Advertisement
০৬ ডিসেম্বর ২০২২

মেটেনি গোলমাল, পঞ্চম শ্রেণি অবধি ক্লাস বন্ধ হল দুই স্কুলে

অভিভাবকদের আন্দোলনের কোপ পড়ল পড়ুয়াদের উপরে। সোমবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন রানিকুঠি এলাকার ‘জি ডি বিড়লা সেন্টার ফর এডুকেশন’ স্কুলের কর্তৃপক্ষ। পাম অ্যাভিনিউয়ের ‘অশোক হল গার্লস হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল’-এও এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকছে। তবে দুই স্কুলেই ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত নিয়মিত ক্লাস হবে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

গেটে ঝুলছে ক্লাস বন্ধের নোটিস। সোমবার, জি ডি বিড়লা স্কুলে। —নিজস্ব চিত্র।

গেটে ঝুলছে ক্লাস বন্ধের নোটিস। সোমবার, জি ডি বিড়লা স্কুলে। —নিজস্ব চিত্র।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৮ নভেম্বর ২০১৪ ০২:৪৫
Share: Save:

অভিভাবকদের আন্দোলনের কোপ পড়ল পড়ুয়াদের উপরে। সোমবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন রানিকুঠি এলাকার ‘জি ডি বিড়লা সেন্টার ফর এডুকেশন’ স্কুলের কর্তৃপক্ষ। পাম অ্যাভিনিউয়ের ‘অশোক হল গার্লস হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল’-এও এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকছে। তবে দুই স্কুলেই ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত নিয়মিত ক্লাস হবে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

Advertisement

যদিও আন্দোলনকারীদের কেউ কেউ এই সিদ্ধান্তকে অভিভাবকদের মধ্যে ‘বিভাজন তৈরির প্রক্রিয়া’ হিসেবে দেখছেন। আবার অভিভাবকদেরই একাংশের মত, কর্তৃপক্ষের কাছে এ ছাড়া কোনও উপায় ছিল। তবে এ ভাবে আচমকা কোনও স্কুলে ক্লাস বন্ধ করা যায় কি না প্রশ্ন উঠেছে তা নিয়েও।

কর্তৃপক্ষের যুক্তি, এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে স্কুলের সামনে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন অভিভাবকদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, সম্প্রতি কাঁকুড়গাছিতে কিছু পড়ুয়াকে স্কুলবাসে উঠতে বাধা দেন এক দল অভিভাবক। এ নিয়ে পুলিশে অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানান তাঁরা। স্কুলগুলির পরিচালন গোষ্ঠীর মুখপাত্র সুভাষ মহান্তি বলেন, “অভিভাবকদের একাংশ এমন পরিস্থতি তৈরি করেছেন সে জন্যই এই সিদ্ধান্ত। রোজ স্কুলের সামনে বিক্ষোভ হলে স্কুল চলবে কি করে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফের পড়াশোনা শুরু হবে।”

স্কুলের এক পড়ুয়াকে যৌন নিগ্রহের ঘটনায় অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে গত সোমবার থেকে বিক্ষোভ দেখানো শুরু করেন অভিভাবকদের একাংশ। টানা তিন দিন আন্দোলন চলার পরে অভিভাবকদের তরফে এক প্রতিনিধি দল স্কুল-কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি দেন। আন্দোলন স্থগিত রাখার কথাও ঘোষণা করেন ওই অভিভাবকেরা। তখন পরিস্থিতিও কিছুটা স্বাভাবিক হয়।

Advertisement

কিন্তু এর পরেও অভিভাবকদের একাংশ একটি মঞ্চ তৈরির জন্য স্থানীয় প্রেক্ষাগৃহে বৈঠক করেন। তাঁরা একটি সংগঠন তৈরি করতেও উদ্যোগী হন। এরই মধ্যে স্কুল কর্তৃপক্ষ সোমবার সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞাপন এবং স্কুলের গেটে নোটিস ঝুলিয়ে জানিয়ে দেন, শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস বন্ধ রাখার কথা। কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত ঠিক কি না তা নিয়েও সোমবার সকালে স্কুলের গেটের সামনে অভিভাবকদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়।

তনুজা অগ্রবাল নামা এক অভিভাবক বলেন, “স্কুলগেট খুলতে না দেওয়া, বাস আটকানোর জন্যই এখন ক্ষতি হচ্ছে পড়ুয়াদের। এ সব কাজ যাঁরা করেন তাঁদের প্রতি আমার সমর্থন নেই।” অন্য দিকে আন্দোলনকারী অভিভাবকদের তরফে কল্যাণ দাশ বলেন, “অভিযুক্তের শাস্তি, স্কুলে আরও মহিলাকর্মী বাড়ানো, সিসিটিভি চালু, এবং প্রতিটি পড়ুয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছিলাম আমরা। অভিভাবকদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করতেই কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত। ভবিষ্যৎ কর্মসূচী পরে জানাব।”

তবে অনির্দিষ্টকাল ক্লাস বন্ধ করাকে উপায় মনে করেন না শহরেরই অন্য এক আইসিএসই বোর্ডের অনুমোদনপ্রাপ্ত স্কুলের অধ্যক্ষ নবারুণ দে। তিনি বলেন, “ক্লাস চালু রাখতে স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা দরকার। ক্লাস চালু রেখেই অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে সমস্যা মেটাতে হবে।”

কবে থেকে ক্লাস শুরু হবে জানতে চাইলে সুভাষ মহান্তি বলেন, “বড় সংখ্যক অভিভাবকদের থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশ্বাস মিললেই ক্লাস শুরু করব।”

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement
Advertisement

Share this article

CLOSE
Popup Close
Something isn't right! Please refresh.