Advertisement
E-Paper

ধর্মঘট করলেই শাস্তি, নির্দেশ এমসিআইয়ের

এ বার ধর্মঘট করলে শাস্তির মুখে পড়তে পারেন চিকিৎসকরা। শেষ পর্যন্ত এ ব্যাপারে কড়া অবস্থানই নিয়েছে ‘মেডিক্যাল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া’ (এমসিআই)। গত ২২ এপ্রিল সব রাজ্যের মেডিক্যাল কাউন্সিলগুলির উদ্দেশে একটি নির্দেশিকা জারি করেছে এমসিআই।

পারিজাত বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ১৭ মে ২০১৫ ০৩:১৫

এ বার ধর্মঘট করলে শাস্তির মুখে পড়তে পারেন চিকিৎসকরা। শেষ পর্যন্ত এ ব্যাপারে কড়া অবস্থানই নিয়েছে ‘মেডিক্যাল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া’ (এমসিআই)।

গত ২২ এপ্রিল সব রাজ্যের মেডিক্যাল কাউন্সিলগুলির উদ্দেশে একটি নির্দেশিকা জারি করেছে এমসিআই। তাতে বলা হয়েছে, কোথাও চিকিৎসকেরা ধর্মঘট শুরু করেছে জানতে পারলেই এ বার থেকে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের মেডিক্যাল কাউন্সিল যেন তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।

শনিবার, ১৬ মে এই নির্দেশিকা হাতে পাওয়ার পরেই পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক রাজ্যের মেডিক্যাল কাউন্সিল একে সমর্থন জানিয়েছে। রাজ্যের স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিকর্তা সুশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়ও জানান, স্বাস্থ্য দফতর প্রথম থেকেই ধর্মঘটী চিকিৎসকদের শাস্তির পক্ষে ছিল। অতীতে আরজিকর, ন্যাশনাল মেডিক্যাল বা নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজের মতো একাধিক জায়গায় ধর্মঘট না তুললে চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশন বাতিলের হুমকি দিয়েছিল স্বাস্থ্য দফতর। তাতে ফলও মিলেছিল।

রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের সহ-সভাপতি রাজীব গণ চৌধুরী এই নির্দেশিকার প্রেক্ষিতে জানিয়েছেন, তাঁরাও চিকিৎসক-ধর্মঘটের বিরুদ্ধে। রোগীদের প্রাণ বিপন্ন করে চিকিৎসার মতো অতি জরুরি পরিষেবা কখনও বন্ধ করা যায় না। কী ভাবে এই নির্দেশিকা কার্যকর করা যাবে, সে ব্যাপারে আগামীকাল সোমবার রাজ্য কাউন্সিলের বৈঠক বসছে।


এমসিআইয়ের সেই নির্দেশিকা। — নিজস্ব চিত্র।

চিকিৎসকেরা ধর্মঘট করলে কী শাস্তি হতে পারে, তার একটা আভাস দিয়েছেন এমসিআইয়ের ‘অ্যাডমিনিস্ট্রেশন তথা গ্রিভান্স কমিটি’র চেয়ারম্যান অজয়কুমার। তিনি জানান, সিনিয়র চিকিৎসকদের পাশাপাশি হাউসস্টাফ এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেনির মতো জুনিয়র চিকিৎসকদেরও রেজিস্ট্রেশন থাকে। ধর্মঘটে সামিল হলে সেই রেজিস্ট্রেশন বাতিল হতে পারে। এ ছাড়া জুনিয়র ডাক্তারদের মধ্যে পড়েন ইন্টার্নরাও। এঁরা এমবিবিএস পাশ করে এক বছরের ইন্টার্নশিপ করেন। ওই এক বছর তাঁদের অস্থায়ী রেজিস্ট্রেশন থাকে। ধর্মঘট করলে সেই অস্থায়ী রেজিস্ট্রেশন সংশ্লিষ্ট রাজ্য কাউন্সিল বাতিল করতে পারে। তাতে ওই ইন্টার্নের স্থায়ী রেজিস্ট্রেশন পাওয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে যেতে পারে।

এমসিআইয়ের তরফে অজয়কুমার আরও জানান, গত বছর নভেম্বরে একটি মামলার রায় দিতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, চিকিৎসকদের ধর্মঘটের বিরুদ্ধে এমসিআই ও রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলগুলির ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এর পরেই গত ১৬ মার্চ এমসিআইয়ের এথিক্যাল কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। তিনি বলেন, ‘‘যদি চিকিৎসকদের কোনও ধর্মঘটের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট রাজ্য কাউন্সিল ব্যবস্থা না নেয়, তখন ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সরাসরি এমসিআইয়ের কাছে অভিযোগ জানালে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারি।’’

প্রসঙ্গত, যে মামলার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট ওই রায় দিয়েছিল, ২০১২ সালে সেই জনস্বার্থ মামলা করেছিল ‘পিপল ফর বেটার ট্রিটমেন্ট।’ রোগীর অধিকার নিয়ে কাজ করে এই সংগঠন। যার তরফে অনাবাসী চিকিৎসক কুণাল সাহা বলেন, ‘‘আমরা মনে করি, চিকিৎসকদের ধর্মঘট গর্হিত অপরাধ। আশা করব এমসিআই-এর নির্দেশের পরে এ বার রাজ্য কাউন্সিলগুলি ধর্মঘটী ডাক্তারদের শাস্তি দেবে।’’ এমসিআইয়ের নির্দেশিকার সমর্থন করেছেন চিকিৎসকদের সর্বভারতীয় সংগঠন ‘ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন’-এর জাতীয় মহাসচিব কৃষ্ণকুমার অগ্রবালও।

doctor mci parijat bandopadhyay strike R G Kar medical college
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy