Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২১ অক্টোবর ২০২১ ই-পেপার

হুগলি

শিশুশ্রমিক স্কুলে কী পঠনপাঠন চালু থাকবে, ধন্দে প্রশিক্ষকেরা

নিজস্ব সংবাদদাতা
আরামবাগ ০৪ এপ্রিল ২০১৫ ০১:৪৫

মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাস আগেই হুগলির সব ক’টি শিশুশ্রমিক স্কুল বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিল জেলা প্রশাসন। ছাত্রছাত্রীদের মূল স্রোতের স্কুলে স্থানান্তরের নির্দেশও দেয় তারা। অথচ, বুধবারই নিয়মমাফিক স্কুলগুলির ছ’মাসের মেয়াদ বাড়িয়ে পঠনপাঠনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ছাড়পত্র দিয়েছে কেন্দ্র। এতে দোটানায় পড়েছেন শিশুশ্রমিক স্কুলগুলির প্রশিক্ষক ও কর্মীরা। মেয়াদ বাড়লেও জেলা প্রশাসন আদৌ স্কুলগুলি চালাবে কিনা, তাঁরা সে প্রশ্ন তুলেছেন।

প্রকল্পটির জেলা অধিকর্তা আনন্দমোহন মজুমদার বলেন, ‘‘পরিকল্পনামাফিকই জাতীয় শিশুশ্রমিক প্রকল্পের অধীন শিশুদের সর্বশিক্ষা মিশন প্রকল্পের আওতায় আনার প্রচেষ্টা চালাচ্ছি আমরা। কেন্দ্রীয় শ্রম ও কর্মসংস্থান দফতর রুটিনমাফিক শিশুশ্রমিক স্কুলগুলির মেয়াদ ৬ মাস বাড়ালেও বিষয়টা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। জেলাশাসককে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তিনি খতিয়ে দেখে পরবর্তী নির্দেশ দেবেন।’’

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জামেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাস আগেই হুগলির সব ক’টি শিশুশ্রমিক স্কুল বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিল জেলা প্রশাসন। ছাত্রছাত্রীদের মূল স্রোতের স্কুলে স্থানান্তরের নির্দেশও দেয় তারা। অথচ, বুধবারই নিয়মমাফিক স্কুলগুলির ছ’মাসের মেয়াদ বাড়িয়ে পঠনপাঠনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ছাড়পত্র দিয়েছে কেন্দ্র। এতে দোটানায় পড়েছেন শিশুশ্রমিক স্কুলগুলির প্রশিক্ষক ও কর্মীরা। মেয়াদ বাড়লেও জেলা প্রশাসন আদৌ স্কুলগুলি চালাবে কিনা, তাঁরা সে প্রশ্ন তুলেছেন।তীয় শিশু শ্রমিক কল্যাণ প্রকল্পের অধীনে হুগলিতে ২০০৬ সাল থেকে মোট ৬৮টি শিশুশ্রমিক স্কুল চলছিল। পরে তা কমে দাঁড়ায় ৬৫টি। স্কুলপিছু ৫০ জন ছাত্রছাত্রী। প্রশিক্ষক এবং কর্মী মিলিয়ে চার জন। ওই সব স্কুলের পড়ুয়াদের মাথাপিছু ১৫০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হয়। প্রশিক্ষক ও কর্মীদের বেতন যথাক্রমে চার হাজার ও দু’হাজার টাকা। ওই টাকার পুরোটাই দেয় কেন্দ্র। প্র তি ছ’মাস অন্তর স্কুলগুলির মেয়াদ বাড়ানো হয়। ইটভাটা, হোটেল, চায়ের দোকানে কাজের সঙ্গে যুক্ত ছেলেমেয়েদেরই ওই স্কুলগুলিতে পড়ার কথা।

Advertisement

হুগলিতে স্কুলগুলির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল চলতি বছরের ৩১ মার্চ। পরবর্তী মেয়াদ আরও বাড়ানো হবে কিনা, কেন্দ্র সরকারের সেই নির্দেশিকার আগেই গত ১৭ ডিসেম্বর স্কুলগুলির ছাত্রছাত্রীদের মূলস্রোতের স্কুলে ভর্তির নির্দেশ জারি করে জেলা প্রশাসন। সেই নির্দেশিকা পাঠিয়ে দেওয়া হয় সমস্ত ব্লক এবং পুরসভায়। কর্মচ্যুত হওয়ার আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েন স্কুলগুলির প্রশিক্ষক এবং কর্মীরা। বাড়তে থাকে তাঁদের ক্ষোভ-বিক্ষোভ। স্কুলগুলি থেকে ছাত্রছাত্রী তুলে না-নেওয়ার দাবিতে পুরসভা-ব্লক অফিস-মহকুমাশাসকের দফতর, এমনকী জেলাশাসকের দফতরেও কয়েক দফা ধর্না কর্মসূচিতে সামিল হন তাঁরা। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা মূল স্রোতের স্কুলে ভর্তিও হয়ে গিয়েছে।

ওই সব প্রশিক্ষক এবং কর্মীদের অভিযোগ ছিল, জেলা প্রশাসন নিজেদের গাফিলতি ঢাকতে অন্যায় ভাবে প্রকল্পটিকে তুলে দিতে চাইছে। তাঁরা এক বছর ধরে বেতন পাচ্ছেন না। পড়ুয়াদের ভাতাও বন্ধ করে দেওয়া হয় কয়েক মাস ধরে। স্কুলে প্রতি মাসে একদিন ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও এক বছরে তা হয়নি। প্রকল্প সংক্রান্ত হিসাব-নিকাশ বা কাগজপত্র জেলা প্রশাসন ঠিক সময়ে কেন্দ্রে না পাঠানোতেই যে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে, তা থেকে উদ্ধার পেতেই জেলা প্রশাসন প্রকল্পটি চালাতে চায় না বলে তাঁদের দাবি।

যদিও প্রশিক্ষক ও কর্মীদের অভিযোগগুলি মানতে চাননি জেলা প্রশাসনের কর্তারা। তাঁদের দাবি, বরাদ্দ মিললেই প্রশিক্ষক-কর্মীদের বেতন এবং পডুয়াদের ভাতা দিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। প্রকল্পের যথাযথ হিসাব-নিকেশও যথাসময়ে কেন্দ্রে পাঠানো হয়। কিন্তু ইতিমধ্যে যে সব স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের মূল স্রোতের স্কুলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাদের ফের শিশুশ্রমিক স্কুলে ফিরিয়ে আনা হবে, নাকি নতুন ছাত্রছাত্রী ভর্তি করানো হবে, প্রশাসনের কর্তাদের থেকে সে উত্তর মেলেনি।

পথ অবরোধ। কলকাতায় সংগঠনের আইন অমান্যে পুলিশের লাঠিচার্জের প্রতিবাদে শুক্রবার পশ্চিম মেদিনীপুরের বিভিন্ন এলাকায় পথ অবরোধ করে এসএফআই। মেদিনীপুর, খড়্গপুর, ঝাড়গ্রাম, ডেবরা-সহ বেশ কিছু এলাকায় অবরোধ হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনের জেলা নেতৃত্ব। এসএফআইয়ের পথ অবরোধের জেরে এদিন কিছু এলাকায় যানজটেরও সৃষ্টি হয়। নাকাল হন পথচলতি মানুষ।

আরও পড়ুন

Advertisement