একশো দিনের কাজ প্রকল্পে ব্যক্তিগত পুকুর সংস্কার বন্ধ করে দিল কেন্দ্র সরকার। শুধু ব্যক্তিগত নতুন পুকুর কাটা যাবে। তবে, যাঁর জমিতে পুকুর কাটা হবে তাঁকে মৎস্য দফতরে হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে যে ওই পুকুরে তিনি মাছ চাষ করবেন। চলতি মাস থেকেই নতুন নিয়ম চালু হবে বলে জানিয়েছে প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজ্য সেল।
কেন এমন সিদ্ধান্ত?
প্রকল্পের রাজ্য সেল সূত্রের খবর, একশো দিনের কাজ প্রকল্পে কোন কাজ করা যাবে, কোনটা যাবে না সে বিষয়টি এতদিন খুঁটিয়ে দেখেনি কেন্দ্র। কিন্তু এ বার থেকে প্রতিটি কাজ খুঁটিয়ে দেখছে তারা। তা ছাড়া, একশো দিনের প্রকল্পে এমনিতেই স্থায়ী সম্পদ সৃষ্টি করার কথা বার বার বলা হচ্ছে। নতুন পুকুর কাটা হলে যেমন স্থায়ী সম্পদ হবে, তেমনই পুরনো পুকুর সংস্কারের নামে দুর্নীতির প্রবণতাও কমবে বলে মনে করছেন সেলের এক পদস্থ কর্তা। তিনি বলেন, ‘‘পুরনো পুকুরে কোনও ব্যক্তি তো মাছ চাষ করেই থাকেন। সেই পুকুর সংস্কার করা হলে মাছ চাষের পরিধি বাড়বে না। কিন্তু নতুন পুকুর কাটালে মাছ চাষের এলাকা বাড়বে। স্থায়ী সম্পদ হবে।’’
কিন্তু নতুন সিদ্ধান্তে কত গ্রামবাসী নিজেদের জমিতে নতুন পুকুর কাটাতে আগ্রহী হবেন, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তাদের কেউ কেউ। তাঁদের আশঙ্কা, পুরনো পুকুর সংস্কার বন্ধ হওয়ায় ‘জল ধরো, জল ভরো’ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কমবে কাজের ক্ষেত্র।
এ রাজ্যে একশো দিনের কাজ প্রকল্পে যে পরিমাণ কাজ হয়, এতদিন তার একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল পুরনো পুকুর সংস্কার। ‘জল ধরো, জল ভরো’ প্রকল্পের সাফল্যের ক্ষেত্রেও ব্যক্তিগত পুকুর সংস্কারের একটা বড় ভূমিকা ছিল। কোনও ব্যক্তি পঞ্চায়েতের কাছে আবেদন জানালে তাঁর পুকুরটি ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে গভীর করা হতো। পাড় বাঁধানো হতো। অবশ্য সেই কাজে ইতিমধ্যেই অনিয়মের নমুনা পেয়েছে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক দল। সম্প্রতি হাওড়ার শ্যামপুর-১ ব্লকের একটি পঞ্চায়েতে পুকুর সংস্কারের কাজ দেখতে গিয়ে অবাক হয়ে যান ওই দলের সদস্যেরা। তাঁরা গিয়ে দেখেন যে পুকুর সংস্কার করা হয়েছে বলে রিপোর্ট দেওয়া হয়েছিল, সেই পুকুরটি আদৌ সংস্কারই হয়নি। এমন উদাহরণ আরও রয়েছে।