Advertisement
০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

উদ্ধার করা যায় না সব অস্ত্র, মেনে নিচ্ছেন পুলিশকর্তারাও

ভাবের ঘরে চুরি হচ্ছে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ক্ষেত্রে, আসলে বেড়েই চলেছে দুষ্কৃতীদের কব্জায় থাকা বন্দুকের সংখ্যা— হরিদেবপুরের ঘটনার পর স্বীকার করছেন লালবাজার কর্তাদের একাংশ।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১১ জুলাই ২০১৫ ০৩:৫৬
Share: Save:

ভাবের ঘরে চুরি হচ্ছে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ক্ষেত্রে, আসলে বেড়েই চলেছে দুষ্কৃতীদের কব্জায় থাকা বন্দুকের সংখ্যা— হরিদেবপুরের ঘটনার পর স্বীকার করছেন লালবাজার কর্তাদের একাংশ।

Advertisement

কোনও অপরাধে ব্যবহৃত অস্ত্র পুলিশ আসলে কী ভাবে ‘উদ্ধার’ করে, তার সাম্প্রতিকতম নজির গিরিশ পার্কের এসআই গুলিবিদ্ধ হওয়ার তদন্ত। ১৮ এপ্রিল, ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই, পুলিশ গ্রেফতার করেছিল ইমতিয়াজ নামে এক যুবককে, যে অফিসারের উপরে গুলি চালিয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ দাবি করে, যে বন্দুক থেকে এসআই জগন্নাথ মণ্ডলকে গুলি করা হয়েছিল, সেই পিস্তলটি উদ্ধার করা হয়েছে।

কিন্তু লালবাজারের একটি সূত্রের খবর, পরে বোঝা যায়, আসল ঘটনাটা অন্য। গিরিশ পার্কের ঘটনার মূল পাণ্ডা বলে অভিযুক্ত গোপাল তিওয়ারিই এক পুলিশ অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ইমতিয়াজকে ধরিয়ে দিয়েছিল। তাতে সন্তুষ্ট না হয়ে পুলিশকর্তারা অপরাধে ব্যবহৃত বন্দুকটি পেতে উদ্যোগী হন। তখন গোপাল আবার ছোটু নামে তার এক শাগরেদের মাধ্যমে একটি ৭.২ এমএম পিস্তল পুলিশের হাতে পৌঁছে দেয়। এই ছোটুকে কিছু দিন পরে বীরভূমের নলহাটি থেকে গোয়েন্দারা গ্রেফতার করেন। পুলিশের এক সূত্র বলছে, ছোটু গোপালের বাড়িতে, সিঁড়ির নীচে একটি অস্ত্রাগারের সন্ধান দেয়। তখনই জানা যায়, গোপালের কথা মতো ছোটু ওই জায়গা থেকেই একটি ৭.২ পিস্তল নিয়ে পুলিশকে পৌঁছে দিয়েছিল। কিন্তু সেটা দিয়েই জগন্নাথ মণ্ডলকে গুলি করা হয়েছিল কি না, পুলিশ সেই ব্যাপারে এখনও নিশ্চিত নয়।

এক গোয়েন্দা অফিসারের বক্তব্য, ‘‘কলকাতা জুড়ে এই রকম বহু গোপাল তিওয়ারি আছে। কিন্তু সব ক্ষেত্রে তো এসআই গুলিবিদ্ধ হচ্ছেন না। কাজেই, সেই সব চাঁইকে ধরতে স্বাধীন ভাবে কাজও করতে দেওয়া হয় না।’’ ওই অফিসারের কথায়, ‘‘পুরভোটের আগেই এক জনকে ধরেছিলাম। পাকা খবর ছিল, তার কাছে দু’টো পিস্তল আছে, আরও কিছু অস্ত্র এবং সে সবের জোগানদারের সন্ধান সে দিতে পারে।’’ তার পর? অফিসার বলেন, ‘‘আমাদের এক জন বড়কর্তা ফোনে হুকুম করলেন, ওই লোকটাকে হাল্কা কিছু কেস দিতে হবে, পার্টির ঘনিষ্ঠ সে।’’

Advertisement

লালবাজারের এক কর্তা বলেন, ‘‘সংযোজিত এলাকারে ডান্স বার গুলিতে যে কোনও রাতে হানা দিলে প্রচুর বন্দুক মিলবে, তা আমরা জানি। কিন্তু ধরার পরে যদি ছেড়েই দিতে হয়, সেই অপমান কেন সহ্য করব?’’

গোয়েন্দা বিভাগের এক সহকারী কমিশনারের বক্তব্য, ‘‘এখন বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অস্ত্র উদ্ধার করেই আমরা ভেবে নিচ্ছি, কাজ শেষ। কিন্তু অস্ত্র সরবরাহের শিকড় পর্যন্ত পৌঁছনোর দায় নিচ্ছি না।’’ তিনি জানান, গোপাল তিওয়ারির বাড়িতে অস্ত্রাগার মিলেছে দু’মাসেরও বেশি আগে। গোপাল ধরাও পড়েছে। কিন্তু এখনও জানা গেল না, গোপাল অস্ত্র সরবরাহকারীদের কোন ‘চেন’-এর মাধ্যমে অত গুলি-বন্দুক জোগাড় করেছিল এবং তারা কলকাতার আর কোন কোন দুষ্কৃতীকে সরবরাহ করে। ওই অফিসারের কথায়, ‘‘অস্ত্র সরবরাহের শিকড় পর্যন্ত পৌঁছে সেটা কাটতে হবে।’’

লালবাজারের এক শীর্ষকর্তা অবশ্য বলেন, ‘‘শুধু রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের দোহাই দিয়ে অফিসারদের একাংশ নিজেদের গাফিলতি আড়ালের চেষ্টা করছেন।’’

কবরডাঙায় গুলি বিচ্ছিন্ন ঘটনা: পুলিশ কমিশনার

হরিদেবপুরের কবরডাঙার ঘটনাকে ‘বিচ্ছিন্ন’ বলে দাবি করলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুরজিৎ করপুরকায়স্থ। শুক্রবার পুলিশের একটি অনুষ্ঠানে সুরজিৎবাবু বলেন, ‘‘এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। ২০১৪ সালে কলকাতাকে নিরাপদতম শহর বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে আমাদের আরও সতর্ক থাকতে হবে।’’

পুলিশের হিসেব বলছে, গত তিন মাসে পাঁচ বার গুলি চলেছে শহরে। পুরভোটের বিকেলে গিরিশ পার্কে দুষ্কৃতীদের গুলিতে আহত হন সাব-ইন্সপেক্টর জগন্নাথ মণ্ডল। দিন কয়েক আগে সিপি-র বাড়ির ঢিলছোড়া দূরত্বে এক ব্যবসায়ীর গাড়িকে লক্ষ করে গুলি চালায় এক দল দুষ্কৃতী। কিন্তু সব কিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে কবরডাঙা কাণ্ড। তার পরেও ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’র তত্ত্ব খাড়া করা হল কেন? অনেকের মতে, এই ঘটনায় সিন্ডিকেট রাজের সঙ্গে জড়িয়েছে তৃণমূলের একাংশের নাম। তা চাপা দিতেই সিপি-র এই মন্তব্য।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement
Advertisement

Share this article

CLOSE
Popup Close
Something isn't right! Please refresh.