Advertisement
E-Paper

পাতিপুকুর অগ্নিকাণ্ডে মেট্রোর বিরুদ্ধে অভিযোগ থানায়

পাতিপুকুর রেল সেতু লাগোয়া সুভাষ কলোনির বস্তিতে আগুন লাগার জন্য মেট্রো রেলের বিরুদ্ধে এফআইআর করলেন আগুনে মৃত নিমাই অধিকারীর দাদা প্রশান্ত অধিকারী।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ ডিসেম্বর ২০১৬ ০১:০১
সব হারিয়ে। রবিবার। — নিজস্ব চিত্র

সব হারিয়ে। রবিবার। — নিজস্ব চিত্র

পাতিপুকুর রেল সেতু লাগোয়া সুভাষ কলোনির বস্তিতে আগুন লাগার জন্য মেট্রো রেলের বিরুদ্ধে এফআইআর করলেন আগুনে মৃত নিমাই অধিকারীর দাদা প্রশান্ত অধিকারী। ওই আগুনে পুড়ে মারা গিয়েছেন প্রশান্তর ভাইঝি প্রিয়াও।

অভিযোগ, শুক্রবার গভীর রাতে মেট্রো রেলের কাজ চলার সময়ে সেখান থেকে ফুলকি ছিটকে এসে বস্তিতে আগুন লাগে। টালা থানায় শনিবার রাতে করা অভিযোগে প্রশান্ত লিখেছেন, ‘বস্তিবাসীরা সরকার (রাজ্য) ও পৌরসভার সহযোগিতা পেলেও রেলের অসহযোগিতা আমাদের অসুবিধায় ফেলে।’ মেট্রো রেলের কাজ থেকেই আগুন লেগেছে বলে শনিবার সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন কলকাতার মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ও।

মেট্রোর লাইন এবং এই জবরদখল বস্তির মাঝে উঁচু পাঁচিল রয়েছে। সে ক্ষেত্রে মাঝরাতে যদি মেট্রোর লাইনের কোনও কাজ হয়েও থাকে, তা-ও কি সেখান থেকে ফুলকি পাঁচিল টপকে বস্তিতে গিয়ে আগুন লাগাতে পারে? প্রশ্ন উঠছে তা নিয়ে। মেট্রোর জনসংযোগ আধিকারিক ইন্দ্রাণী বন্দ্যোপাধ্যায় রবিবার রাতে বলেন, ‘‘আমরা খতিয়ে দেখেছি, বস্তিতে লাগা আগুনের সঙ্গে আমাদের যে কাজ চলছে তার কোনও সম্পর্ক নেই।’’

প্রাথমিক তদন্তের পরে দমকলের দাবি, কুপি থেকে আগুন লেগেছিল ঝুপড়িতে। স্থানীয় বাসিন্দারা রবিবার জানিয়েছেন, সুভাষ কলোনির প্রায় ১৫০ জন বস্তিবাসীর মধ্যে একমাত্র নিমাইয়ের ঘরেই বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না। তিনি কুপি ব্যবহার করতেন। জানা গিয়েছে, পেশায় রিকশাচালক নিমাই প্রায়ই নেশা করতেন।

নিমাইয়ের প্রতিবেশী স্বপন মণ্ডলের কথায়, ‘‘আমরাও দেখেছি নিমাইদার বাড়ির নীচ থেকে আগুনের শিখা উপরের দিকে উঠছে।’’ বাসিন্দাদের একাংশের কথায়, এমনও হতে পারে, রাতে ঘুমের ঘোরে বিড়ি খাওয়ার পরে নিমাই তা ভাল ভাবে নেভাননি। তা থেকেই হয়তো দরমার ঘরে আগুন ধরে যায়। অনুমান, তিনি এতটাই নেশাগ্রস্ত ছিলেন যে আগুন থেকে বাঁচতে বেরিয়েও আসতে পারেননি।

রবিবার দমকলের এক আধিকারিকও বলেন, ‘‘ফরেন্সিক রিপোর্ট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত আগুন লাগার প্রকৃত কারণ বলা যাবে না। তবে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বস্তিতে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকা বাড়িটি থেকেই আগুন ছড়িয়েছে।’’ যদিও অভিযোগের আঙুল উঠেছে মেট্রোর দিকেই।

রেল সূত্রের খবর, জবরদখল হওয়া এই জমি নিয়ে মাথাব্যথা নেই রেলের। পুড়ে যাওয়া বস্তি বা তাদের লোকজনকে দেখতে শনি ও রবিবার রেলের কোনও কর্তাকে দেখা যায়নি। রেলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওখানে গিয়ে তাদের কোনও কাজও নেই। এই জমি যে তাদের, তা জানানো রয়েছে রাজ্যকে। জবরদখলকারীদের সরাতে হবে রাজ্যকেই।

মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আগুনে যাঁদের ঘর পুড়ে গিয়েছে, তাঁদের ত্রাণ শিবিরে রেখে দেখভাল করছে পুরসভা। ২১টি পরিবারের ১৬টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁদের পুনর্বাসন হবে। তবে কবে এবং কোথায়, সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন মেয়র। এ দিন পুড়ে যাওয়া
বস্তিতে পুরসভার প্রতিনিধিদের দেখা গিয়েছে। তাঁরা গিয়ে কথা বলেছেন ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে।

রবিবার সেখানে দেখা গিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীকেও। ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলার পরে অধীরবাবুর অভিযোগ, ‘‘এক দিকে নীল-সাদা রং হচ্ছে। অথচ শহরের ৪০ শতাংশ মানুষ বস্তিবাসী। বস্তিগুলি জতুগৃহে পরিণত হয়েছে। বস্তি উন্নয়ন আরও ভাল ভাবে করা দরকার।’’

ঘটনাস্থলে গিয়ে এ দিনও দেখা গিয়েছে, পুড়ে যাওয়া ২০টি ঘর থেকে হারিয়ে যাওয়া সামগ্রী সারা দিন ধরে তন্নতন্ন করে খুঁজে বেড়িয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। সেই দলেই ছিলেন তাপসী মণ্ডল। তিনি বাড়ি বাড়ি রান্নার কাজ করেন। স্বামী রিকশাচালক। স্নাতকোত্তর মেয়ের যাবতীয় সার্টিফিকেট আর কষ্টে কেনা বামনগাছির দু’কাঠা জমির কাগজপত্র পুড়ে খাক হয়ে গিয়েছে। তাঁর মেয়ে টুম্পা-র কথায়, ‘‘প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলি কী ভাবে দেব, জানি না।’’ ছিলেন রিকশাচালক সত্য কর্মকারও। পাঁচ ও দু’টাকার কয়েন সঞ্চয় করেছিলেন। রবিবার পুড়ে কালো হয়ে যাওয়া কয়েন নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। সত্যবাবুর কথায়, ‘‘কিছু টাকাও ছিল। পুড়ে গিয়েছে।’’

মৃত প্রিয়ার মা সোমা ও ছোট বোন রিয়ার এখন ঠাঁই হয়েছে পাশের দত্তবাগানে শিল্পকলা শিক্ষা সদনের ত্রাণ শিবিরে। মাঝেমাঝেই জ্ঞান হারাচ্ছেন সোমা। কাছে যেতেই বলেন, ‘‘মেয়েটা এ বার টেস্টে ভাল ফল করেছিল। অনেক রাত পর্যন্ত জেগে পড়ত। শুক্রবার আমাদের সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়েছিল। জেগে থাকলে হয়তো এই অঘটন ঘটত না।’’

Patipukur Fire Case Metro Complaint
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy