সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: ভিডিয়ো থেকে নেওয়া।
শনিবারের সাংবাদিক বৈঠকের শুরুতেই ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে একের পর এক প্রশ্নবাণে বিদ্ধ করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, গা জোয়ারি করে দু’-তিন মাসের মধ্যে কমিশন এসআইআর করেছে। তার ফলস্বরূপ সাধারণ মানুষ থেকে বিএলও-দের দুর্দশা! অনেকে আত্মহত্যা করেছেন এই সময়কালে, দাবি অভিষেকের।
পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও দেশের আরও কয়েকটি রাজ্যে এক সঙ্গে এসআইআর করেছে নির্বাচন কমিশন। সেই সব রাজ্যের উদাহরণ টেনে কমিশনের বিরুদ্ধে সবর হয়েছেন অভিষেক। তাঁর দাবি, অন্যান্য রাজ্যে এসআইআরে বাড়তি সময় দেওয়া হল, পশ্চিমবঙ্গের জন্য নয় কেন? অভিষেকের দাবি, কমিশন একই দিনে কী ভাবে খসড়া তালিকা আর নাম-পদবি-সহ নানা ধরনের গরমিলের তালিকা (লজিক্যাল ডিসক্রিমেন্সি) প্রকাশ করল? নির্বাচন কমিশনকে ‘হোয়াট্সঅ্যাপ কমিশন’ বলেও তোপ অভিষেকের। তাঁর দাবি, ‘‘লজিক্যাল ডিসক্রিমেন্সি বলে একটা লিস্ট হাওয়ায় ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোনও অফিসিয়াল প্রেস রিলিজ নেই। হোয়াট্সঅ্যাপে সকলের সঙ্গে শেয়ার করেছে। এটা হোয়াট্সঅ্যাপ কমিশন। সব কিছু হোয়াট্সঅ্যাপে পাঠায়। সব স্ক্রিনশট রয়েছে। লজিক্যাল ডিসক্রিমেন্সিতে বলা হচ্ছে, ১ কোটি ৩৬ লক্ষ লোক এমন রয়েছে যাঁদের নামের বানানে ভুল হয়েছে, বাবার সঙ্গে বয়সের পার্থক্য রয়েছে। একই দিনে কোন জাদুকাঠির ছোঁয়ায় কী ভাবে খসড়া তালিকা আর লজিক্যাল ডিসক্রিমেন্সি বার করল কমিশন?’’
সীমা খন্না বলে কমিশনের এক আধিকারিককে নিশানা করেন অভিষেক। তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। তাঁর দাবি, ‘‘সীমা খন্না বলে এক ভদ্রমহিলা রয়েছেন, তাঁর ভূমিকা কী? দিল্লিতে কার অঙ্গুলিহেলনে তিনি কাজ করছেন? তাঁর চ্যাটের স্ক্রিনশট রয়েছে আমাদের কাছে। সুপ্রিম কোর্টে আমরা জমা দেব। তিনি স্বীকার করছেন, মেনে নিচ্ছেন সফট্অ্যায়ারের ভুলের কারণে হয়েছে। আপনারা তালিকা বার করুন। তালিকা প্রকাশে অসুবিধা কোথায়? সীমা খন্না ডিজি, আইটি। কমিশনের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর যদি ক্ষমতা থাকে আমার বিরুদ্ধে মামলা করুক। আমার কাছে চ্যাটের স্ক্রিনশট রয়েছে। কোন সফট্অ্যায়ারের মাধ্যমে আপনি এক কোটি ৩৬ লক্ষ বাঙালিকে সন্দেহের তালিকায় ঢুকিয়ে দিলেন? কী ভাবে আপনি করতে পারেন?’’
আগামী ৩১ ডিসেম্বর দিল্লি গিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করবেন বলে জানালেন অভিষেক। তাঁর কথায়, ‘‘আমি নিজে ৩১ তারিখ দিল্লি যাব, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে তালিকা দেখতে চাইব।’’
সাসপেন্ডেড তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের নতুন দল গড়া নিয়ে অভিষেক বলেন, ‘‘সকলের অধিকার দল গঠনের। কেউ যদি দল শুরু করতে চায় তবে তাতে অসুবিধা কোথায়? কেউ যদি নিজেকে নেতা মনে করেন, জনতাকে আপনাকে সমর্থন নিয়ে আসতে হবে। আসুক তার পরে দেখা যাবে। এখন দেখার বিষয়, জনতা কাকে সমর্থন করেন। জনতা বোকা নয়। আমাদের কিছু নেতা আছে, যাঁরা মনে করেন জনতাকে বোকা বানানো যায়। কিন্তু ভুল, জনতা সব কিছু বোঝেন।’’ অভিষেক বলেন, ‘‘কারও যদি মনে হয় তৃণমূলকে হারাব, তবে দল তৈরি করুন, নির্বাচনে লড়ুন, হারান তৃণমূলকে। সকলের অধিকার আছে দল গঠনের।’’
দিন কয়েক আগে বাগদার এক সভায় বক্তৃতার সময় শান্তনু সিএএ এবং এসআইআর নিয়ে সওয়াল করেন। তবে বক্তৃতার মাঝেই তিনি বলেন, ‘‘৫০ লক্ষ রোহিঙ্গা, বাংলাদেশি মুসলমান, পাকিস্তানি মুসলমানকে বাদ দিতে যদি আমার সম্প্রদায়ের এক লক্ষ মানুষকে ভোটদান থেকে বিরত থাকতে হয় তাতে কোনটা লাভ?’’ সেই বিষয় নিয়ে অভিষেকের তোপ, ‘‘যদি এক লক্ষ মতুয়ার নাম বাদ যায়, তবে প্রথম নামটা হোক শান্তনু ঠাকুরের। আপনি কতটা দেশভক্ত তা প্রমাণ করুক। বাইরে ঘুরবেন আর এখানে জ্ঞান দেবেন?’’
পুলওয়ামা হোক বা বাংলাদেশে ঘটা দুঃখজনক ঘটনা নিয়ে রাজনীতি করে বিজেপি, দাবি অভিষেকের। তাঁর কথায়, ‘‘তৃণমূল সরকার মৃতদেহ নিয়ে রাজনীতি করে না।’’
নন্দীগ্রামে ‘সেবাশ্রয়’ করবেন অভিষেক, আনন্দবাজার ডট কম-এ প্রথম এই নিয়ে প্রতিবেদন লেখা হয়েছিল। শনিবারের সাংবাদিক বৈঠকে অভিষেক নন্দীগ্রামে ‘সেবাশ্রয়’ করার কথা জানান। কেন তিনি সেখানে ‘সেবাশ্রয়’ করছেন, তা-ও জানান তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘আমার কাছে নন্দীগ্রাম থেকে কিছু অনুরোধ এসেছিল। ডায়মন্ড হারবারে যখন সেবাশ্রয়ের দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু করব ঠিক হচ্ছে, তখন থেকেই এক ডাকে অভিষেকে নন্দীগ্রাম থেকে ফোন করেন অনেকে। সেবাশ্রয়ের মতো ক্যাম্প করার অনুরোধ জানানো হয়। তাই আমি চেষ্টা করেছি, ওখানে আমাদের যে সব সহকর্মী রয়েছেন তাঁদের সঙ্গে কথা বলে নন্দীগ্রামে দু’টি মডেল ক্যাম্প করার। নন্দীগ্রাম-১ এবং নন্দীগ্রাম-২ ব্লকে পৃথক দু’টি ক্যাম্প হবে।’’ তার পরেই অভিষেক বলেন, ‘‘যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা এই কর্মসূচিতে আমি যে হেতু ১৫ জানুয়ারি পূর্ব মেদিনীপুর থাকব, তাই সেবাশ্রয়ের ক্যাম্প উদ্বোধন করে আমি নন্দীগ্রামে যাব।’’
অভিষেকের কথায়, ‘‘জ্ঞানেশ কুমারে বোঝা উচিত তিনি ভারত সরকারের নয়, ভারতের নির্বাচন কমিশনার।’’
অভিষেক জানান, ২ জানুয়ারি থেকে আগামী এক মাস রাস্তায় থাকবেন। ক্ষমতায় না-এসে ওঁরা চিকেন প্যাটিস বিক্রেতাকে মারতে পারে, তা হলে ক্ষমতায় এলে কী করবে? কোথায় মারছে? গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে! কেউ কোনও দিন গীতাপাঠ করেননি। অভিষেকের প্রশ্ন, হাই কোর্ট নির্দেশ দেওয়ার পরেও কেন টাকা বন্ধ রেখেছে।
অভিষেক প্রশ্ন করেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ ভোট দিয়ে যে সব বিজেপি বিধায়ক-সাংসদদের বেছেছেন, তাঁরা কেন কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনা নিয়ে একটাও প্রশ্ন করে না।
বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে এ বার নতুন স্লোগান বাঁধল তৃণমূল শিবির। ‘যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা’— শনিবার এই স্লোগান প্রকাশ করেছে তৃণমূল। প্রকাশ করা হয়েছে নতুন কর্মসূচির লোগোও। অভিষেকের কথায়, ‘‘আগামী ২ তারিখ থেকে রাস্তায় থাকব। এসআইআরের সময় আমরা কোনও কর্মসূচি নিইনি। আমাদের দায়িত্ব এবং কর্তব্য, এই ১৫ বছরে আমাদের সরকার কী কাজ করেছে, তা রাজ্যের মানুষের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দেব। আমাদের যদি মাথানত করতে হয় তবে এ রাজ্যের মানুষের কাছে করব। বিজেপির কাছে করব না।’’
অভিষেক বলেন, ‘‘উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত, তামিলনাড়ুতে বেশি লোকের নাম বাদ গিয়েছে। কিন্তু সেখানে কোনও দল পাঠানো হচ্ছে না। বাংলাকে বেছে নিয়ে দল পাঠানো হচ্ছে।’’ অভিষেকের দাবি, ‘‘ইআরও-দের তথ্য ব্যবহার করে ফর্ম ৭ পূরণ না-করে নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ইআরও জানেননি না। ব্যাকঅ্যান্ড থেকে নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কে করছে, কেন করছে, তা মিসেস খন্নাই বলতে পারবেন। কেউ আত্মসমর্থনের সুযোগই পাচ্ছেন না।’’ কার অঙ্গুলিহেলনে হচ্ছে, প্রশ্ন করেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘‘৩১ তারিখ আমাদের সময় দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে সেই সাক্ষাৎ সরাসরি সম্প্রসার করুক কমিশন।’’
অভিষেক বলেন, ‘‘বিজেপি বাংলা বিরোধী। ওরা শুধু বোনাসের রাজনীতি, ধর্মের রাজনীতি, নাম বাদ দেওয়ার রাজনীতি করে। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙে দেওয়ার রাজনীতি করে। ওরা শুধু ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও-এর রাজনীতি করে।’’
অভিষেক বলেন, ‘‘বিজেপি স্বভাবই আপনাকে লাইনে দাঁড় করিয়ে দেওয়া। কমিশন যে শুনানি করছে, তার কোনও পরিকল্পনা নেই। বিজেপি যা বলছে তাই করছে।’’
তালিকা প্রকাশ না-হলে কমিশন ঘেরাওয়ের জাক অভিষেকের।
অভিষেক বলেন, ‘‘সীমা খন্না ডিজি, আইটি। কমিশনের সঙ্গে যুক্ত।’’ তালিকার কাজে সীমার এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুললেন অভিষেক।
অভিষেকের দাবি, যদি ১ কোটি ৩৬ লক্ষ লজিক্যাল ডিসক্রিমেন্সি (নাম-পদবি-সহ নানা ধরনের গরমিলের তালিকা) হয়, তবে তার তালিকা প্রকাশ করুক কমিশন! যদি এক কোটি রোহিঙ্গা, বাংলাদেশি থাকে তবে তালিকা প্রকাশ করুক। হয় তালিকা প্রকাশ করুন, না হয় ক্ষমা চান। অভিষেকের কথায়, ‘‘বাংলার মানুষের কাছে কান ধরে ক্ষমা চান, তা হলে আর তালিকা বার করতে বলব না। তালিকা প্রকাশ করার দায়িত্ব কার? যে কাজটা বিএলও, ইআরও-দের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এক মাসের বেশি সময় লাগল, সেটা আপনি একই দিনে এক ঘণ্টার মধ্যে বার করে দিলেন? আমার কাছে তো স্ক্রিনশট রয়েছে। সীমা খন্না বলে এক ভদ্রমহিলা রয়েছেন, তাঁর ভূমিকা কী? কার অঙ্গুলিহেলনে তিনি কাজ করছেন? তাঁর চ্যাটের স্ক্রিনশট রয়েছে আমাদের কাছে। তিনি মেনে নিচ্ছেন সফট্অ্যায়ারের ভুলের কারণে হয়েছে। আমরা এই সব স্ক্রিনশট জমা দেব সুপ্রিম কোর্টে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কাউকে আড়াল করছে না। আপনাদের লিস্ট বার করতে সমস্যা কোথায়?’’
আগামী ৩১ ডিসেম্বর দিল্লি গিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করবেন বলে জানালেন অভিষেক। তাঁর কথায়, ‘‘আমি নিজে ৩১ তারিখ দিল্লি যাব, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে তালিকা দেখতে চাইব।’’
নির্বাচন কমিশনকে ‘হোয়াট্সঅ্যাপ কমিশন’ বলে তোপ অভিষেকের। তাঁর দাবি, ‘‘লজিক্যাল ডিসক্রিমেন্সি বলে একটা লিস্ট হাওয়ায় ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোনও অফিসিয়াল প্রেস রিলিজ নেই। হোয়াট্সঅ্যাপে সকলের সঙ্গে শেয়ার করেছে। এটা হোয়াট্সঅ্যাপ কমিশন। সব কিছু হোয়াট্সঅ্যাপে পাঠায়। সব স্ক্রিনশট রয়েছে। লজিক্যাল ডিসক্রিমেন্সিতে বলা হচ্ছে, ১ কোটি ৩৬ লক্ষ লোক এমন রয়েছে যাঁদের নামের বানানে ভুল হয়েছে, বাবার সঙ্গে বয়সের পার্থক্য রয়েছে। একই দিনে কোন জাদুকাঠির ছোঁয়ায় কী ভাবে খসড়া তালিকা আর লজিক্যাল ডিসক্রিমেন্সি বার করল কমিশন?’’ অভিষেকের প্রশ্ন, ভোটার লিস্ট পরিষ্কার করতে চায় তবে কেন নাম লুকাচ্ছে কমিশন?
অভিষেকের প্রশ্ন, এ রাজ্যের সঙ্গে যে সব রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া হচ্ছে, সব জায়গায় সময় বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে নয় কেন?
পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও দেশের আরও কয়েকটি রাজ্যে এক সঙ্গে এসআইআর করেছে নির্বাচন কমিশন। সেই সব রাজ্যের উদাহরণ টেনে কমিশনের বিরুদ্ধে সবর হয়েছেন অভিষেক। তাঁর দাবি, ‘‘তামিলনাড়ুতে মোট জনসংখ্যা ৭ কোটি ৭৫ লক্ষ। সেখানে বাদ যাওয়া ভোটারের সংখ্যা ৫৭ লক্ষ ৩০ হাজার। ১২.৫৭ শতাংশ। গুজরাতে জনসংখ্যা ৭ কোটি ৩৯ লক্ষ। বাদ যাওয়া ভোটারের সংখ্যা ৭৩ লক্ষ ৭৩ হাজার। প্রায় ১০ শতাংশ। ছত্তীসগঢ়ের জনসংখ্যা ৩ কোটি ১২ লক্ষ। বাদ যাওয়া ভোটারের সংখ্যা ২৭ লক্ষ ৩৪ হাজার। শতাংশে ৮.৭৬।’’
অভিষেক বলেন, ‘‘শুধু জলের টাকা, আবাসের টাকা, ১০০ দিনের টাকা, রাস্তার টাকা আটকে ওরা বসে নেই। মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নিয়ে চাইছে। এখন দেশটাকে বিজেপি এবং মোদী সরকার এমন জায়গায় নিয়ে গিয়েছে যে, কে ভোট দেবেন তা ঠিক করে দিচ্ছে সরকার। সরকার ভোটার বেছে নিচ্ছে। তৃণমূল এক মাত্র দল যারা মানুষকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।’’
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy
We will send you a One Time Password on this mobile number or email id
Or
By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy