Advertisement
E-Paper

দুর্দান্ত জয়েও পদ্ম-কাঁটা, বর্ধিত সভা ডাকল তৃণমূল

জেলার তিনটি লোকসভা আসনের সবকটিই দখলে এসেছে। প্রত্যেকটি আসনে ব্যবধানও লক্ষাধিক। তার পরেও দুর্ভাবনা কাটছে না তৃণমূলের। কারণ, সেই মোদী-ঝড়! পশ্চিম মেদিনীপুরের মতো জেলায় বিজেপির তড়িত্‌-গতিতে উত্থান নিয়ে চিন্তিত তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ মে ২০১৪ ০১:৩১

জেলার তিনটি লোকসভা আসনের সবকটিই দখলে এসেছে। প্রত্যেকটি আসনে ব্যবধানও লক্ষাধিক। তার পরেও দুর্ভাবনা কাটছে না তৃণমূলের। কারণ, সেই মোদী-ঝড়!

পশ্চিম মেদিনীপুরের মতো জেলায় বিজেপির তড়িত্‌-গতিতে উত্থান নিয়ে চিন্তিত তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব। ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মেদিনীপুর আসনে বিজেপির প্রাপ্ত ভোট ছিল ৫২ হাজার। শতাংশের হিসেবে ৫। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট বেড়ে হয়েছে ১ লক্ষ ৮০ হাজার। শতাংশের হিসেবে ১৪। উদ্বিগ্ন তৃণমূল নেতৃত্ব তাই সময় নষ্ট না করে দ্রুত ফলাফল পর্যালোচনা করতে চাইছেন। দলীয় সূত্রে খবর, আগামী ২৮ মে মেদিনীপুরে জেলা তৃণমূলের এক বর্ধিত সভা ডাকা হয়েছে। শহরের বিদ্যাসাগর হলে এই সভায় উপস্থিত থাকবেন অঞ্চল সভাপতি, ব্লক সভাপতিরা। একেবারে বুথস্তর থেকে ভোটের ফলের পর্যালোচনা হওয়ার কথা। জেলার তিনটি আসনে বিজেপির প্রাপ্ত ভোট গড়ে ১০ শতাংশ। তৃণমূল নেতৃত্ব চাইছেন, গেরুয়া-শিবিরের সমর্থনকে এখানেই বেঁধে রাখতে। কী ভাবে বিজেপিকে ঠেকিয়ে দলের সমর্থনকে অটুট রাখা যাবে, বর্ধিত সভায় সেই নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা।

আগামী ৩০ মে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের নিয়ে কলকাতায় বৈঠক রয়েছে। সেখানে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও উপস্থিত থাকার কথা। তার আগেই কেন তড়িঘড়ি মেদিনীপুরে বৈঠক কেন? তৃণমূলের জেলা কার্যকরী সভাপতি প্রদ্যোত্‌ ঘোষ বলেন, “আমরা নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার জন্যই বৈঠক ডেকেছি। বৈঠকে লোকসভার ফলাফলের পর্যালোচনাও হবে। কিছু এলাকায় আমাদের ফল না হওয়ার কারণ বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।” জেলা তৃণমূলের এক নেতা জানান, কিছু বুথে বিজেপি ভাল ফল করেছে। কেন এমন হল, সভায় ব্লক নেতৃত্ব তার রিপোর্ট দেবেন।”

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় বিজেপি একেবারেই শক্তিশালী ছিল না। খড়্গপুর, মেদিনীপুর, গোপীবল্লভপুর, গড়বেতার মতো কিছু এলাকা বাদ দিলে এতদিন গেরুয়া-শিবিরকে দূরবীন দিয়ে খুঁজতে হত। কিছু ব্লক-শহরে অবশ্য বিক্ষিপ্ত ভাবে দলের সংগঠন ছিল। তবে, সদ্যসমাপ্ত লোকসভার ফল সব হিসেব এলোমেলো করে দিয়েছে। মোদী-ঝড়ের পর সিপিএম, কংগ্রেস, তৃণমূল সকলেই এখন বিজেপির উত্থান নিয়ে দলের অন্দরে কাঁটাছেঁড়া শুরু করেছে। ২০০৯ সালের লোকসভা ভোটে জেলার তিনটি আসনে বিজেপির প্রাপ্ত ভোটের হার ছিল সামান্য। মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে ৫ শতাংশ। আর ঘাটালে ৩ শতাংশ। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রাপ্ত ভোটের হার বেড়ে হয়েছে মেদিনীপুরে ১৪ শতাংশ, ঝাড়গ্রামে ১০ শতাংশ এবং ঘাটালে ৭ শতাংশ। মেদিনীপুরের মতো আসনে বিজেপির একধাক্কায় ৯ শতাংশ ভোট বাড়াকে লঘু করে দেখতে রাজি নন তৃণমূলেরই অনেকে। তাদের মতে, দ্রুত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা জরুরি।

জেলায় বিধানসভা আসন রয়েছে ১৯টি। লোকসভা ভোটের নিরিখে একটি বিধানসভাতেও এগিয়ে নেই বামেরা। অথচ খড়্গপুর সদরের মতো আসনে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে। মেদিনীপুর বিধানসভা এলাকার কিছু বুথেও তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে বিজেপি। যেমন, ২২৯ নম্বর বুথে বিজেপি পেয়েছে ৩৪৪টি ভোট, তৃণমূলের প্রাপ্তি ৩৯৮। কিছু বুথে লিডও পেয়েছে বিজেপি। যেমন, ১৪৫ নম্বর বুথে বিজেপির প্রাপ্ত ভোট ৩১৮, তৃণমূলের ২৭০। ২৫৭ নম্বর বুথে বিজেপি পেয়েছে ২৫৩টি আর তৃণমূল পেয়েছে ২৭০টি ভোট।

মেদিনীপুর বিধানসভায় বিজেপি মোট ভোট পেয়েছে ৩২ হাজার। অথচ ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তারা পেয়েছিল মাত্র ৫ হাজার ভোট। কেশিয়াড়ির মতো এলাকাতেও বিজেপি ২৬ হাজার ভোট পেয়েছে। এই ফলের পর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতেই জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব তড়িঘড়ি বর্ধিত সভা ডেকেছেন বলে খবর। যে সব বুথে দল পিছিয়ে রয়েছে, সেই সব বুথের নেতৃত্বকে দলের অন্দরে জবাবদিহি করতে হবে। কেন পিছোতে হল, তার কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে। প্রয়োজনে পরবর্তী সময় সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসও করা হবে।

tmc bjp medinipur
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy