Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১৯ অক্টোবর ২০২১ ই-পেপার

Petrol Price Hike: ডিজেলের চড়া দামে লাভ দেখছে কাটা তেলের বাজার

নির্মল বসু 
বসিরহাট ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৮:২৮
বেআইনি: রাস্তার ধারে থরে থরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে কাটা তেল ভরা বোতল। বসিরহাটের শাকচূড়ায়।

বেআইনি: রাস্তার ধারে থরে থরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে কাটা তেল ভরা বোতল। বসিরহাটের শাকচূড়ায়।
নিজস্ব চিত্র।

অগ্নিমূল্য গ্যাস। হেঁসেল সামলাতে হিমসিম মানুষ। এ দিকে, পেট্রল-ডিজেলের ঊর্ধ্বমুখী দামের প্রভাব পড়ছে সর্বত্র। বাড়ছে জিনিসের দাম। পথে গাড়ি বের করতে পকেটে চাপ পড়ছে সকলেরই। এই পরিস্থিতিতে সস্তার ‘কাটা তেল’-এর রমরমা জেলায় জেলায়। তার জেরে আবার বাড়ছে দূষণ। খোঁজ নিল আনন্দবাজার

খোলা বাজারে রমরমিয়ে বিক্রি হচ্ছে কাটা তেল। বসিরহাট মহকুমার বিভিন্ন জায়গায় চোখে পড়ছে এই ছবি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সম্প্রতি বসিরহাট, হিঙ্গলগঞ্জ, মিনাখাঁ-সহ বিভিন্ন এলাকায় অনেক বেড়ে গিয়েছে এই ভেজাল জ্বালানির ব্যবহার। দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। এর প্রভাব মারাত্মক হতে পারে বলেই আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

মূলত ডিজেলচালিত যানবাহন বা অন্য যন্ত্রে ডিজেলের পরিবর্তে কাটা তেল ব্যবহার হয়। গত কয়েকদিনে ডিজেলের দাম বাড়ায় অপেক্ষাকৃত কম দামি কাটা তেলের চাহিদাও বেড়েছে কয়েকগুণ। অটো, ট্রাক, মোটর ভ্যান, ভুটভুটি থেকে শুরু করে জমিতে সেচের কাজে ব্যবহৃত পাম্প, জেনারেটর— সবই চলছে কাটা তেলে।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রের খবর, কেরোসিনের সঙ্গে রাসায়নিক মিশিয়ে তৈরি হয় এই ভেজাল তেল। প্রথমে কেরোসিনের মধ্যে দেওয়া হয় ব্লিচিং পাউডার। সঙ্গে সঙ্গে কেরোসিন তেলের রং বদলে হয়ে যায় সাদা। ওই সাদা তেলে মেশানো হয় গিয়ার অয়েল। গিয়ার অয়েল মেশানোর কয়েক মিনিটের মধ্যেই ওই তেলের রং একেবারে হুবহু ডিজেলের মতো দেখতে হয়। এক বিক্রেতা জানালেন, এক লিটার কেরোসিন তেলে ২০০ গ্রাম ব্লিচিং পাউডার ও ৫০ গ্রাম গিয়ার অয়েল দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে এক লিটার কাটা তেল তৈরিতে খরচ পড়ে ৫০ টাকার মতো। তা বাজারে বিক্রি হয় ৬০-৭০ টাকা প্রতি লিটার দরে। সে জায়গায় এক লিটার ডিজেলের বর্তমান দাম প্রায় নব্বই টাকার আশেপাশে ঘোরাঘুরি করছে।

পেট্রলে কেরোসিন মিশিয়েও বিক্রি হচ্ছে অনেক জায়গায়। তাতেও দূষণ বাড়ছে। মিনাখাঁর দেউলি বাজার, বকচরা বাজার, সন্দেশখালির দাউদপুর বাজার, খুলনা বাজার, হিঙ্গলগঞ্জের লেবুখালি বাজার, মামুদপুর বাজার, বাদুড়িয়া, স্বরূপনগর, টাকি, সব জায়গাতেই রাস্তার ধারে দোকানে-দোকানে পানীয় জলের বোতলে বিক্রি হয় এই তেল। বাজারের থেকে বেশি দামে এই তেল বিক্রি করা হয়।

বসিরহাটের এক চিকিৎসকের কথায়, “এই ভাবে কাটা তেল ব্যবহারের ফলে পরিবেশে বাড়ছে কার্বন মনোক্সাইডের পরিমাণ। সাধারণ ডিজেল ব্যবহার করলে যে পরিমাণ কার্বন মনোক্সাইড তৈরি হয়, তার থেকে অনেক গুণ বেশি তৈরি হয় এই ভেজাল তেল ব্যবহার করলে। এর ফলে পরিবেশ ও মানব জীবনে ক্ষতি হচ্ছে।” মিনাখাঁ ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক সুমন দাস বলেন, “অবিলম্বে এই ভেজাল তেলের ব্যবহার বন্ধ করা উচিত। এ ভাবে ধীরে ধীরে পরিবেশে কার্বন মনোক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে গেলে আগামী দিনে মানুষের শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাবে। দ্রুত কিডনি খারাপ হয়ে যাবে। বিশেষ করে শিশুদের বিকাশ সঠিক ভাবে হবে না। মস্তিস্কের সমস্যা দেখা দেবে।”



Tags:

আরও পড়ুন

Advertisement