Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১২ অগস্ট ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

কলা বিভাগে দেদার নম্বর জঙ্গলমহলেও

প্রত্যন্ত গ্রামের অনেক স্কুলেই বিজ্ঞান বিভাগ নেই। কোথাও আবার অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও পরিকাঠামোর অভাবে বিজ্ঞান বিভাগ চালু হয়নি। আবার স্কুলে বিজ

কিংশুক গুপ্ত
ঝাড়গ্রাম ১৮ মে ২০১৬ ০১:১৫
Save
Something isn't right! Please refresh.
Popup Close

প্রত্যন্ত গ্রামের অনেক স্কুলেই বিজ্ঞান বিভাগ নেই। কোথাও আবার অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও পরিকাঠামোর অভাবে বিজ্ঞান বিভাগ চালু হয়নি। আবার স্কুলে বিজ্ঞান বিভাগ থাকলেও গ্রামাঞ্চলে উচ্চ মাধ্যমিকস্তরে উপযুক্ত গৃহশিক্ষকও পাওয়া যায় না। দূরের স্কুলে বিজ্ঞান পড়তে যাওয়ার মতো আর্থিক স্বচ্ছলতাও নেই অনেকের। কিন্তু উচ্চ মাধ্যমিকে জঙ্গলমহলের কলা বিভাগের পড়ুয়ারাও উল্লেখযোগ্য ফল করে নজর কেড়েছে। কলা বিভাগে পড়েও যে ভাল ফল করা যায় সেটাই দেখিয়ে দিয়েছে তারা।

ঝাড়গ্রাম শহর থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে রয়েছে সেবায়তন বালিকা বিদ্যালয়। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের মেয়েরা এই স্কুলে পড়তে আসে। ২০১৩-১৪ সালে এই স্কুলে কেবলমাত্র কলা বিভাগে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি চালু হয়। গত বছর প্রথমবার এই স্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিল পড়ুয়ারা। গত বার সেরা ছাত্রীটি পেয়েছিল ৮৩ শতাংশ নম্বর। এবার উচ্চ মাধ্যমিকে স্কুলের মধ্যে ৮৬ শতাংশেরও বেশি নম্বর পেয়ে প্রথম হয়েছে অপর্ণা মাহাতো। প্রাপ্ত নম্বর ৪৩১। অপর্ণার বাবা রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। এই স্কুলের আর এক কৃতী ছাত্রী দিনমজুর পরিবারের মেয়ে অর্চনা মুদি পেয়েছে ৪৩০ নম্বর। কোনও গৃহশিক্ষকের সাহায্য ছাড়াই হতদরিদ্র পরিবারের দুই কিশোরী নজর কাড়া ফল করেছে।

কলা বিভাগে নম্বর ওঠে না, কলা বিভাগের বিষয় নিয়ে ভবিষ্যতে পড়াশোনার সুযোগ কম, এমন মিথ ভাঙছে কি তাহলে? সেবায়তন বালিকা বিদ্যালয়ের ভূগোলের সহ-শিক্ষিকা সেবন্তী দাশগুপ্ত জানাচ্ছেন, এখন উচ্চ মাধ্যমিকের সিলেবাসটা কার্যত প্রোজেক্ট বেস লার্নিং। ভূগোল ও পুষ্টিবিজ্ঞানের মতো বিষয়গুলিতে ৩০ নম্বর করে প্র্যাকটিক্যাল রয়েছে। বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, দর্শনশাস্ত্র-সহ কলা বিভাগের অন্যান্য বিষয়গুলিতে ২০ নম্বরের প্রোজেক্ট রয়েছে। এ ছাড়া লিখিত পরীক্ষায় অনেক বেশি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন থাকছে। ফলে, সাজেশানের বদলে পুরো পাঠ্যবই ভাল করে যারা পড়ছে তারা ভাল ফল করছে।

Advertisement

সাঁকরাইল ব্লকের রগড়া রাজা নরসিংহ মল্ল অ্যাকাডেমিতে অঙ্ক ও জীববিদ্যার শিক্ষকের অভাবে বছর তিনেক হল বিজ্ঞান শাখাটি বন্ধ রাখা হয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিকস্তরে কেবল কলা বিভাগে পঠনপাঠন হয়। এবার কলা বিভাগের দুই ছাত্রী মৌমিতা দাস ও মৌমা দে ৪৩০ পেয়ে স্কুলে যুগ্ম প্রথম হয়েছে। উত্তীর্ণ ১৩২ জন পড়ুয়ার মধ্যে ৫৭ জন ষাট শতাংশের বেশি নম্বর পেয়েছে। ৭৫ শতাংশের বেশি নম্বর পেয়েছে ন’জন। ৬ জন আশি শতাংশের বেশি নম্বর পেয়েছে। স্কুলের টিচার-ইনচার্জ সত্যেন্দ্রনাথ ঘোষের দাবি, বর্তমানে সর্বভারতীয় স্তরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির সিলেবাস তৈরি করা হয়েছে। ফলে পড়ুয়ারা মন দিয়ে পড়লেই বেশি নম্বর পাচ্ছে।

সাঁকরাইল ব্লকের রোহিনী চৌধুরানি রুক্মিনীদেবী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেরা ছাত্রী পল্লবী দাসের প্রাপ্ত নম্বর ৪৪৫। দর্শনশাস্ত্রে ৯৯ নম্বর পেয়েছে পল্লবী। লালগড় ব্লকের রামগড় মোক্ষদাসুন্দরী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৪২৬ নম্বর পেয়ে প্রথম হয়েছে কলাবিভাগের ছাত্র সুমন গরাই। সুমন ইংরেজি ও ভূগোলে পেয়েছে ৯০। দর্শনশাস্ত্রে ৯৪। জামবনি ব্লকের দুবড়া আদর্শ বিদ্যামন্দিরে বিজ্ঞান বিভাগ রয়েছে। তবে সাফল্য এসেছে কলাবিভাগে। দুবড়া স্কুলের কলা বিভাগের টুম্পা হাটুই ৪৫১ নম্বর পেয়ে স্কুলের মধ্যে প্রথম হয়েছে। এই স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের সর্বোচ্চ নম্বর ৩৭৬। বিনপুর-১ ব্লকের বিনপুর হাইস্কুলেও কলা বিভাগের ছাত্র কমল সিংহ ৪৪০ নম্বর পেয়ে স্কুলে প্রথম হয়েছে। বিনপুর স্কুলে বিজ্ঞান বিভাগের সর্বোচ্চ নম্বর ৩২১। বেলপাহাড়ি এসসি উচ্চ বিদ্যালয়ের কলা বিভাগের ধরিত্রী মাহাতো ও হরমোহন মাহাতো ৭৮ শতাংশ (প্রাপ্ত নম্বর ৩৯০) নম্বর পেয়ে স্কুলের যুগ্ম প্রথম হয়েছে। দুই পড়ুয়ার বক্তব্য, এলাকায় বিজ্ঞানের উপযুক্ত গৃহশিক্ষক পাওয়া যায় না। স্কুলেও শিক্ষকের অভাব। সেই কারণেই তারা কলা বিভাগ বেছে নিয়েছে। ঝাড়গ্রাম ব্লকের প্রত্যন্ত গ্রাম একতাল। সেখানকার একতাল ডি এম হাইস্কুলে শুধু কলা বিভাগেই উচ্চ মাধ্যম্কি পড়ানো হয়। এখানেও সর্বোচ্চ নম্বর তাক লাগানো ৪২৫। পেয়েছে মন্দিরা মাহাতো। মোট ৫২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪২জনই উত্তীর্ণ হয়েছে।

ঝাড়গ্রাম শহরের দেবায়ন দাস অবশ্য মাধ্যমিকের পরে স্ব-ইচ্ছায় কলা বিভাগে ভর্তি হয়। এবার উচ্চ মাধ্যমিকে ঝাড়গ্রামের ঐতিহ্যবাহী কুমুদকুমারী ইনস্টিটিউশনের এই ছাত্রটি ৪৭৬ নম্বর পেয়ে ঝাড়গ্রাম মহকুমার মধ্যে সম্ভাব্য প্রথম হয়েছে। দেবায়নের বাবা শিক্ষক। মা কলেজের শিক্ষিকা। দেবায়নের কথায়, “বিজ্ঞানের চেয়ে সাহিত্যে আমার আগ্রহ বেশি। কলা বিভাগেও অনেক কিছু করে দেখানোর সুযোগ রয়েছে, সেটা প্রমাণ করতে চাই।”

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)


Something isn't right! Please refresh.

Advertisement