Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১৯ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

গান থেমে গেল জীবনের

নিজস্ব সংবাদদাতা
শিলিগুড়ি ১৩ জানুয়ারি ২০১৯ ০৫:১০
জীবন গুরুং।

জীবন গুরুং।

সেনায় ছিলেন রাইফেলম্যান। কিন্তু তার বাইরে আরও একটা জীবন ছিল জীবন গুরুংয়ের। তাতে গান ছিল, পরিবার ছিল। আর ছিল নিজের একটি আস্তানা করার স্বপ্ন। কিন্তু এক ধাক্কায় যেন সব শেষ হয়ে গেল। শুক্রবার দুপুরে জম্মু-কাশ্মীরের নৌসেরা সেক্টরে লাইন অফ কন্ট্রোলে আইইডি বিস্ফোরণে মারা যান দার্জিলিংয়ের লামাহাটার বাসিন্দা বছর পঁচিশের জীবন।

সেনার এক মুখপাত্র কর্নেল এসজে তিওয়ারি জানান, শনিবার দিল্লিতে পৌঁছেছে জীবনের দেহ। কাল দুপুরে বাগডোগরা বিমানবন্দরে আসার কথা।জীবনের কাকা অম্বর গুরুঙ্গ জানালেন, ‘‘২/১ গোর্খা রেজিমেন্টের প্লাটুন কমান্ডার শুক্রবার রাতে ফোনে পরিবারকে জানিয়েছিলেন জীবনের মৃত্যুর খবর।’’ জীবনের বাবা কিরণ অরুণাচল সরকারের কর্মী। তিনি রওনা হয়েছেন দার্জিলিংয়ের দিকে। পরিবার জানিয়েছে ছেলের মৃত্যুর খবর শোনার পরেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন মা পুনম।

অম্বর জানান, দার্জিলিংয়ে একটি স্কুলে বিজ্ঞান নিয়ে পড়েছিলেন জীবন। সেনায় যাওয়ার কোনও পরিকল্পনাই তাঁর ছিল না। জলোপাহাড়ের সেনার মাঠে রোজই প্রাতঃভ্রমণে গিয়ে দৌড়ঝাঁপ করতেন। অম্বর জানান, ২০১৪ সালে সেখানে সেনায় ভর্তির পরীক্ষা হচ্ছিল দেখে দাঁড়িয়ে পড়েছিলেন জীবন। প্রশিক্ষণের পরে তিন বছর জম্মু-কাশ্মীরেই ছিলেন তিনি। অন্য জায়গায় পোস্টিং হলে শিলিগুড়ির শালবাড়িতে একটি জায়গায় বাড়ি করবেন বলে ঠিক করে রেখেছিলেন জীবন। সেসব কথা রোজই ফোনে দিদি বিনুকে জানাতেন। শুক্রবার কাজের আগেও দিদিকে ফোন করেছিলেন তিনি। সেটাই ছিল বাড়িতে করা তাঁর শেষ ফোন।

Advertisement

সেনাতে যাওয়ার আগে রীতিমতো গাইয়ে হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন জীবন। দার্জিলিংয়ের ধ্রুপদী সঙ্গীত গুরু প্রদীপ ছেত্রীর কাছে তালিমও নিয়েছিলেন গানের। তাঁর দিদি বিনু বলেন, ‘‘পাড়া হোক বা সেনা, কোনও অনুষ্ঠান হলেই গান গাইতে ভাইয়ের ডাক পড়ত।’’ ছুটি কাটিয়ে ১১ নভেম্বর ইউনিটে যোগ দিতে গিয়েছিলেন জীবন।

আরও পড়ুন

Advertisement