Advertisement
২০ এপ্রিল ২০২৪

সকালে-বিকেলে মেট্রো বিভ্রাট, নাকাল যাত্রীরা

একই দিনে একই স্টেশনে দু’দফায় মেট্রোর দরজা-বিভ্রাটে হয়রান হতে হল যাত্রীদের। শনিবার সকাল থেকে এই জোড়া বিভ্রাটের ফলে বিঘ্নিত হয় মেট্রো পরিষেবা। প্রথম বার একটি ট্রেন স্টেশনে পৌঁছনোর পরে প্ল্যাটফর্মের দিকের দরজা না খুলে উল্টো দিকের দরজা খুলে দেওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। আবার কিছুক্ষণ পরে ওই প্ল্যাটফর্মেই পৌঁছে একটি বাতানুকূল মেট্রোর দরজা বিগড়ে গিয়ে না খোলায় ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। এ দিন দু’টি ঘটনাই ঘটেছে এসপ্ল্যানেড স্টেশনে।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৭ মে ২০১৫ ০০:১৪
Share: Save:

একই দিনে একই স্টেশনে দু’দফায় মেট্রোর দরজা-বিভ্রাটে হয়রান হতে হল যাত্রীদের। শনিবার সকাল থেকে এই জোড়া বিভ্রাটের ফলে বিঘ্নিত হয় মেট্রো পরিষেবা। প্রথম বার একটি ট্রেন স্টেশনে পৌঁছনোর পরে প্ল্যাটফর্মের দিকের দরজা না খুলে উল্টো দিকের দরজা খুলে দেওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। আবার কিছুক্ষণ পরে ওই প্ল্যাটফর্মেই পৌঁছে একটি বাতানুকূল মেট্রোর দরজা বিগড়ে গিয়ে না খোলায় ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। এ দিন দু’টি ঘটনাই ঘটেছে এসপ্ল্যানেড স্টেশনে।

মেট্রো সূত্রে খবর, এ দিন সকালে প্রথম ঘটনাটি ঘটে ১০টা ৩৪ মিনিটে। কবি সুভাষমুখী একটি মেট্রো সবে এসে দাঁড়িয়েছে এসপ্ল্যানেড স্টেশনে। যাত্রীরা নামার প্রস্তুতিও নিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু দরজা খুলল উল্টো দিকে। কয়েক সেকেন্ড ওই ভাবে থাকার পরে যাত্রীরা হইচই করে ওঠেন। অ্যালার্ম চেন ধরে টানার চেষ্টা হয়। কেউ কেউ মোটরম্যানের পিছনের দরজায় চাপড়ও মারেন। তখনই সম্বিৎ ফেরে চালকের। তিনি প্ল্যাটফর্মের দিকের দরজা খুলে দেন।

ততক্ষণে এই বিভ্রাটের খবর পৌঁছে গিয়েছে স্টেশন মাস্টারের কাছেও। স্টেশন মাস্টার প্ল্যাটফর্মে নেমে এসে যাত্রীদের কাছে ক্ষমা চান। খবর যায় মেট্রোর কন্ট্রোল রুমেও। ওই চালককে বদলানোর নির্দেশ দেয় কন্ট্রোল। পার্ক স্ট্রিটে মেট্রো পৌঁছলে অন্য চালককে পাঠানো হয়। মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এই ঘটনার তদন্ত হবে। আগের চালককে ‘বুক’ করে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষের আগে তিনি আর মেট্রো চালাতে পারবেন না।

যাত্রীদের ভোগান্তি এখানেই শেষ নয়। বিকেল তিনটে নাগাদ এসপ্ল্যানেড স্টেশনে এসে দাঁড়ায় একটি বাতানুকূল ট্রেন। প্ল্যাটফর্মে বহুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পরেও দরজা খোলেনি ট্রেনটির। অনেক চেষ্টা করেও দরজা খুলতে পারছিলেন না চালক। যাত্রীরা ট্রেনের ভিতর থেকেই দরজায় আতঙ্কিত হয়ে চাপড় মারতে থাকেন। প্ল্যাটফর্মে ফের নেমে আসেন স্টেশন মাস্টার। বহু চেষ্টায় প্রায় কুড়ি মিনিট পরে দরজা খোলে। যাত্রীরা প্ল্যাটফর্মে নেমে আসার পরে মাইকে ঘোষণা করা হয় ট্রেনটি খালি করে দিতে হবে। এর পরে ফাঁকা ট্রেন পাঠিয়ে দেওয়া হয় কবি সুভাষের কারশেডে। পরের ট্রেন এলে তাতে রওনা দেন যাত্রীরা। অন্য দিকে, কবি সুভাষে যেতে যেতেই ফাঁকা মেট্রোটির যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামত করে ফেলেন কর্মীরা। ফলে কারশেডে যায়নি ট্রেনটি। কবি সুভাষে পৌঁছে ফের যাত্রী নিয়ে দমদম রওনা হয়।

কী বলছেন মেট্রো কর্তৃপক্ষ? মেট্রোর মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক রবি মহাপাত্র বলেন, ‘‘কেন চালক উল্টো দিকের দরজা খুললেন, তার তদন্ত হচ্ছে। দ্বিতীয় ঘটনার কারণ যান্ত্রিক ত্রুটি। ট্রেন সারিয়ে পরিষেবা স্বাভাবিক করে দেওয়া হয়েছে।’’

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:
Advertisement
Advertisement

Share this article

CLOSE