শনিবার সকালে ধর্মতলার মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।
ধর্মতলার মঞ্চে চলছে গান। গান গাইলেন তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন। মমতা জানান, সংস্কৃতি হল আন্দোলনের প্রাণ। তুলে ধরলেন নিজের অভিজ্ঞতা।
মমতা বলেন, ‘বেচারা নীতীশ কুমার! ভোটের আগে ওবিসি নিয়ে রাজনীতি। ভোটের পরে, তুমি হলে দিল্লিবাসী। যে-ই গেছো, বিজেপির খপ্পরে , পড়েছো থাপ্পরে। দেখলেন তো আনন্দ বোসকে কী ভাবে সরানো হল। ভয় দেখিয়ে।’’
মমতা জানান, রাজ্যে মহিলাদের কী কী সুবিধা রয়েছে। মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ, মাতৃত্বকালী ছুটি।
মমতা জানান, দিনহাটায় ৩৬ হাজার নাম কেটেছে। আমার কেন্দ্রে ৬০ হাজার কেটেছে। সব কেটে নাও, চ্যালেঞ্জ রইল। কাল মিছিল হবে, গ্যাস নাই, রান্না নাই। হাড়ি, কড়াই, হাতা, খুন্তি নিয়ে প্রতিবাদ মিছিল হবে। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে। মানবিকতা পালনের জন্য মা-বোনদের রাস্তায় নামতে বলেন তিনি। কাল শাড়ি পরার কথাও জানান তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘এটা প্রতিবাদের জন্য, অশান্তির জন্য নয়। প্রতিবাদের ভাষা বেছে নিতে হবে।’’
মমতা বলেন, ‘‘কেরোসিনও নেই যে স্টোভ জ্বালাবে। বাস্তব জীবনে যা প্রয়োজন, সকলের প্রয়োজন। কেন উপহার নেওয়ার আগে পরিকল্পনা করেননি। জিনিসপত্রের দাম বাড়াচ্ছেন! বঙ্গভঙ্গ করার জন্য ভোট কাটার পরিকল্পনা! মানুষ যাতে প্রতিবাদ করেত না পারে, তাই পরিকল্পনা। প্রত্যাঘাত সহ্য করতে হবে। আমরা লেজ গুটিয়ে পালানোর লোক নই। আপনাদের মুখোশ খুলব।’’
মমতা বলেন, ‘‘গত কাল ৬০ টাকা গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। তিন দিন আগে ৪৯ টাকা বাড়িয়েছে। বড় সিলিন্ডারের দাম ২১০০ টাকা। ছোট সিলিন্ডার ১০০০ টাকা হয়েছে। ২১ দিন আগে বুক করতে হবে। গ্যাস না থাকলে কার মাথা খেয়ে থাকবেন! এগুলো আগে ভাবা উচিত ছিল না কমরেডদের? ওদের কমরেড বলি। কমরেড শব্দ শ্রদ্ধা করি। বেনামী কমরেডদের নয়। ’’
ধর্মতলার অবস্থানমঞ্চে শনিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।
মমতা বলেন, ‘‘বাংলা ভাষা দেশ স্বাধীনের অনেক আগে স্বীকৃতি পেয়েছিল। বাংলার অস্তিত্ব, অস্মিতা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, মেধা, প্রতিভা , চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির। আমি ওদের নাম নিই না। বলছে বাংলা বিহার ভাগ করে কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল করবে। ওদের ধান্দা বাংলাকে ভাগ করা। বিহারকে করেছে একবার। লুটেপুটে খাওয়া ওদের কাজ।’’
মমতা বলেন, ‘‘দেওচা পচামি হচ্ছে। এক লক্ষ মানুষের চাকরি হবে। ১০০ বছর বিদ্যুতের অভাব হবে না। সব জায়গায় বিদ্যুৎ পৌঁছে গিয়েছে। ৬ লক্ষ কোটি টাকা দেনা আগের সরকারে শোধ করেছি। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ২ লক্ষ কোটি টাকা পাই। ৮ লক্ষ কোটি টাকা বাদ দিয়ে ধনে, জিডিপি, পরিকাঠামো, রাজস্বে উপরে রয়েছি। সব উৎসব পালন হয়।’’
মমতা জানান, শয়ে শয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক হয়েছে রাজ্যে। তাঁর কথায়, ‘‘জাতীয় পলিসি করে আমাদের কয়লা নিয়ে চলে যাওয়া হয়। বদনাম দেওয়া হয়। যদিও এটা আমাদের অধীনে নয়, কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে। সিআইএসএফ দেখে, কোল ইন্ডিয়া দেখে।’’
মমতা বলেন, ‘‘আমরা জিআই ট্যাগ পেয়েছি। বর্ধমানে সীতাভোগ, মিহিদানা, বিষ্ণুপুরের বালুচরী, ডোকরা থেকে জয়নগরের মোয়া, দক্ষিণ দিনাজপুরের তুলাইপঞ্জি চাল, মুর্শিদাবাদের সিল্ক থেকে অনেক শিল্প রয়েছে, যাতে জিআই ট্যাগ পেয়েছি। অনেক ছেলে-মেয়েরা নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছি। ছ’টি ইকোনমিক করিডর সারা বাংলাকে জুড়বে।’’
মমতা জানান, রাজ্যে ছ’টি ইকোনমিক করিডোর হচ্ছে। শালবনিতে ১৬০০ মেগাওয়াটের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে দু’টি। তাঁর কথায়, ‘‘তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে রাজ্য এক নম্বরে। বেঙ্গালুরুর থেকেও বেশি মানুষ এখানে কাজ করেন। ২০০টি সংস্থা নতুন করে এসেছে। যারা বাংলাকে নিয়ে বদনাম করে, তাদের জানা উচিত, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে আমরা দেশে এক নম্বরে। চাকরি করে দেড় কোটি মানুষ। লেদার হাবে সাড়ে সাত লক্ষ মানুষ কাজ করেন।’’
মমতা জানান, ৪০ শতাংশ বেকারত্ব কমেছে। আরও ছেলে-মেয়েরা নিজের পায়ে দাঁড়ান। তাঁর কথায়, ‘‘৪০ লক্ষ ছেলে-মেয়েকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের জন্য উৎকর্ষ বাংলা প্রকল্পের সুবিধা রয়েছে। পরিযায়ী শ্রমিকেরা চাইলে সুযোগ পাবেন। পাটশিল্পের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।’’
মমতা শনিবার সকালে অবস্থান মঞ্চে মনে করিয়ে দেন রাজ্য সরকারের দেওয়া ভাতার কথা। যুবসাথী, লক্ষ্মীর ভান্ডার থেকে ভাগচাষীদের চার হাজার টাকার ভাতা। তিনি বলেন, ‘‘১ এপ্রিল থেকে বলেছিলাম যুবসাথীর টাকা অ্যাকাউন্টে যাবে। কাল আন্তর্জাতিক নারী দিবস রয়েছে। তার উপহার হিসাবে ১ এপ্রিলের দিন পরিবর্তন করে, আজ, শনিবার থেকেই তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা যাবে। ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি ৯০ লক্ষ থেকে এক কোটি ছেলেমেয়েরা দরখাস্ত করেছেন, যাঁরা অন্য কোনও সাহায্য নেন না। বৃত্তিকে ধরছি না, পড়াশোনার জন্য সেই টাকা তাদের প্রাপ্য।’’ প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক নারী দিবস হল রবিবার। তার এক দিন আগেই যুবসাথী প্রকল্পের সুবিধা পাবেন আবেদনকারীরা।
মমতা বলেন, ‘‘বিজেপি সাবধান। ভোট কেটে বাংলাকে করা যাবে না বিভাজন। বাংলা লড়াই করছে, করবে, করতে জানে। বেশি কিছু করলে তোমার দিল্লি সরকার ফেলে দেব, যাও!’
মমতা বলেন, ‘‘ভয় দেখাচ্ছে ইমপিচমেন্ট করব। কাউকে ভয় দেখাচ্ছে, এখান থেকে ওখানে সরিয়ে দেব, আমাদের হয়ে কাজ করো। খবর আমরাও রাখি। তোমরা পেগাসাস করো, আমরা জনগণ করি। জনগণের থেকে বড় খবর কেউ রাখতে পারে না।’’
মমতার কথায়, ‘‘যারা দিল্লিতে বসে রয়েছে, তারা মহম্মদ বিন তুঘলকের জ্যাঠার জ্যাঠামশাই। এ বারেও তো টিমটিম করে জ্বলছে। তেলের দাম বাড়ছে। ওদের তেল বাড়ছে। এত কিসের অহঙ্কার। আছে তো চন্দ্রবাবু নায়ডুর দয়ায় টিকে!’’
মমতা বলেন, ‘‘আনন্দবাবুকেও এখানে নিয়ে এসেছিলেন। তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হল। কারণটা যদিও আমি জানি। কিন্তু আমি বলব না। তাঁকে থ্রেট করা হয়েছে, এটুকু আমি বলব। অনেকে চায় না, রাজভবন বিজেপির পার্টি অফিস হোক। ওখানে বিজেপির টাকা বিলি হোক। সবই করে। এরা কি নৈতিকতা মানে!’’
মমতা বলেন, ‘‘অজিত পওয়ার! আমি যখন বললাম, ভাল করে তদন্ত করা উচিত, অনেকেই তখন বলেছিলেন, কেন বলছি এ সব কথা! যা বলেছি, সত্য। প্রমাণিত হয়ে গিয়েছে।’’
মমতা বলেন, ‘‘বোসকে কেন সরানো হয়েছে, সব জানি। এখন যাঁকে এনেছে, বিজেপির প্যারেড করা ক্যাডার। বিজেপি ছাড়া কোনও কাজ করেন না। বাংলা অন্য। তামিলনাড়ুতে প্রতিদিন বেচারারা ফেস করেছে। বাংলায় ভোটের একমাস আগে কেন রাজ্যপাল বদলে দিলেন। কাউকে কমপ্লিট করতে দিচ্ছেন না। ধনখড়কেও করতে দেননি। ধনখড় কী করেননি? এখান থেকে নিয়ে গেলেন উপরাষ্ট্রপতি করে। তার পরে নজরবন্দি। ভোটবন্দির মতো।’’
দু’দশক আগে সিঙ্গুরের জমি আন্দোলনের সময়ে এই ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলেই ২৬ দিন অনশন করেছিলেন মমতা। শুক্রবার চলমান এসআইআর-পদ্ধতি বিরোধী আন্দোলনে সেই প্রসঙ্গ ফিরে এসেছে মঞ্চে এবং জমায়েতেও। জয় গোস্বামী থেকে কবীর সুমনেরা সিঙ্গুর আন্দোলনের সময় থেকেই ছিলেন মমতার পাশে। শুক্রবারের মঞ্চেও হাজির ছিলেন কবি এবং সঙ্গীতকার-গায়ক। দু’জনের কথাতেই ফিরে ফিরে এল সিঙ্গুরের দিনগুলি।
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy
We will send you a One Time Password on this mobile number or email id
Or
By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy