Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৪ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

বাজারে চড়েছে দাম, ঘাটতি তরমুজের বিক্রিতে

নিজস্ব সংবাদদাতা
, কাটোয়া ০৯ মে ২০১৬ ০১:১২
দেখা নেই খদ্দেরের। কাটোয়ায় অসিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা ছবি।

দেখা নেই খদ্দেরের। কাটোয়ায় অসিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা ছবি।

গরম পড়তেই তরমুজে কামড় বসানো যাবে না, তাও কি হয়! কিন্তু এই মরসুমে ক্রেতাদের অভিযোগ, অন্য মরসুমের তুলনায় এ বার তরমুজের দাম এক লাফে বেশ খানিকটা বেড়ে যাওযার ফলেই তরমুজের স্বাদ নিতে গিয়ে পকেটে টান পড়ছে। এর জেরে এ বার বাজারে তরমুজ তেমন বিকোচ্ছে না বলে দাবি কাটোয়ার ব্যবসায়ীদের।

ব্যবসায়ীরা জানান, বালুরঘাটের গঙ্গারামপুর থেকে কাটোয়ায় তরমুজ আসে। পরিবহণ কর্মীদের সূত্রে জানা গেল, বালুরঘাট থেকে লরিতে করে তরমুজ এনে কাটোয়ার গুদাম ঘরে মজুত করার পুরো প্রক্রিয়াটির জন্য প্রায় ২০ থেকে ২২ ঘণ্টা সময় লাগে। তার জন্য ৭-৮ জন শ্রমিকের দরকার হয় বলে জানান এক ব্যবসায়ী। ফলে পরিবহণ ও আমদানি খরচ সামলে তরমুজ বিক্রি করা এমনতিই কঠিন বলে জানান ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের দাবি, এ বার তরমুজের দাম বেশ খানিকটা চড়া। কী রকম? বাজার করতে এসেছিলেন কাটোয়ার বাসিন্দা প্রভাত ঘটক। তাঁর কথায়, ‘‘অনেক সময় কিলোগ্রাম প্রতি ১৫ টাকা দরে তরমুজ কিনতে হচ্ছে।’’ অথচ এই সময় সাধারণত তরমুজের দর ১২ টাকার আশেপাশে ঘোরাফেরা করে বলে জানান বিক্রেতারা।

এই পরিস্থিতিতে ক্রেতারাও তরমুজ তেমন কিনছে না বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। বাজের চাহিদা না থাকায় খুচরো ব্যবসায়ীরাও তরমুজ বিক্রিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে। পাইকারি ব্যবসায়ী খোকন শেখের বক্তব্য, ‘‘খুচরো ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রতিবারই তরমুজের ভাল চাহিদা থাকে। কিন্তু এ বার ছবিটা উল্টো। গুদামে পড়ে পড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তরমুজ।’’ এক ব্যবসায়ী জানান কাটোয়া ও সংলগ্ন এলাকায় ফলের হিমঘর নেই। ফলে তরমুজ সংরক্ষণ করাও সম্ভব হচ্ছে না।

Advertisement

তরমুজ বিক্রি করে লাভও তেমন ঘরে তোলা যাচ্ছে না বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। কাটোয়া স্টেশন বাজারের মজুতদার নিতাই কুণ্ডু জানান, খুচরো ব্যবসায়ীদের তরমুজ বিক্রি করতে গিয়ে কিলোগ্রাম প্রতি মোটে ২৫ থেকে ৩০ পয়সা করে লাভ থাকছে। ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, এ বার চাষিরা বেশ খানিকটা চড়া দরে তরমুজ বিক্রি করছেন বলেই এমন বিপত্তি।

দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতারাও তরমুজ কিনতে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছেন না বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। সদানন্দ দাস নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘‘যা দাম। ইচ্ছে থাকলেও তরমুজ খাওয়া হল না এ বার।’’ তবে ব্যবসায়ীদের আশা, বাজারে আমের জোগান ভাল মতো শুরু হলে তরমুজের দামে খানিকটা হলেও লাগাম পড়তে পারে। সেই আশাতেই দিন গুনছেন ক্রেতারাও।

আরও পড়ুন

Advertisement