×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২০ এপ্রিল ২০২১ ই-পেপার

কলকাতার কড়চা

১৮ মে ২০১৫ ০০:০১

শখের সংগ্রাহকরা এক মঞ্চে

ইতিহাসের উপাদান নিয়েই তো গড়ে ওঠে সংগ্রহশালা। তবে সব ক্ষেত্রেই সেই উপাদান যে ঠিকঠাক সংরক্ষিত হয় এমন নয়। আর এই জায়গাতেই বিরাট ভূমিকা থেকে যায় শখের সংগ্রাহকদের। অনেকেই বলেন পাগলামি, আবার কেউ বলেন নেশা। সে যাই হোক, এই নেশাটুকুর জন্যে অনেক ক্ষেত্রেই রক্ষা পেয়ে যায় অমূল্য ঐতিহাসিক উপাদান। এই শহরেই তো রয়েছেন এমন বহু সংগ্রাহক। দলিলদস্তাবেজ, মুদ্রা, পোর্সেলিন, পুতুল, পেতলের বাসন, মূর্তি, ডাকটিকিট, চিঠি, বিখ্যাত মানুষদের সই, চাবির রিং, বুকমার্ক, পেনসিল, দেশলাই— এমন আরও কত কী রয়েছে সেই সব সংগ্রহে। বহুদিন ধরে নানা চেষ্টা চলছিল এমন সংগ্রাহকদের এক ছাতার তলায় নিয়ে আসার। সম্প্রতি খানিকটা সফল হয়েছে সেই চেষ্টা। কলকাতার বিড়লা শিল্প ও কারিগরি সংগ্রহালয়ে এঁদের নিয়েই গড়ে উঠেছে কালেক্টরস কর্নার। বছরভর এঁদের সংগ্রহ থেকে এখানে হবে প্রদর্শনী, বলছিলেন সংগ্রহালয়ের নির্দেশক ইমদাদুল ইসলাম। আজ আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস উপলক্ষে প্রথম প্রদর্শনীটি শুরু হচ্ছে দুপুরে।

Advertisement



বিস্তারে দেখতে ক্লিক করুন

সাতটি সংগ্রহ থেকে প্রদর্শিত হচ্ছে প্রাচীন ক্যামেরা, ঘড়ি এবং মুদ্রা। প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন সরোজ ঘোষ। সঙ্গে হ্যালো হেরিটেজের পক্ষ থেকে ঐতিহ্য সংরক্ষণ বিষয়ে পথনাটিকা। আর আছে ইউনেস্কো’র জাদুঘর দিবসের বিষয় ‘মিউজিয়াম ফর আ সাসটেনেবেল সোসাইটি’ নিয়ে আলোচনা। শ্যাডোগ্রাফিতে ‘ইনক্রেডিবল ইন্ডিয়া’ পরিবেশন করবেন অমর সেন। অন্য দিকে, এই শহরের এক খুদে সংগ্রাহক সৃজন দে সরকারের শখ দেশলাই বাক্স জমাবার। যাদবপুর বিদ্যাপীঠের একাদশ শ্রেণির এই ছাত্র তার সংগ্রহের মধ্যে দিয়ে বর্ণনা করেছে জীববৈচিত্রের নানা দিক। ২২ মে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র দিবস উপলক্ষে আয়োজিত হয়েছে সেই প্রদর্শনী এই সংগ্রহালয়েই। দেশ বিদেশের অজস্র দেশলাই লেবেল চিত্রে পৃথিবীর আদি থেকে বর্তমান পর্যন্ত— ডাইনোসর, ফুল-ফল, পাখি, গাছ, প্রজাপতি, মাছ, কীটপতঙ্গ সহ জীববৈচিত্রের নানা বিষয় তাতে তুলে ধরা হয়েছে। প্রকাশ পাবে এই সমস্ত তথ্য নিয়ে একটি খুদে ‘দেশলাই বই’ এবং বুকমার্ক। সাগা অব লাইফ শীর্ষক এই প্রদর্শনীতে দেখানো হবে দেশলাইয়ে জীববৈচিত্রের বিষয়টি নিয়ে ১ ঘণ্টার একটি তথ্যচিত্র। কালেক্টরস কর্নারে ২৪ মে এবং সাগা অব লাইফ ২৮ মে পর্যন্ত, ১০-৫.৩০ পর্যন্ত প্রতি দিন।

কাবুলিওয়ালা

‘পাগড়িপরা বণিক... কাবুলি মেঘমন্দ্রস্বরে ভাঙা বাংলায় স্বদেশের গল্প করিত...’, রবীন্দ্রনাথের ‘কাবুলিওয়ালা’ আজও বাঙালির স্মৃতিধার্য। দ্য হ্যারিংটন স্ট্রিট আর্টস সেন্টার-এ ১৬ মে যে আলোকচিত্র প্রদর্শনী শুরু হল, তার আমন্ত্রণবাক্যটিও: ‘মিট টেগোরস মডার্ন-ডে কাবুলিওয়ালা’। চলবে ২৯ মে অবধি, ১২-৭টা (রবিবার বাদে)। মোসকা নাজিব আর নাজেস আফরোজ, দুই আলোকচিত্রী ও সাংবাদিকের তোলা ছবির বিষয়: ‘ফ্রম কাবুল টু কলকাতা: অব বিলংগিংস, মেমোরিজ অ্যান্ড আইডেনটিটি’। আফগান মোসকা দীর্ঘ দিন এ দেশে, আত্মপরিচয়ের খোঁজেই এখন এখানকার আফগানরা তাঁর ছবিতে। নাজেস কলকাতারই, তাঁর ছবিতে এ-শহরের বৈচিত্র ধারণের আশ্চর্য ক্ষমতা। দু’জনে তিন বছর ধরে কলকাতার আফগানদের সামাজিক রূপান্তর ক্যামেরাবন্দি করেছেন। ১৮ মে সন্ধে সাড়ে ৬টায় সুমন মুখোপাধ্যায় ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পটি পাঠ করবেন। ২৭ মে সন্ধে সাড়ে ৬টায় ভিন্‌দেশে ঘর-বসানো এই মানুষদের নিয়ে নাজেসের সঙ্গে কথোপকথনে মানস রায়। ২৩ ও ২৯-এ নাজেস শোনাবেন তাঁদের ছবি তোলার গল্প। আয়োজক গ্যেটে ইনস্টিটিউট, ম্যাক্সমুলার ভবন।



এ বার উৎপল দত্ত

রবীন্দ্রসদনে তিল ধরানোর জায়গা নেই৷ উৎপল দত্তের পালা ‘জয়বাংলা’ তাঁরই নির্দেশনায় অভিনীত হচ্ছে৷ প্রধান চরিত্রে উৎপলবাবুর প্রিয় যাত্রাভিনেতা বিজন মুখোপাধ্যায়৷ মঞ্চের পাশে বসে মা-বাবার সঙ্গে অভিনয় দেখছে বিজনবাবুর ভাগ্নে ছোট্ট সুরজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়৷ ‘সেই অভিনয়টা আমার মনে আছে, একটা ব্যক্তিগত কারণে৷ অভিনয় দেখতে দেখতে আমার জলতেষ্টা পেল৷ মামা আমার হাত ধরে সাজঘরের দিকে পা বাড়াতেই ছুটে এলেন উৎপল দত্ত৷ বললেন, ‘‘আপনি সিন ফেল করবেন, আমি নিয়ে যাচ্ছি৷’’ সেই রোমাঞ্চ আজও ভুলিনি,’ বলছেন সুরজিৎ৷ এ বার তিনি উৎপল দত্তের চরিত্রে৷ কিন্তু চেহারায় যে আকাশপাতাল তফাত? ‘আমার উচ্চতা যখন হ্যামলেট বা সিরাজদ্দৌলা চরিত্রে অভিনয়ে প্রতিবন্ধক হয়নি তখন উৎপল দত্তেও কোনও অসুবিধে হবে না৷ অভিনয়ের উচ্চতা কতটা অ্যাচিভ করতে পারলাম সেটাই বড় কথা৷ আমার হাতিয়ার বাচিক ও শারীরিক অভিনয়৷’ প্রথম পরীক্ষা ২ জুন অ্যাকাডেমিতে৷ নাট্যরঙ্গ-র প্রযোজনায় সুরজিতেরই লেখা নাটক ‘শের আফগানের টিনের তলোয়ার’। নাটকে অজিতেশের চরিত্রে দেবশঙ্কর হালদার৷ আর আজ অ্যাকাডেমিতে নাট্যরঙ্গ-এর ‘শ্রীশম্ভু মিত্র’ নাটকের শেষ অভিনয়, সুরজিৎ সে নাটকে শম্ভু মিত্রের ভূমিকায়৷



সাহিত্য বাসর

‘দিনের শেষে ছাদের উপর পড়তো মাদুর আর তাকিয়া।... বউঠাকরুন গা-ধুয়ে চুল বেঁধে তৈরি হয়ে বসতেন। গায়ে একখানা পাতলা চাদর উড়িয়ে আসতেন জ্যোতিদাদা, বেহালাতে লাগাতেন ছড়ি, আমি ধরতাম চড়া সুরের গান... ।’ মূলত কাদম্বরী দেবীর উৎসাহেই ঠাকুরবাড়িতে বসত এই আসর। রবীন্দ্রজীবনে তার ভূমিকা নেহাত কম নয়। সেই কথাই তুলে ধরতে আকাশবাণী কলকাতা আজ জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির উদয়শঙ্কর সভাগৃহে আয়োজন করেছে ‘কাদম্বরী সাহিত্য বাসর।’ রেডিও সেটের ওপারে নয়, মুখোমুখি বসেই শ্রোতারা শুনতে পাবেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, বুদ্ধদেব গুহ, নবনীতা দেবসেন প্রমুখের সাহিত্য পাঠ। সূত্রধর সৌমেন বসু। অন্য দিকে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের উপন্যাস রাণু ও ভানু-র নির্বাচিত অংশের অনুষঙ্গে সংযোজিত কয়েকটি রবীন্দ্রসঙ্গীত ও রক্তকরবী নাটকের বিশুপাগল নন্দিনী এবং ভানুসিংহের পদাবলী প্রসঙ্গকে একসুতোয় বেঁধে সম্প্রতি রবীন্দ্রতীর্থে মঞ্চস্থ হল ‘রাণু ও ভানু’। দ্বাদশী রাণু পত্র লিখছে সাতান্ন বছরের রবিবাবু ওরফে ভানু দাদাকে। পত্রালাপের সংলাপ মূর্ত হয়ে উঠল জগন্নাথ বসু ও উর্ম্মিমালা বসুর কণ্ঠে। গানে ইমণকে সঙ্গী করে এটি প্রথম নিবেদিত হয়েছিল মাসকটে।

সুবর্ণজয়ন্তী

টাকীর জমিদার সূর্যকান্ত রায়চৌধুরী ছেলের বিয়েতে চাঁদ মিঞার কাছে থেকে ভাড়া নিয়েছিলেন ২৯৯ আপার সার্কুলার রোডের বাড়িটি। পরে পছন্দ হওয়ায় সেটি কিনে নেন। ১৯৫৬-য় রায়চৌধুরী পরিবার ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যৌথ প্রচেষ্টায় এখানে গড়ে ওঠে ডে-স্টুডেন্টস হোম। ১৯৬৫-তে দক্ষিণাংশে তৈরি হয় গভঃ স্পনসর্ড মাল্টিপারপাস স্কুল। টাকী বয়েজ স্কুলের ইতিহাসের নানা কথা জানা গেল সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষ উপলক্ষে প্রকাশিত পত্রিকা ‘মনীষা’য়। এই বিশেষ সংখ্যাটির পরিকল্পনা করেছেন শিক্ষিকা নিবেদিতা রায়। যেখানে অতীত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কথার পাশাপাশি রয়েছে ছাত্রদের লেখা ও বিশিষ্টদের সাক্ষাৎকার। একটি সাক্ষাৎকারে শিক্ষাব্রতী মীরাতুন নাহার বলেছেন, ‘ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন দিক সমৃদ্ধ করে জঞ্জাল সরিয়ে অন্ধকার বর্জন করে আলোয় ভরিয়ে তোলো তোমাদের জীবন।’

নতুন করে

‘রবীন্দ্রনাথ এবং তাঁহার সৃষ্ট সাহিত্যকে না বুঝিলে বাঙলার জাতীয় আন্দোলন তথা স্বদেশী আন্দোলনকেও সম্যক বুঝা যায় না। বর্তমান গ্রন্থে আমরা সেই দিক দিয়াই বাঙলার জাতীয় আন্দোলন এবং রবীন্দ্রনাথকে বুঝিবার চেষ্টা করিয়াছি...।’ লিখেছিলেন প্রফুল্লকুমার সরকার তাঁর জাতীয় আন্দোলনে রবীন্দ্রনাথ গ্রন্থের ভূমিকায়। দুর্লভ বইটি প্রকাশ করছে সূত্রধর। সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের ভগিনী নিবেদিতা, দেবজিত‌‌্ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত রবি-রঙ্গী রঙ্গমঞ্চ, গৌরীপ্রসাদ ঘোষের রবীন্দ্রনাথ: কবির বাণীর মর্মকথা, জয়তী গঙ্গোপাধ্যায়ের রেকর্ডে রবীন্দ্রগান (১৯০৯-১৯৪১), অঞ্জন চক্রবর্তীর শেষের কবিতার শোভনলাল। সাধারণ ব্রাহ্ম সমাজ-এ ২০-২১ মে ‘রবিপক্ষে রবীন্দ্রচর্চা’ অনুষ্ঠানে, রোজ সন্ধে সাড়ে ৬টায়। প্রথম দিন ‘রবিঠাকুরের সরস্বতী’ বিষয়ে বলবেন তপোব্রত ঘোষ, পরের দিন সুশান্তকুমার চট্টোপাধ্যায়ের উপস্থাপনায় ‘গ্রােমাফোন রেকর্ডে রবি ঠাকুরের গান’।

স্মরণ

প্রায়ই বলতেন, ‘সাংবাদিক হবে, অথচ টেনশন থাকবে না, তা হয় নাকি!’ প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকা, পরে যুগান্তর-এর বার্তা বিভাগের দায়িত্ব নেওয়ার সুবাদে ভাল করেই জানতেন চাপ কাকে বলে। কিন্তু সেই চাপ কাটানোর ওষুধও নিজেই বার করে নিয়েছিলেন। এক অমিতাভ চৌধুরির মধ্যে এক সঙ্গে বিরাজ করত তিনটি সত্তা— সাংবাদিক, রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ ও ছড়াকার। ‘না, আরও একটা সত্তা ছিল,’ স্মরণসভায় ভুল শুধরে দেন তাঁর অনুজসম, বর্ষীয়ান সাংবাদিক মনোজিৎ মিত্র, ‘অমিতদা ছিলেন সহৃদয় ব্যক্তি। পত্রিকার প্রবন্ধ থেকে মেয়ের বিয়ের জন্য সাহায্য, কেউ তাঁর কাছে এসে খালি হাতে ফিরে যায়নি।’ ১ মে ভোরে ৮৭ বছর বয়সে প্রয়াত ওই লেখক-সাংবাদিকের স্মরণসভা বিভিন্ন জনের স্মৃতিচারণায় ও রবীন্দ্রসঙ্গীতে অনুষ্ঠিত হল রবিবার সকালে রানিকুঠির রিজেন্ট পার্কের কমিউনিটি সেন্টারে, তাঁরই ইচ্ছানুসারে।

সম্মান

কেরলের মানুষ জোশি জোসেফ সেই কবে থেকে কলকাতায়, কলকাতা নিয়েই তাঁর নতুন ছবি ‘আ পোয়েট, আ সিটি, অ্যান্ড আ ফুটবলার’ (ফিল্মস ডিভিশন)। ক্যানসারে অকালপ্রয়াত কবি গৌতম সেন আর ফুটবলের কিংবদন্তি প্রদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়— শহরটার এই দুই অদম্য জীবনীশক্তিকে নিয়েই ছবিটি। এ বারে অ-কাহিনিচিত্রের জাতীয় পুরস্কারে ‘স্পেশ্যাল জুরি অ্যাওয়ার্ড’ পেল। কলকাতার আর-এক তরুণী তোর্সা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ‘টেন্ডার ইজ দ্য সাইট’ও (ফিল্মস ডিভিশন, সঙ্গে স্থিরচিত্র) জিতে নিয়েছে সেরা-র শিরোপা ‘স্বর্ণকমল’। নবদ্বীপের পাশে সমুদ্রগড় গ্রামে দশ বছরের মাঝির ছেলে হাসিবুল্লাহ, দৃষ্টিহীন, কী ভাবে তার বেঁচে থাকার জগৎ তৈরি করে নেয় শব্দের মাধ্যমে। সেরা অডিয়োগ্রাফি-র পুরস্কারও পেয়েছে ছবিটি। এঁদের সঙ্গে আরও যাঁরা জাতীয় পুরস্কার পেলেন, সবাইকেই সংবর্ধিত করবে শর্ট ফিল্মমেকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব ইস্টার্ন ইন্ডিয়া, ২৪ মে সন্ধে ৬টায়। সেই সন্ধেয় তাদের সঙ্গে নন্দন-এর যৌথ উদ্যোগে শুরু হচ্ছে আন্তর্জাতিক শর্ট ও ডকুমেন্টারি ছবির উৎসব, চলবে ২৮ মে অবধি।



‘সাথী’ লিখতে নেই

মোহনবাগান ক্লাবের নির্বাচন উপলক্ষে সদস্যদের উদ্দেশে আবেদনপত্রের সম্বোধনে লেখা হয়েছে ‘প্রিয় সাথী’। ‘সাথে’ বা ‘সাথী’ শব্দগুলি পূর্ববঙ্গের। কলকাতা বা শান্তিপুরের প্রামাণ্য বাংলা ভাষায় তারা স্বীকৃত নয়, সেখানে ‘সঙ্গে’ বা ‘সঙ্গী’ই বিধেয়। অনেকেই হয়তো বলবেন, উদার নীতির যুগে এত সাবেকিয়ানা কেন, সাথীকেও সঙ্গী করে নিলেই হয়। এ ঘোর কলিতে বাংলায় সবই চলে, ‘ধামাকা’র সঙ্গেও বাঙালি ‘সমঝোতা’ করে নিয়েছে। কিন্তু তাই বলে মোহনবাগান ইস্টবেঙ্গল এক (সাথে) হয়ে গেল? তবে তো ইংল্যান্ডের রানি এ বার মার্কিন বানানে ইংরেজি লিখলেই পারেন।

বিতর্কিত

টিপু-র চরিত্র তো শুধু বিদ্রোহী নয়, বিতর্কিত বলেই চ্যালেঞ্জিং। ইংরেজরা ছাড়াও দেশীয় রাজা-নবাবরা সক্রিয় ছিলেন তাঁকে হারাতে, এখন আবার রাষ্ট্র চেষ্টা চালাচ্ছে স্বদেশিদের তালিকা থেকে তাঁর নাম কেটে দেওয়ার...’ বলছিলেন সুপ্রিয় দত্ত। বিপ্লব বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশনায় প্রাচ্য-র নতুন নাটক ‘টিপুর স্বপ্ন’-য় টিপু সুলতানের অভিনয় করছেন তিনি। জনপ্রিয় সিনেমার অভিনেতা হলেও সুপ্রিয়র অকৃত্রিম প্রেম থিয়েটারে, পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশনে পড়ার সময় থেকে সরকারি চাকরির সঙ্গে নিয়মিত নাটক করে চলেছেন... গন্তব্য, তিস্তাপারের বৃত্তান্ত, সময় অসময়ের বৃত্তান্ত, দুখীমুখী যোদ্ধা, ফাল্গুনী, জগন্নাথ। ‘বিপ্লব নাছোড়, আর চরিত্রটাতেও নানা স্তর।’ বিপ্লব জানালেন, ‘টিপু আর কাউকে মানায়ই না। স্বাধীনতার পঞ্চাশে বিবিসি-র জন্যে রেডিয়ো-নাটক লেখেন গিরিশ কারনাড, ‘দ্য ড্রিম অব টিপু সুলতান’, তার সঙ্গে অশোক সেনের রচনা ‘আ প্রিমিটিভ ইকনমিক ফরমেশন ইন ইন্ডিয়া অব দ্য লেট এইট্টিন্‌থ সেঞ্চুরি: টিপু সুলতানস মাইসোর’ পড়েও প্রাণিত হয়েছি। ‘স্বচ্ছ ভারত’-এর বকলমে সাম্প্রদায়িক অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে দেশের বহুত্ববাদকে মর্যাদা দিতেই এ-নাটক।’ প্রথম অভিনয় ২৮ মে সন্ধে সাড়ে ৬টায় জ্ঞান মঞ্চে। স্বপ্নসন্ধানী-র ২৬-২৯ মে’র উৎসবে। রাষ্ট্রের হাতে নিহত ব্যক্তিমানুষকে নিয়েই এ বারের উৎসব, তাতে সুমন মুখোপাধ্যায় নির্দেশিত তৃতীয় সূত্র-এর ‘বিসর্জন’, স্বপ্নসন্ধানী-র কৌশিক সেনের নির্দেশনায় ‘কর্কটক্রান্তির দেশ’ ও নতুন নাটক ‘আন্তিগোনে’।



নন্দিনী



তিনি কাব্যে উপেক্ষিতা ছিলেন কি না জানা নেই, কিন্তু সিগনেট-কাব্যে তাঁর ভূমিকা ছিল অন্দরের ছন্দ রক্ষার৷ তিনি নন্দিনী গুপ্ত৷ মুদ্রণজগতের বিশিষ্ট চরিত্র দিলীপকুমার গুপ্ত ওরফে ডিকে-র সহধর্মিণী৷ ১৯৪৩-এ, সিগনেট প্রেস প্রতিষ্ঠার সময় তিনি চোদ্দো বছরের কিশোরী৷ তাঁর মা নীলিমা দেবীর বন্ধু সদ্য জেল থেকে মুক্তি পাওয়া চাচা নেহরুকে কিশোরী নন্দিনী দেখিয়ে এনেছিলেন ডিসকভারি অব ইন্ডিয়া-র গ্যালি প্রুফ৷ ‘সিগনেট প্রেস’-এর সূচনাপর্বে মা নীলিমা দেবী ও ডিকে-কে নন্দিনী সাহায্য করতেন সর্বতো ভাবে৷ তেমনই আড়ালের অস্তিত্ব তাঁর, হরবোলা পর্বে৷ ডিকে-র উৎসাহে কমলকুমার মজুমদারের পরিচালনায় তরুণ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, দীপক মজুমদারের অভিনয়ে যখন একের পর এক মঞ্চস্থ হচ্ছে বিখ্যাত নানা নাটক তখনও নন্দিনী নেপথ্যবর্তিনী৷ ১৯৬০-এ এলগিন রোডের বাড়িতে চলে এলে সিগনেট প্রেসের কাজে তাঁকে আরও সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহণ করতে হয়৷ ১৯৭৭-এ ডিকে যখন অসুস্থ তখন থেকেই নন্দিনী নিজে ছুটে গিয়েছেন বাঁধাইকরের কাছে, বেছেছেন ছাপার কাগজ, ধারণা দিয়েছেন প্রচ্ছদের৷ চার সন্তানকে বড় করেছেন, মৃত্যু পর্যন্ত পরম মমতায় আগলে রেখেছেন চির-অসুস্থ দ্বিতীয় সন্তানকে৷ আনন্দ সিগনেট পর্বেও আনন্দ পাবলিশার্সকে দিয়েছেন নানা সদর্থক পরামর্শ৷ প্রয়াত হলেন নন্দিনী দেবী৷ ইতিহাসের অনবদ্য উপাদান হিসেবে রয়ে গেল একটি তিন ফুট উচ্চতার স্ক্র্যাপ বুক, যেখানে তিনি সেঁটে রাখতেন সিগনেট সম্পর্কিত যাবতীয় কিছু।

Advertisement