য সোমের ‘ফিডিয়াসের ধাঁধা’-য় অজানা ইতিহাস। ভয়ালরসের উপন্যাস ‘করাল শমন’ শিহরন জাগায়।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন