Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৮ নভেম্বর ২০২১ ই-পেপার

স্কুল প্রাঙ্গণে ‘ফসিল গ্যালারি’ বোলপুরে, বিশ্ব পরিবেশ দিবসের দিন আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদন
বোলপুর ০১ জুন ২০২১ ১৭:৫২
খোলা আকাশের নীচে উদ্ভিদ জীবাশ্মের নানা নমুনা নিয়ে ওই গ্যালারি তৈরি হয়েছে ছাত্রছাত্রীদের জন্য।

খোলা আকাশের নীচে উদ্ভিদ জীবাশ্মের নানা নমুনা নিয়ে ওই গ্যালারি তৈরি হয়েছে ছাত্রছাত্রীদের জন্য।

বীরভূম জেলায় এই প্রথম কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফসিল গ্যালারি তৈরি করা হয়েছে। আগামী ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবসের দিন বোলপুর উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে প্রয়াত জীবাশ্ম বিজ্ঞানী বীরবল সাহানীর নামাঙ্কিত ওই গ্যালারির।

খোলা আকাশের নীচে উদ্ভিদ জীবাশ্মের নানা নমুনা নিয়ে ওই গ্যালারি তৈরি হয়েছে ছাত্রছাত্রীদের জন্য। কয়েক কোটি বছরের পুরানো উদ্ভিদ জীবাশ্মগুলি কী ভাবে পাওয়া গেল? বোলপুর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুপ্রিয় সাধু জানিয়েছেন বোলপুর শহর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে রূপপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলকা তে ‘মোরাম’ অর্থাৎ লাল কাঁকরের খাদন খুঁড়তে গিয়ে জীবাশ্মগুলি উদ্ধার হয়। কিন্তু বহুদিন সেগুলি অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে ছিল। তাঁর কথায় ‘‘আমরা এরপর ভেবে দেখলাম, ওই ভাবে পড়ে থাকলে বিভিন্ন প্রাকৃতিক আঘাতে জীবাশ্মগুলি নষ্ট হয়ে যেত পারে। পাশাপাশি, স্কুলের পড়ুয়াদের কৌতুহল ও শিক্ষার কথা ভেবে সেগুলি উদ্ধার করে স্কুল প্রাঙ্গণে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। রুপপুর গ্রামের স্থানীয়দেরদের সহয়তা নিয়ে স্কুল প্রাঙ্গণ নিয়ে আসি ফসিলগুলিকে।’’

তিনি জানান, এই প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছিল ২০২১-এর ২১ এপ্রিল। ২৭ মে কাজ সম্পন্ন হয়।’’ সুপ্রিয়ের কথায়, ‘‘এত সময় নেওয়ার কারণ ছিল একটাই— সাবধানতা অবলম্বন। যাতে উদ্ভিদ জীবাশ্মগুলি আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে আকৃতি নষ্ট না হয়ে যায়। আমারা এখনও পর্যন্ত ২৫টি জীবাশ্ম সংগ্রহ করতে পেরেছি। এর মধ্য ৫-৬ টি জীবাশ্মের ওজন ২-৩ কুইন্টাল। ১০ টির ওজন ৬০-৭০ কিলোগ্রাম। বাকিগুলির ওজন ৩০-৫৫ কিলোগ্রাম। আমরা ওই এলাকায় এখনও জীবাশ্মের সন্ধান চালাচ্ছি। কয়েকটিকে খুঁজেও পেয়েছি। দেখেছি, গ্রামের রাস্তার উপর ‘স্পিড ব্রেকার’ হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে ১০ -১২ কিলোগ্রামের উদ্ভিদ জীবাশ্ম।’’

Advertisement

ভূতত্ত্ববিদেরা জানাচ্ছেন, বীরভূম জেলার ইলামবাজার, রূপপুর-সহ অজয় নদীর তীরবর্তী অঞ্চল রাজমহল-ছোটনাগপুর রেঞ্জ বলে পরিচিত। এই অঞ্চলে থেকে বহু পুরানো, বৃহৎ আকারের উদ্ভিদ জীবাশ্মের দেখা মেলে। কিন্তু সংরক্ষণের অভাবে সেগুলি নষ্ট হবে। তাই বোলপুর উচ্চবিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ জীবাশ্ম রক্ষার পক্ষে এক বড় পদক্ষেপ। বোলপুর কসবার বাসিন্দা, প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল শিক্ষক কৃষ্ণগোপাল ঘোষ জানান, ‘কার্বন ডেটিং’ পদ্ধতিতে জীবাশ্মগুলির সঠিক বয়স নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি কী ভাবে পরিবর্তিত হয়েছে, জীবাশ্মগুলিতে রয়েছে তার প্রমাণও।

আরও পড়ুন

Advertisement