• রাজেশ গঙ্গোপাধ্যায়
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

ছোটগল্প 

ছায়ার গন্ধ

তাতাইয়ের সন্তান আসছে বুঝেও জানতে চাইনি। অপেক্ষা করেছি। বাবাদের একটা সীমারেখা থাকেই।

sketch
ছবি: কুনাল বর্মণ

সব মানুষের ভিতরেই অন্য আর-এক জন লুকিয়ে থাকে। কারও ভাবনার সবটা কখনওই প্রকাশিত হয় না। অন্য পোশাক গায়ে চাপিয়েই সারা জীবন কেটে যায়...” এই কথা দিয়েই শুরু হয়েছিল রাতুলবাবুর লেখাটা।

স্ত্রী শাল্মলী মারা গিয়েছেন প্রায় বছর তিরিশ আগে। এর পর একা মানুষ করেছেন একমাত্র ছেলে রাহুলকে। পদস্থ চাকরি পাওয়ার পর রাহুলের বিয়ে দিয়েছেন, এর পর নাতি উজানের জন্ম। বিষাদে বা আনন্দে কখনও কাউকে প্রত্যাশা করেননি। যথা সময়ে রাহুল স্ত্রী-পুত্র নিয়ে বদলি হয়ে গিয়েছে অন্যত্র। বাবাকেও সে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। রাতুলবাবু যেতে চাননি। বলেছিলেন, স্ত্রীর স্মৃতিবিজড়িত এ বাড়ি ছেড়ে যাবেন না। রাহুল বাবার এই আবেগ উপলব্ধি করে উঠতে পারেনি। আবেগতাড়িত না হতে বাবা-ই শিখিয়েছে। বাবা-ই একমাত্র অবলম্বন হয়ে ছিল, সে আঠাও যেন খুলে আসছিল। 

রাহুলের স্ত্রী দিয়ার প্রথম থেকেই শ্বশুরমশাইকে কেমন অদ্ভুত মনে হত। সমবয়সি বৃদ্ধদের মতো রাতুলবাবু অতীত নিয়ে পড়ে থাকেন না। ধর্মের ব্যাপারেও নিস্পৃহ। ছেলে-বৌমাকে কোনও কিছুতে বাধা দেননি, তেমনই নিজের শখ-আহ্লাদ পূরণ করেছেন একাই। অ্যাকাডেমি, বুক ফেয়ার, কলেজ স্ট্রিট চষে বেড়িয়েছেন। একাকিত্বকে তুড়ি মেরে রাতুলবাবুর এই চেটেপুটে বাঁচা নিয়েই দিয়ার সমস্যা। আন্তরিকতার ভিতরেও যেন এক স্বেচ্ছাকৃত ফাঁকা তেপান্তর! 

রাহুল অবাক হয়ে বলে, ‘‘বাবা তো কোনও ভাবে ডিস্টার্ব করছেন না। তা হলে তোমার সমস্যাটা কোথায়!’’ দিয়া ঠিক বোঝাতে পারে না। তাই রাহুল যখন ট্রান্সফারটা নিতে দ্বিধা করছিল, দিয়া জোর করেই রাজি করিয়েছিল। রাতুলবাবুও চেয়েছিলেন, ওরা নিজেদের মতো থাকুক। এই একাকিত্ব যেন উনি বরাবর চেয়েছিলেন।

ইন্ডিয়ান ফিনানশিয়াল কর্পোরেশনের সিঙ্গাপুর শাখা উদ্বোধন হওয়ার পর থেকে রাতুলবাবু ওখানেই পোস্টিং পেয়ে দীর্ঘ দিন কাটিয়েছেন। রাহুল হওয়ার আগে দেশে ফিরে আসেন। শাল্মলী চলে যাওয়ার পর স্বেচ্ছাবসর নিয়ে পুরোপুরি সংসারে। দু’জনের ছোট্ট সংসার এক নির্মোহ সরলরেখার মতো চলেছে। রাহুলের মনে আছে, পাশের ঘরে অল্প আলোয় হাল্কা ভল্যুমে শিবকুমার শর্মা, বাবা সোফায় দু’চোখ বুজে বসে, সামনে স্কচের গ্লাস। আবার পরের দিন সকালে বাবা তাকে ঠিক সময়ে রেডি করে স্কুলবাসে তুলে দিচ্ছেন।

ডাক্তারের চেম্বার থেকে রুটিন চেকআপ সেরে খুশি মনে বেরিয়ে এলেন রাতুলবাবু। রিপোর্ট সব ঠিকই আছে। তিনি এগোতে থাকলেন ফুচকাওয়ালাকে ঘিরে থাকা ভিড়ের বৃত্তটির দিকে। হঠাৎ মনে পড়ল লেখাটার কথা। বহু দিন হল বসা হয়নি। রাতুলবাবু বাড়ি এসে ল্যাপটপটা খুলে বসলেন, পেনড্রাইভ থেকে লেখাটা ল্যাপটপে নিয়ে এলেন, আঙুলগুলো দ্রুত ঘেরাফেরা করতে লাগল কি-বোর্ডে, পূর্ণতা পেতে লাগল লেখাটা।

দিয়ার ফোন এল, “বাবা, কেমন আছেন আপনি?”

“খারাপ যে নেই এটা বলতে পারি। তোমরা? উজান?”

“এই নিন, এখানেই আছে,” দিয়া ফোনটা দিল উজানকে।

“হ্যালো দাদাই, কেমন আছ?”

“ভাল আছি। তুমি কেমন আছ?”

“ভাল আছি। কাল আমার সামার ভেকেশন স্টার্ট হচ্ছে। নেক্সট ফ্রাইডে ভোরের ফ্লাইট।”

দিয়ার সঙ্গে কথা শেষ করে রাতুলবাবু উঠলেন। লেখাটা পেন ড্রাইভে সেভ করে ল্যাপটপ থেকে ফাইল ডিলিট করে দিলেন যথারীতি। ক’দিনের মধ্যে বেশ কিছু কাজ সারতে হবে। শাওয়ারটা প্রবলেম করছে, প্লাম্বার ডাকতে হবে। গ্যাস ওভেনের জন্য একটা নতুন লাইটার কিনতে হবে। ওদের জন্য কিছু ড্রেসও কিনতে হবে। কালই বেরোবেন। 

“নূপুরমাসি কে?” দিয়ার প্রশ্নে রাহুল অবাক হল।

“তুমি কোত্থেকে জানলে নূপুরমাসির কথা?”

“এটা কি আমার প্রশ্নের উত্তর হল?” দিয়া বিরক্ত হয়।

“নূপুর মাসি সম্পর্কে মায়ের খুড়তুতো বোন। অনেক দিন আমাদের বাড়িতে ছিল। আমার ছোটবেলাটা ওর কাছেই কেটেছে। বাবা-মা দু’জনেই বেরিয়ে যেত। আমাকে স্কুলে পাঠানো, স্কুল থেকে এলে ফ্রেশ করিয়ে সাঁতার ক্লাসে নিয়ে যাওয়া, সব নূপুরমাসিই করত। ক্লাস ওয়ান থেকে টু-তে উঠব, এমন সময় এক দিন মাসি চলে গেল। কেন জানি না। এত দিন পর নূপুরমাসির কথা তুমি জানলে কী করে?”

“কেন? বাবা বলতে পারেন না?” দিয়া বেশ ধারালো।

“বাবা তো পুরনো কথা নিয়ে আলোচনা পছন্দ করেন না।”

“তোমাদের ফ্যামিলিতে এত দিন ধরে নূপুরমাসি ছিল, তার সঙ্গে তোমার এতটা অ্যাটাচমেন্ট ছিল, পুরনো কথা বলে সে সব জানতে চাওয়া যাবে না!” দিয়া হতাশ।

সে দিন বাবার ঘরে ঝাড়পোঁছ করতে গিয়ে হঠাৎ পেন ড্রাইভটা পায় দিয়া। তার পর থেকেই কৌতূহল চেপে রাখতে পারছে না। বাংলায় টাইপ করা একটা ফাইল। বেশ কিছুটা পড়ার পর বোঝাই যায় এ লেখা রাতুলবাবুর। আত্মজীবনীর স্টাইলে এক ঝরঝরে ন্যারেটিভ। কারও সঙ্গে কোনও দিন কিছু শেয়ার করতে না চাওয়া মানুষটা কেন এই লেখা লিখতে শুরু করেছেন! 

পরের দিন বাবা ব্রেকফাস্ট করে কোথাও বেরিয়েছেন। লাঞ্চ নিয়ে ফিরবেন বলে গিয়েছেন। রাহুলও উজানকে নিয়ে গিরিশ পার্কে গেছে। দিয়ার সুযোগ এসে গেল।

‘শালুকে ভাল না লাগার কারণ ছিল না। স্ত্রী এবং সন্তানের মা হিসেবে ওকে ভালবেসেছি, শ্রদ্ধাও করেছি। কিন্তু শালু যে তাতাইয়ের জন্মের পরও কেন চাকরিটা ছাড়তে রাজি হল না... আমি ব্যক্তি স্বাধীনতাকে বরাবরই প্রায়োরিটি দিয়ে এসেছি, এ ক্ষেত্রেও তার অন্যথা হয়নি...’ 

লেখাটা দিয়াকে চুম্বকের মতো টানছে। কিন্তু বাবা যখন প্রকাশ করতে চাননি, তখন এ ভাবে লুকিয়ে পড়াটা কি ঠিক হচ্ছে! এখনও পর্যন্ত যতটা পড়েছে, তাতে মানুষটা নতুন ভাবে আবিষ্কৃত হয়ে উঠছেন। দিয়া পেন ড্রাইভ ডিসকানেক্ট করেও অদম্য কৌতূহলে আবার কানেক্ট করল।

লেখায় দিয়াও এসেছে, ‘শালু থাকলে পুত্রবধূকে বুকে টেনে নিত। লকার খুলে দাঁড় করিয়ে বলত, ‘‘এ সবই তোমার। ঠাকুরমার এই রতনচূড়টা দিয়ে তোমার মুখ দেখার ইচ্ছে আমার অনেক দিনের। এ সোনা এখন আর পাওয়া যাবে না।’’ আমি গয়নাটা দিয়াকে দিলেও শালুর খুশিটা তো ও অনুভব করতে পারল না। তাতাইয়ের সন্তান আসছে বুঝেও জানতে চাইনি। ওরা জানানো পর্যন্ত অপেক্ষা করেছি। বাবাদের একটা সীমারেখা থাকেই। শালু আমাকে একা রেখে চলে গেল! আর ওরাই বা আমাকে জানাচ্ছে না কেন! রোজই ভাবি আজ বোধহয়... নাঃ...”

দিয়ার লজ্জা করছে। রাহুলকে ও অনেক বার বলেছিল বাবাকে জানানোর জন্য। হাঁদাটা রোজই জানাবে বলে আর শেষ পর্যন্ত বলে উঠতে পারত না! অনেক দিন পর বলেছিল। রাতুলবাবু বেয়ানকে ফোন করে সুসংবাদ দিয়েছিল। এও বলেছিল, “আজ তাতাইয়ের মা থাকলে কী যে খুশি হত! এই সময়টায় তো সাবধানে থাকতে হয়, তাই আমার ইচ্ছে আপনি মেয়েকে আপনার কাছে নিয়ে গিয়ে রাখুন।” মা পরের দিনই দিয়াকে নিয়ে গিয়েছিল। এর পর বাবা ফোন করেছেন, মাঝে মাঝেই প্রচুর জিনিসপত্র নিয়ে দেখতেও গিয়েছেন পুত্রবধূকে।

এক জায়গায় লেখা শুরু হচ্ছে এ ভাবে, ‘বেশি কথা বলা চিরকালই আমার অপছন্দের। শালুর যখন মেটারনিটি লিভ ফুরিয়ে আসছে, সে সময় এক দিন আমাদের বাড়ি এল নূপুর, শালুর খুড়তুতো বোন। সে দিন রাতে শালু জানাল, ‘‘আমি অফিস জয়েন করছি, তাই নূপুরকে ভাবছি রাখব এখানে। তোমার আপত্তি আছে?” আমার আপত্তি গুরুত্বপূর্ণ হলে শালু সিদ্ধান্তটা নেওয়ার আগে আমাকে জানাত। তা যখন করেনি, তখন এ নিয়ে জটিলতা বাড়ানোর মানে হয় না। জানালাম, ‘‘আপত্তি নেই।’’ সেই প্রথম বার মনে হয়েছিল শালু আমায় বুঝতে পারল না। শুধু বলেছিলাম, ‘‘অতটুকু মেয়ে, পারবে তাতাইকে সামলাতে?’’ শালু উত্তর দিয়েছিল, ‘‘তা হলে একজন অ্যাটেন্ড্যান্ট রাখতে হয়!’’ বুঝেছিলাম আলোচনাটা অন্য দিকে ঘুরে যেতে চাইছে। কথা বাড়াইনি। নূপুর দক্ষ হাতেই তাতাইয়ের দেখাশোনা করছিল। আমি অবাক হয়েছিলাম। শালু এক দিন আমাকে বলল, ‘‘সিদ্ধান্ত ঠিক ছিল তো!’’

সেই শালুই চলে যাওয়ার আগের দিন আমাকে বলেছিল, “প্রথম থেকেই আমার সিদ্ধান্ত মেনে নাওনি। কিন্তু এই মেনে না নেওয়া এ ভাবে প্রমাণ করবে, কোনও দিন ভাবিনি।’’

‘‘এ সব কী বলছ শালু! তোমার কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে, থাক না এ সব। সুস্থ হয়ে ওঠো, আমরা আবার নৈনিতাল যাব। হনিমুনের কথা মনে আছে?’’ ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলেছিলাম। একটা অসহায়তা আমায় জড়িয়ে ধরছিল।

“আচ্ছা, তুমি আমাকে কোনও দিন ভালবাসতেই পারনি, তাই না? আমি তোমাকে স্যাটিসফাই করতে পারিনি! না হলে ওইটুকু একটা মেয়ের সঙ্গে... ছিঃ!’’ শালু হাঁপাচ্ছিল। আমি দৌড়ে গিয়ে সিস্টারকে ডাকলাম। সিডেটিভ ইনজেক্ট করে ওকে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা হল। যে মানুষ ঘুমের জন্য রাজ্যপাট ছেড়ে দিতেও রাজি ছিল, আজ তাকে সিডেটিভ দিয়ে... শালু কোনও দিন কিছু বলেনি, শুধু আমাকে সামনে দাঁড় করিয়ে নূপুরকে বলেছিল, ‘‘তুই চলে যা। তুই খুবই ভাল করেই তাতাইকে দেখাশোনা করেছিস। তোর রাতুলদাকেও!’’

আমি শালুকে বাধা দিয়ে বলেছিলাম, ‘‘এ সব কী হচ্ছে শালু! নূপুরকে অকারণে ছোট করছ।’’

‘‘তা হলে কাকে করব, তোমাকে? তুমিও শেষ পর্যন্ত অ্যাভারেজ হয়ে গেলে!’’ শাল্মলীর গলায় ক্ষোভ।

‘‘ঘটনাটাকে যে ভাবে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে ভাবছ, তা সত্যি নয়, শালু।’’

‘‘কী হলে সত্যি হত? আজ হয়নি কাল হত! যা-ই হোক, আর কথা বাড়াতে ইচ্ছে করছে না। আমি ওকে চলে যেতে বলেছি, কারণ অফিসে আমার রেজ়িগনেশন অ্যাকসেপ্টেড হয়ে গিয়েছে।’’ 

নূপুর এ নিয়ে কোনও কথা বলেনি। ওর নীরবতায় ঘটনাটা অন্য মাত্রা পেয়েছিল।

সে দিন তাড়াতাড়িই বাড়ি ফিরেছিলাম। বাথরুম যাওয়ার সময় তাতাইয়ের ঘরের ভিতর হঠাৎ চোখ পড়তেই দেখি, নূপুর গভীর ঘুমে আর গায়ের চাদরটা তাতাইয়ের মুখে এমন ভাবে জড়িয়ে গিয়েছে যে, বিপদ ঘটে যেতে পারত। আমি তাড়াতাড়ি চাদরটা সরিয়ে দিতে গেলাম এবং এ সব করতে গিয়ে তাতাই কেঁদে উঠল। তাতাইয়ের কান্না শুনে নূপুরও জেগে গেল। আমি নূপুরের হাতে তাতাইকে ছেড়ে বাথরুমের দিকে যাব, এমন এময় শালু এসে উপস্থিত। এ বাড়ির সবাই ডুপ্লিকেট চাবি রাখে। ফলে ও যে বাড়ি ঢুকেছে বুঝিনি। আমাকে ওই ঘর থেকে বেরোতে দেখে শালু অবাক হল বুঝলাম। কিন্তু কিছু বলল না। 

‘‘আরে তুমি! এ সময়ে!’’ আমার বিস্ময় চাপা থাকল না। 

‘‘আমিও তো তোমাকে একই প্রশ্ন করতে পারি। তাই না?’’ এ কথার উত্তর দিতে পারলাম না। 

সামান্য একটা মুহূর্ত যে কতটা সমস্যা হয়ে উঠতে পারে, তা বুঝলাম যখন জীবন থেকে ক্রমশ সরতে সরতে শালুর অ্যাকিউট অ্যানিমিয়া ধরা পড়ল, সঙ্গে জন্ডিস। এক রকম জোর করেই নার্সিংহোমে ভর্তি করালাম। চিকিৎসার ত্রুটি ছিল না। কিন্তু শালু আর ভাল হয়ে উঠল না। 

শুধু ভুল বুঝেই শালু শেষ হয়ে গেল। সযত্নে তৈরি করা বর্মের ভিতরে সদা সতর্ক থেকেও আমি যুদ্ধটা হেরে গেলাম। আজীবন যে কাঠিন্যে বেঁচেছি, আজ তার ফাঁকফোকর দিয়ে হু-হু করে বয়ে যাচ্ছে হাওয়া... সে হাওয়ার সামনে দাঁড়িয়ে আমার কেন এ সব বলার ইচ্ছে হল? আমি কি জাস্টিফাই করতে চাইছি নিজেকে? একমাত্র ছেলেকে মানুষ করার মধ্য দিয়ে আমি কি দুনিয়াকে দেখিয়ে দিতে চেয়েছি বাবা হিসেবে আমার সাফল্য! সব কিছুর নির্ধারক তো সময়!

ডোরবেলের আওয়াজে সংবিৎ ফিরে পেয়ে বেরিয়ে আসে দিয়া। রাহুল ফিরে এসেছে উজানকে নিয়ে। বাবা-ছেলে দু’জনেরই ফুরফুরে মেজাজ। কিছু ক্ষণ পর রাতুলবাবুও ফিরলেন। হাতে ঝোলানো নামী রেস্তরাঁ থেকে নিয়ে আসা লাঞ্চের প্যাকেট। যথেষ্ট স্বাভাবিক মানুষটাকে দেখে কে বলবে যে, কিছু ক্ষণ আগেই দিয়া তাঁকে সম্পূর্ণ অন্য ভাবে চিনেছে! এর পর নিজেকে আড়াল করে দিয়া চট করে স্নান সেরে আসতে যায়। 

শাওয়ারের নীচে দাঁড়িয়ে, দিয়ার ভিতর থেকে বেরিয়ে আসছিল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সরলরেখাগুলোকে এক সঙ্গে করার আপ্রাণ চেষ্টা। বাবাকে নিয়ে মায়ের প্রবল পজ়েসিভনেস থেকেই ভুল বোঝাবুঝির শুরু। যে-কোনও ঘটনাকে যে যার নিজের মতো ব্যাখ্যা করে। করতে গিয়ে ভুল হতেই পারে, হয়ও। কিন্তু সংশোধনের আগেই অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটে গেলে ভুলটা কি আর মোছে!

দিয়া জানে না এই লেখার ভবিষ্যৎ কী, রাতুলবাবু কী ভেবে রেখেছেন। ওর শুধু মনে হতে থাকে, রাহুলও কি ওর স্ত্রীর ব্যাপারে এতটাই পজ়েসিভ! ও যদি কখনও দীপঙ্করদার ব্যাপারটা জানতে পারে, কী প্রতিক্রিয়া হবে ওর! রাহুলও কি ওকে...

শরীর বেয়ে নেমে আসা শাওয়ারের জলধারা হঠাৎই বরফের মতো ঠান্ডা মনে হয় দিয়ার। অদ্ভুত এক শীতে আমূল কেঁপে ওঠে ও।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন