Advertisement
E-Paper

কেউ কষ্টে রাজি, কেউ আবার রুষ্ট

নোট বাতিলের জেরে দুর্ভোগের প্রতিবাদে মন্ত্রী-বিধায়কদের পথে নামতে দেখলেন আম-জনতা। জন প্রতিনিধিরা আন্দোলনে নামায় বিধি-নিষেধ কিছুটা হলেও শিথিল হতে পারে বলে দাবি করলেন কেউ, কেউ বা মন্তব্য ছুড়ে দিলেন, মিছিলের কারণেও তো হয়রানি হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ২৫ নভেম্বর ২০১৬ ০২:৪১

নোট বাতিলের জেরে দুর্ভোগের প্রতিবাদে মন্ত্রী-বিধায়কদের পথে নামতে দেখলেন আম-জনতা। জন প্রতিনিধিরা আন্দোলনে নামায় বিধি-নিষেধ কিছুটা হলেও শিথিল হতে পারে বলে দাবি করলেন কেউ, কেউ বা মন্তব্য ছুড়ে দিলেন, মিছিলের কারণেও তো হয়রানি হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের পাঁচশো-হাজারের নোট বাতিলের সিদ্ধান্তে সাধারণ বাসিন্দাদের দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়েছে অভিযোগ তুলে এ দিন তৃণমূল জেলায় জেলায় মিছিল করেছে। কোথাও মিছিলের জেরে যানজট হয়েছে, কোথাও বা মিছিলে লোকসংখ্যা দেখে পথচারীরা মোবাইল বের করে ছবি তুলে রেখেছেন।

সাধারণ মানুষের কারও বক্তব্য, এই মিছিলে কিছুটা অসুবিধা হলেও, তা স্বীকার করে নেওয়া যায়। উত্তর দিনাজপুরের গোয়ালপোখরের তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী গোলাম রব্বানির নেতৃত্বে মিছিল হয়েছে রায়গঞ্জে।

রাস্তাতেই দেখা মিলল পূর্ব নেতাজিপল্লি এলাকার বাসিন্দা পেশায় বিদ্যুত লাইন মেরামত কর্মী গৌরব পালিতের। তাঁর মন্তব্য, ‘‘নোট বাতিল হওয়ায় সাধারণ মানুষের সাময়িক সমস্যা হলেও ভবিষ্যতে এক ফল ভালই হবে বলে আমার ধারণা। কোনও দল মিছিল করতেই পারে। কিন্তু সেই মিছিলের যৌক্তিকতা ভবিষ্যতেই বোঝা যাবে।’’

আবার, কর্ণজোড়া কালীবাড়ী এলাকার বাসিন্দা পেশায় স্টুডিওকর্মী চন্দন সরকার দাবি করেছেন, তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। কিন্তু ৫০০ এবং ১০০০ টাকার নোট বাতিলের পর বাসিন্দারা ব্যাঙ্ক ও এটিএম থেকে টাকা বদল ও টাকা তুলতে গিয়ে প্রতিদিন হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে তিনি মিছিল সমর্থন করেছেন।

মিছিল থেকে এগিয়ে গিয়ে পথচলতি মানুষদের সঙ্গেও নোট সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন জলপাইগুড়িতে মিছিলে ছিলেন জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সৌরভ চক্রবর্তী। মিছিল শুরুর আগে এবং পরে তিনি পথচারীদের সঙ্গেও কথা বলেন, মিছিলে আসতে অনুরোধ করেন। জলপাইগুড়ির দিশারী ক্লাবের কাছ থেকে ওই মিছিল শুরু হয়। সৌরভবাবু ছাড়াও জেলার বিধায়করা মিছিলে ছিলেন। সমাজপাড়ায় কুশপুতুলও পোড়ানো হয়। সৌরভবাবু জানিয়েছেন, জেলায় লাগাতার প্রতিবাদ চলবে। মিছিলের জেরে যানজট হয়েছে। যদিও সমাজপাড়ায় আটকে যাওয়া মাঝবয়সী প্রবীর দত্তের কথায়, ‘‘মিছিলের জন্য রাস্তায় চলতে খানিকটা কষ্ট হয়েছে, এটা ঠিক। তবে তার থেকেও কষ্ট হচ্ছে রোজ রোজ লাইনে দাড়িয়ে টাকা তুলতে৷ তাই প্রতিবাদটা হোক।’’

এ দিন শিলিগুড়িতে হিলকার্ট রোড-সেবক রোড-বিধান রোড শহরের তিন প্রধান রাস্তা ছুঁয়েই এ দিন দুপুরে তৃণমূলের প্রতিবাদ মিছিল হয়। মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব। মিছিল শুরুর প্রায় আধ ঘণ্টা আগে মন্ত্রী গৌতমবাবু হিলকার্ট রোডে মহানন্দা সেতু লাগোয়া মোড়ে চলে আসেন। সেখান থেকেই মিছিল শুরু হয়েছে। নিউ জলপাইগুড়ি, চম্পাসারি কোথা থেকে কত কর্মী-সমর্থক আসছে, তা ফোনে খোঁজ নিতে শুরু করেন তিনি। তৃণমূল নেতাদের দাবি এ দিন শুধুমাত্র শহরের নেতা-সমর্থকদেরই মিছিলে ডাকা হয়েছিল। সেবক রোডে মিছিল দেখে মোবাইলে ছবি তুলতেও দেখা গিয়েছে ব্যবসায়ীদের অনেককে। এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘‘কালো টাকা উদ্ধার হোক, নোট বাতিল হোক, সবেতেই রাজি তবে এত তাড়াহুড়ো ঠিক হয়নি। এই সব মিছিলের চাপে যদি এবার কিছু হিল্লে হয়।’’ এ দিন নানা রকম দাবি লেখা প্ল্যাকার্ডও দেখা গিয়েছে তৃণমূল কর্মীদের গলায়।

এ দিন কোচবিহার ভবানী চৌপথীর দলীয় দফতর থেকে ওই মিছিল শুরু হয়। ভবানীগঞ্জ বাজার হয়ে মিছিল শহরের বিভিন্ন রাস্তা পরিক্রমা করে। পুরোভাগে ছিলেন নবনির্বাচিত সাংসদ পার্থপ্রতিম রায়, কোচবিহার পুরসভার চেয়ারপার্সেন রেবা কুণ্ডু, মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভানেত্রী শুচিস্মিতা দেবশর্মা, শ্রমিক সংগঠনের নেতা প্রাণেশ ধর।

সাংসদ পার্থবাবু বলেন, “নোট বাতিলের জেরে অর্থনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে। দলনেত্রীর নির্দেশে মিছিল করা হয়েছে। স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে বহু সাধারণ মানুষ সামিল হন।” ব্যবসায়ীদের অনেকেই রাস্তা থেকে মিছিলে এসে যোগ দিয়েছেন বলে তৃণমূল নেতাদের দাবি।

কোচবিহার ডিসট্রিক্ট চেম্বার্স অফ কর্মাস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সম্পাদক রাজেন বৈদ বলেন, ‘‘পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি। এই প্রতিবাদের প্রয়োজন ছিল। আমরা কালো টাকা উদ্ধারের বিরোধী নই। কিন্তু সাধারণ মানুষকে সমস্যায় ফেলে যা চলছে, তা সমর্থন করা যায় না।”

মালদহতেও তৃণমূল জেলা সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘‘সাধারণ মানুষও স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে আমাদের মিছিলে হেঁটেছেন।’’

Post-office demonetization issue
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy