• স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ১৩

চুয়ান্ন

chuanno
ছবি: অমিতাভ চন্দ্র

পূর্বানুবৃত্তি: পুঁটির বাবার অবস্থা একটু স্থিতিশীল। হাসপাতালের কাফেটেরিয়ায় পুঁটিকে খেতে নিয়ে যায় সাবু। সেখানে সে এক বার এনা সম্বন্ধে কিছু তেতো মন্তব্য করে ফেলে। ধৈর্য হারিয়ে সেখানেই সাবুকে অপমান করে পুঁটি। ও দিকে দীপ্যদার শরীর খারাপ শুনে রীতিমতো ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন সাবুর মা। চিৎকার চেঁচামেচি করে বাড়ি মাথায় করেছেন। সাবুকেই বাধ্য করেছেন দীপ্যদার বাড়ি গিয়ে তাকে দেখে আসতে। সেখানে যাওয়ার পথে মিছিল এবং জ্যামে আটকে পড়ে সাবুর স্কুটি। 

আমি হেলমেটটা খুলে রুমাল দিয়ে ঘাড় আর মাথা মুছলাম। রক্ষে এটাই যে, চুল ছোট করে কেটে রাখি আমি।

হেলমেটটা স্কুটির হাতলে ঝুলিয়ে রেখে আমি মোবাইলটা বার করলাম। বেশ কিছু মেসেজ এসেছে। কিন্তু বেশির ভাগই ফরোয়ার্ডেড। শুধু দুটো মেসেজ খুললাম। একটা জিনাদি করেছে। কয়েকদিন পরে আসছে কলকাতায়। ওর জন্য একটা হোটেল বুক করে রাখতে হবে। আর একটা করেছে এনা। জিজ্ঞেস করেছে, ওর জিনিসের কী হল। কেন এখনও পুঁটি সেটা ফেরত দিচ্ছে না।

মাথাটা আবার কট করে উঠল। পুঁটি কেন জিনিস দিচ্ছে না, সেটার দায় কি আমার? আমায় বলে কি এনা জিনিসগুলো দিয়েছিল পুঁটিকে? তা হলে কেন এখন আমায় এ ভাবে মাঝখানে টেনে আনা হচ্ছে!

আমি পুঁটিকে স্কুল থেকে চিনি। এমনিতে হাসিখুশি ধরনের ছেলে। কিন্তু প্রেমে পড়লে বিশাল সিরিয়াস। মানে এতটাই সিরিয়াস যে, নার্সিংহোমে-ভর্তি-করাতে-হতে-পারে টাইপ হয়ে যায়!

আমি কিন্তু প্রথমেই বলেছিলাম, পুঁটি, এ রকম করিস না। বলেছিলাম, একটা মেয়েকে এক বার দেখেই ‘একে বিয়ে করব’ এ সব ভাবিস না!

কিন্তু পুঁটি আমার কথা শুনলে তো! খালি বলত, ‘‘একে বিয়ে করলে তোর কী!’’

আচ্ছা আপনারাই বলুন, এই সময়ে দাঁড়িয়ে কেউ এক বার দেখেই বিয়ের কথা ভাবে? এটা কি নাইন্টিন্‌থ সেঞ্চুরির গল্প? যে, একটি বার দেখিলেই হৃৎকমল প্রস্ফুটিত হইয়া উঠে! আর আমি নিশ্চিত বুঝিতে পারি, ঈশ্বর এই নারীকে এমত
নশ্বর পৃথিবীতে প্রেরণ করিয়াছেন কেবলমাত্র আমার সহিত তাহার জন্মজন্মান্তরের সম্পর্ক সুদৃঢ় করিবেন বলিয়াই!

পুঁটিটা পাগল আছে। এখনকার দিনে প্রেম এ রকম হয় না কি! যেখানে সোশ্যাল মিডিয়া নামক একটা ম্যাচ ব্রেকার আছে, সেখানে জন্মজন্মান্তর মানে চারটে টেক্সট মেসেজ। যেখানে এক সঙ্গে ছ’জনের সঙ্গে ফ্লার্ট করতে না পারলে তাকে বোকা বলে ধরে নেওয়া হয়। যেখানে ভালবাসা হয় না, হয় নানা ফ্লেভারের রিব্‌ড আর ডটেড রিলেশনশিপ। এখন আর প্রেমের যুগ নেই। এখন রিলেশনশিপের যুগ। তাই হয়তো বিদেশি ব্যাঙ্কগুলো টাকা খরচ করে রিলেশনশিপ ম্যানেজার রাখে!

পুঁটি দেড় বছর ঘুরেছিল এনার পিছনে। তার পর মেয়েটা রাজি হয়েছিল। আর এই দেড় বছরে পুঁটিকে যে কী নাজেহাল করেছে মেয়েটা! আসলে এটাই হয়। কেউ যদি বুঝে যায় যে, অন্য মানুষটি তাকে খুব ভালবেসে ফেলেছে, তখনই তাকে টেকেন ফর গ্রান্টেড করে নেওয়া হয়। আর তখনই তার সঙ্গে যেমন খুশি ব্যবহার করা হয়।

আমি বার বার এ সব বুঝিয়েছিলাম পুঁটিকে। কিন্তু ওই ছেলের মাথায় সত্যি-সত্যি পুঁটি মাছের ব্রেন। আমার কথা শোনেইনি। আমার যে কী খারাপ লাগত পুঁটিকে ওই অবস্থায় দেখে! আর ছেলেটাও এমন, যত রাজ্যের এনা-সংক্রান্ত দুঃখের কথা এসে প্যানপ্যান করত আমার কাছে! এমন কী আমায় জড়িয়ে ধরে কত বার যে কেঁদেছে তার ঠিক নেই!

পুঁটি জড়িয়ে ধরত আমায়। অন্য মেয়ের দুঃখে কাঁদত। কিন্তু আমার মাথায় না, সত্যি বলছি কিছু ঢুকত না। শুধু মনে হত পুঁটি ছেলে হয়েও কী নরম! আর ওর আফটার শেভটার জন্য তো পরীক্ষার একটা পেপার বাঙ্কও মারা যায়!

আমি মোবাইলটা ঢুকিয়ে রাখলাম। এ সব দেখলে মাথা আবার গরম হয়ে যাবে। এমনিতেই সকালে মায়ের সঙ্গে একচোট হয়ে গিয়েছে আমার।

দীপ্যদার শরীর খারাপ হওয়ায় মা বাড়িতে হুলস্থুল লাগিয়ে দিয়েছিল। মনে হচ্ছিল কী না কী হয়ে গিয়েছে!

আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘‘কী হয়েছে? এ রকম চিৎকার করছ কেন? আর চার দিকে এত ফোন করারই বা কী হয়েছে?’’

মা বলেছিল, ‘‘কী হয়েছে মানে? দীপ্যর ভাইরাল হয়েছে। জানিস কী সাংঘাতিক ব্যাপার! ওর মা ফোন করেছিল। আমি বলে দিয়েছি, তুই ওকে দেখতে যাবি। তাড়াতাড়ি স্নান করে রেডি হয়ে নে।’’

‘‘আমি?’’ অবাক হয়ে মায়ের দিকে তাকিয়েছিলাম। আজ দুপুরে আমার একটা কাজ ছিল। কিন্তু দীপ্যদার বাড়ি গেলে তো সেটা ক্যানসেল করতে হবে! মা যে কী করে না!

আমি প্রতিবাদ করে বলেছিলাম, ‘‘আমার কাজ নেই! অফিসের একটা মিটিং আছে আজ। আমি যেতে পারব না।’’

‘‘কী এমন রাজকার্য করিস! আমি জানি না ভেবেছিস!’’ মা ঝঙ্কার তুলে বলেছিল, ‘‘দীপ্যও ফোন করেছিল, ও নিজেও বলছিল, তুই যেন যাস। তোকে কত দিন হল বলছে দেখা করতে, কিন্তু তুই না কি এড়িয়ে যাচ্ছিস!’’

আমি বলেছিলাম, ‘‘আরে কী মুশকিল! আমার কাজকম্ম নেই! এক দিকে অফিস, অন্য দিকে কাকু, মানে পুঁটির বাবার শরীর খারাপ। এই নর্থ থেকে সেই মুকুন্দপুর যেতে হয়! ইয়ার্কি নাকি?’’

‘‘আমি জানি না কিছু, তুই স্নান করে নে। আমি মিনতিকে ব্রেকফাস্ট দিতে বলছি। খেয়ে বেরিয়ে যা। বেশি ক্ষণ তো লাগবে না। দেখে আয় দীপ্যকে।’’

আমি তাও নড়িনি। বলেছিলাম, ‘‘কেন, দিদিকে যেতে বলো। ওর বয়ফ্রেন্ড না? ও কেন যাবে না? ও তো আজ বাড়িতেই আছে।’’

মা বলেছিল, ‘‘দু’দিন পর ওর একটা সেমিনার আছে। সেটার জন্য প্রিপেয়ার করতে হচ্ছে। ও যেতে পারবে না। আমি বলেছিলাম, মলি না
বলে দিয়েছে।’’

‘‘বাঃ, কী সুন্দর কথা!’’ রাগের সঙ্গে আমার মাথার যন্ত্রণা আরও বেড়ে গিয়েছিল, ‘‘যার বিয়ে তার হুঁশ নেই পাড়াপড়শির ঘুম নেই! কেন আমাকেই বার বার এ সবে ঠেলে দাও তুমি? আমার কাজ আমাকে করতে হবে, আবার অন্যের কাজও আমাকে করতে হবে? আর দীপ্যদা এমন কিছু কচি খোকা নয় যে, সামান্য ভাইরালে মরে যাবে! হোপফুলি এডস হয়নি!’’

‘‘কী বললি!’’ মা চিৎকার করে উঠেছিল,
‘‘খুব চোপা হয়েছে, না? চুলের মুঠি ধরে মাথা
ঠুকে দেব দেওয়ালে। যাবি বলেছি, তোকে যেতে হবে। বুঝেছিস!’’

‘‘আঃ, মা!’’ দিদি পাশের ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছিল। কানে ইয়ারফোন, হাতে মোবাইল। বুঝতে পেরেছিলাম কারও সঙ্গে কথা বলছে।

দিদি বলেছিল, ‘‘তোমরা একটু আস্তে ঝগড়া করবে? আমার কথা বলতে অসুবিধে হচ্ছে!’’

আমি ওর দিকে তাকিয়ে বলেছিলাম, ‘‘তোর বয়ফ্রেন্ড অসুস্থ, সেখানে তুই না গিয়ে আমায় যেতে হচ্ছে কেন?’’

দিদি এমন করে তাকিয়েছিল, যেন আমি ওকে বলেছি, রামেশ্বরম থেকে এক জ্যারিকেন সমুদ্রের জল ভরে আনতে।

তার পর বলেছিল, ‘‘তোকে যেতে আমি ফোর্স করছি না। না গেলে না যাবি। আমি কী করব সেটা নিয়ে প্লিজ় তোর কমেন্ট করার দরকার নেই।’’

দিদি আর দাঁড়ায়নি। নিজের ঘরে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিয়েছিল। আমি কী করব বুঝতে না পেরে তাকিয়েছিলাম মায়ের দিকে।

মা গম্ভীর হয়ে বলেছিল, ‘‘যাও, স্নানে যাও।’’

পুঁটি আমায় বলত, ‘‘তোর প্রবলেমটা কী জানিস? বেকার যুদ্ধ করিস! সেই যখন মেনেই নিবি, তখন ফালতু ব্যাটারি খরচ করার কী মানে বুঝি না!’’

মায়ের কথা শুনে মনে হয়েছিল, পাশে থাকলে পুঁটি আমার দিকে তাকিয়ে ভুরু নাচিয়ে হাসত। কিন্তু পুঁটি নেই আমার পাশে। এত দিনের চেনা ছেলেটা কেমন যেন পালটে গিয়েছে একদম। না হলে সে দিন অমন করে এক কাফেটেরিয়া লোকের সামনে আমায় অপমান করে! আমার তো চোখে জল এসে গিয়েছিল। আমি দেখতে পাচ্ছিলাম আশপাশের সবাই তাকাচ্ছে। কী যে লজ্জা করছিল! আমি কী এমন খারাপ কথা বলেছিলাম! পুঁটি কি বুঝতে পারছে না যে, এটা প্রেম নয়, এটা মোহ মাত্র! সত্যি প্রেম হলে এমন ‘হারাই হারাই’ করত না! প্রেম অনেক শান্ত করে মানুষকে। ছাড়তে শেখায়। মোহ মানুষকে এমন পাগল করে।

 

আসলে মেয়েটা ওকে সরিয়ে অন্য ছেলের কাছে গিয়েছে বলে ওর মেল ইগো হার্ট হয়েছে। এটা আর প্রেম যে এক নয়, সেটা ও বুঝতে পারছে না! অবশ্য ছেলেরা বেশির ভাগই এমন হয়। হাফ সেদ্ধ, ইগোসর্বস্ব। সবটাই ওদের কাছে বাইনারি। হ্যাঁ বা না। আরে বাবা, জীবন তো আর ট্রু-ফল্‌স খেলা নয়।

আমি দ্রুত ভেবে নিয়েছিলাম কী করতে হবে। মা দিদির সঙ্গে পেরে ওঠে না। তাই সব জুলুম আমার উপর। জানি, না গেলে মা এখনই কান্নাকাটির বাক্স খুলে বসবে। তার পর কাউকে না পেয়ে বাবাকে উঠতে বসতে বকাবকি করবে। বাবাকে বাঁচাবার জন্য আমি ঠিক করেছিলাম দীপ্যদার ওখানে যাব।

স্নানে ঢোকার আগে আমি তাই নেপালদাকে ফোন করেছিলাম। আমার জায়গায় মিটিংটা যেন নেপালদা সামলে নেয়।

নেপালদা বলেছিল, ‘‘কোনও সমস্যা নেই। সামলে নেব আমি। তা যাবেটা কোথায়?’’

আমি সংক্ষেপে বলেছিলাম দীপ্যদার ব্যাপারটা।

নেপালদা আঁতকে উঠেছিল, ‘‘ভাইরাল! ওরে বাবা! ডেঙ্গু না কি? আজকাল খুব হচ্ছে। সবার হচ্ছে। আমি তো সারা ক্ষণ, ওই মশা মারার জন্য একটা রোল-অন আছে না, সেটা নিয়ে ঘুরি! নিজেও লাগাই জামায় আর অন্যদেরও লাগিয়ে দিই। তোমার বৌদি রাগ করে! বলে যার-তার গায়ে হাত দিয়ে সব লাগাচ্ছ, কোন দিন ধোলাই খাবে! কিন্তু আমি শুনি না। সমাজসেবা করতে গিয়ে সবাইকে মার খেতে হয়েছে। বিদ্যাসাগর মহাশয়ও বাদ যাননি। ঠিক না?’’

আমি কী বলব বুঝতে পারছিলাম না। নেপালদার ব্রেক কাজ করে না। থামতেই জানে না। লোকজনের গায়ে মশা মারার রোল-অন লাগানোর সঙ্গে বিদ্যাসাগর!

আমি শুধু বলেছিলাম, ‘‘শুধু দয়া করে নিজের নেপাল নামটা বোলো না। ভাল নামটা বোলো!’’

নেপালদা বলেছিল, ‘‘সে ঠিক আছে। তুমি
কিন্তু সাবধানে যেয়ো। ভাইরাল শুনলেই আমার টেনশন হয়!’’

 

মিছিল শেষ হয়ে গিয়েছে এ বার। সিগন্যাল সবুজ হয়েছে। চার দিকের গাড়িগুলো মাঝরাতের শিয়ালের মতো ডাকতে শুরু করেছে। আরে বাবা, হর্ন দিলেই কি এগনো যাবে না কি? এ দেশের মানুষজন কেমন, গাড়িওলারা কি জানে না! রাস্তা পার হতে নেই যখন, তখনই সবাই দু’দিকে দু’হাত তুলে সব গাড়ি থামাতে থামাতে রাস্তা পার হবে!

তাই এই শহরে হর্ন বাজে এত। আর এই তীক্ষ্ণ শব্দের প্রভাবেই হয়তো শহরের মানুষজনের মাথা সব সময় গরম! সবাই সারা ক্ষণ রেগে, দাঁত মুখ খিঁচিয়ে থাকে।

দীপ্যদার বাড়ি সল্টলেকে। খুব সুন্দর দেখতে। গেট দিয়ে ঢুকে বাগান। তার পর চারতলা বাড়ি। দুধ সাদা রং। মেঘলা আকাশের সামনে বাড়িটাকে মনে হল ভ্যানিলা আইসক্রিম দিয়ে তৈরি!

দীপ্যদা নিজের ঘরেই ছিল।

এই বাড়িতে আমি অনেক বারই এসেছি। দীপ্যদা, বাবা মায়ের সঙ্গে থাকে। বাড়িতে চার-পাঁচ জন কাজের লোক আছে। দীপ্যদার বাবা ডাক্তার। নিজেদের নার্সিংহোম আছে। দীপ্যদার মায়ের বুটিক আছে সিটি সেন্টার ওয়ান-এ। বেশ নামকরা বুটিক। এক একটা শাড়ির দাম দশ হাজার টাকা মিনিমাম। কাকিমা সারা দিন সেখানেই থাকে। আমি
মাঝে মাঝে ভাবি এই দেশে এত টাকা দিয়ে জিনিস কেনে ক’জন!

আজ উইক ডে। তাই বাড়িতে কেউ নেই। বাড়ির যে ক’জন কাজের লোক, তাদের মধ্যে রীতাদি হল হেড। ভদ্রমহিলার বয়স মধ্য-চল্লিশ। বিয়ে-থা করেনি। দীপ্যদার মায়ের রাইট হ্যান্ড বলা যায়। আমাকে ভালই চেনে।

আজ আমায় দেখামাত্র হাসল রীতাদি। বলল, ‘‘বাবু উপরে আছে। তুমি আসবে জানতাম। চলে যাও সোজা।’’

দীপ্যদাদের চারতলা বাড়িতে লিফট আছে। কিন্তু আমি হেঁটেই উঠলাম। চার দিক দামি আসবাবে ভর্তি। কত টাকা এদের! আমার মনে পড়ে গেল রাস্তায় থাকা সেই সব মানুষের মুখ। নানা অনুষ্ঠানবাড়ির উদ্বৃত্ত খাবার নিয়ে আমরা যখন যাই ওদের কাছে, ওরা এমন করে ছুটে আসে যে ভাবা যায় না! আমি বুঝি, মানুষ আসলে খিদে দিয়ে গড়া।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন