Advertisement
E-Paper

আর ছুটতে হবে না ৮ কিমি, চিকিৎসক স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই

করোনার ছায়া পড়েছে গাঁয়ের গভীরেও। নিভু নিভু গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির সামনেও ভয়ার্ত মানুষের আঁকাবাঁকা লাইন। কেমন আছে সেই সব অচেনা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি, খোঁজ নিল আনন্দবাজারকরোনার ছায়া পড়েছে গাঁয়ের গভীরেও। নিভু নিভু গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির সামনেও ভয়ার্ত মানুষের আঁকাবাঁকা লাইন। কেমন আছে সেই সব অচেনা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি, খোঁজ নিল আনন্দবাজার

কৌশিক সাহা

শেষ আপডেট: ২৩ এপ্রিল ২০২০ ০৫:০৮
রোগীদের অপেক্ষা । নিজস্ব চিত্র

রোগীদের অপেক্ষা । নিজস্ব চিত্র

মাস দেড়েক আগেও ওই হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভরসা করতে হয়েছে ফার্মাসিস্ট অথবা চতুর্থ শ্রেণির কর্মীর উপরে। বাসিন্দাদের দাবি মেনে মাঝেমধ্যে সপ্তাহে দু’দিন করে চিকিৎসক আসতেন জজান প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। কিন্তু তাতে দু’টি অঞ্চলের প্রায় ৪০টি গ্রামের বাসিন্দারা নির্ভর করতে পারতেন না। সামান্য জ্বর হলেও ছুটতে হয়েছে এলাকার গ্রামীণ চিকিৎসকের কাছে অথবা আট কিলোমিটার দূরের কান্দি মহকুমা হাসপাতালে। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে তিন বছর পরে এখন বাসিন্দাদের ভরসা জোগাতে সপ্তাহে ছয় দিন নিয়ম করে চিকিৎসক আসছে। তাতেই খুশি ভরতপুর ১ ব্লকের জজান ও গুন্দিরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দারা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি তাঁদের ভৌগোলিক অবস্থা এমন, যে ব্লক হাসপাতালের থেকে মহকুমা হাসপাতালের দূরত্ব প্রায় অর্ধেক। ভরতপুর গ্রামীণ হাসপাতাল ওই দু’টি অঞ্চল থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে। সেখানে কান্দি মহকুমা হাসপাতালের দূরত্ব মাত্র আট কিলোমিটার। কথায় কথায় কান্দি বা ভরতপুর হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা করাতে যেতে পারেন না কৃষিজীবী এলাকার বাসিন্দারা। তাই জজান গ্রামে দু’টি অঞ্চলের বাসিন্দাদের চিকিৎসার পরিসেবা দেওয়ার জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র হয়েছে বহু বছর আগে। প্রথম দিকে ওই হাসপাতালে সর্বক্ষণ চিকিৎসক, নার্স, ফার্মাসিস্ট, চতুর্থ শ্রেণীর কর্মী থেকে সুইপার সকলেই থাকতেন। এবং এলাকার বাসিন্দাদের জরুরি পরিষেবা দিতেন। হাসপাতাল চত্বরে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের থাকার জন্য অাবাসন আছে। কিন্তু দীর্ঘ দিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সবই ভেঙে গিয়েছে। চিকিৎসক নিয়মিত ব্লক হাসপাতাল থেকে যাতায়াত করে চিকিৎসা পরিসেবা দিয়ে এসেছেন। পরে চিকিৎসক চলে যাওয়ার পর ফার্মাসিস্ট আর চতুর্থ শ্রেণীর কর্মীর উপর নির্রভ করতে হয়েছে বাসিন্দাদের। জ্যোৎস্না মণ্ডল বলেন, “গ্রামে হাসপাতাল থাকার পরেও চিকিৎসক ছিলেন না। ফার্মাসিস্ট চলে যাওয়ার পরে চতুর্থশ্রেণির কর্মীর উপর নির্ভর করতে হয়েছে বেশ কয়েক বছর। এখন ফার্মাসিস্ট এসেছেন।”

নার্সের অভাব পূরণ করতে না পারলেও গ্রামীণ হাসপাতাল থেকে দুই জন চিকিৎসককে সপ্তাহে ছয় দিন বহিঃবিভাগে চিকিৎসার জন্য নিয়মিত পাঠানো হচ্ছে। মূলত এই করোনাভাইরাসের জেরে এলাকার বাসিন্দারা যাতে আতঙ্কিত না হন, সেটা মাথায় রেখেই এই ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে দাবি ব্লক স্বাস্থ্যকর্তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দা রাজেশ মণ্ডল, নবাব শেখরা বলেন, “করোনার কারণে আমাদের গ্রামে নিয়মিত চিকিৎসক আসছেন, এতে এলাকার মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। জ্বর, সর্দি হলে করোনার যে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে সেটা চিকিৎসকদের পরামর্শে
সেটা দূর হচ্ছে।” ভরতপুর ১ ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক অবিনাশ কুমার বলেন, “জজান হাসপাতালের জন্য কোন চিকিৎসক পাওয়া যায়নি। এলাকার বাসিন্দাদের আতঙ্ক মুক্ত করতে গ্রামীণ হাসপাতালের দু’জন চিকিৎসক ওই হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা করছেন। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত ওই হাসপাতালে স্থায়ী একজন চিকিৎসক নিয়োগ করার জন্য। নার্সের প্রয়োজনীয়তা থাকলে সেটাও দেখা হবে।”

(অভূতপূর্ব পরিস্থিতি। স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিয়ো আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন, feedback@abpdigital.in ঠিকানায়। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।)

Coronavirus
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy