Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৭ নভেম্বর ২০২১ ই-পেপার

ভারী বৃষ্টিতে ভাসল শুখা জেলা পুরুলিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদন
২৩ অগস্ট ২০১৬ ০১:১০
জলে ডুবেছে উঠোন। পুরুলিয়ার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে। —নিজস্ব চিত্র

জলে ডুবেছে উঠোন। পুরুলিয়ার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে। —নিজস্ব চিত্র

এক দিনের ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হল পুরুলিয়ার জনজীবন।

সোমবার জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা কার্যত জলবন্দি হয়ে পড়েন। বিভিন্ন ব্লকে ভেঙে পড়েছে বেশ কিছু কাঁচা বাড়ি। তবে পড়শি জেলা বাঁকুড়ার চেয়ে এখানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কম বলেই প্রশাসনের দাবি। জেলাশাসক তন্ময় চক্রবর্তী বলেন, ‘‘টানা বৃষ্টি হলেও বড়মাপের ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই। প্রশাসন পরিস্থিতির উপরে নজর রেখেছে। ব্লকগুলিতে আগেভাগেই পর্যাপ্ত ত্রিপল পাঠিয়ে রাখা হয়েছে।’’

জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর, সাঁতুড়ি বৃন্দাবনপুরের একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে জল ঢুকে পড়েছে। ওই গ্রামের একটি অংশ জলমগ্ন হয়ে পড়ায় তাঁতিপাড়া এলাকার প্রায় পঞ্চাশ জন বাসিন্দাকে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রবিবার বিকেল থেকে পুরুলিয়ায় শুরু হয় ঝিরঝিরে বৃষ্টি। সময় বাড়তে তার দাপট বাড়ে। রবিবার রাত ন’টার পর থেকে সোমবার বেলা একটা পর্যন্ত জেলায় টানা ভারী বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় পুরুলিয়ায় প্রায় ১০৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

Advertisement

বৃষ্টির জেরে সোমবার দিনভর নাকাল হয়েছেন জেলাবাসীও। এ দিন রাস্তায় বাস ছিল কম। জেলা বাস মালিক সমিতি জানিয়েছে, পুরুলিয়ায় প্রায় চারশোর মত বাস চলে। সোমবার পথে নেমেছিল সাকুল্যে দুশো বাস। দূরপাল্লার বেশির ভাগ বাস অবশ্য চলেছে।

শহরের নানা জায়গায় জল জমায় আবারও আঙুল উঠেছে নিকাশির সমস্যার দিকে। রঘুনাথপুর শহরের ১, ১২ এবং ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কিছু এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। পুরপ্রধান ভবেশ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘টানা বৃষ্টির জন্য সমস্যা হয়েছিল। তবে বৃষ্টি একটু কমতেই পাম্প চালিয়ে জমা জল বের করার কাজ শুরু করা হয়েছে।” তবে ওই তিনটি ওয়ার্ডে সাতটি কাঁচা বাড়ি পুরোপুরি ভেঙে গিয়েছে। পুরসভার কমিউনিটি হলে অস্থায়ী শিবির করে সাতটি পরিবারকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। ভবেশবাবু জানান, ওই পরিবারগুলির খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করেছে পুরসভা।

একই ভাবে নিকাশির অভাবে জলমগ্ন হয়ে পড়ে আদ্রার বেনিয়াসোল এলাকার একাংশ। আদ্রা-রঘুনাথপুর রাস্তার পাশের বেনিয়াসোলের ওই এলাকায় নতুন কলোনি তৈরি হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বেহাল নিকাশির ব্যাপারে তাঁরা একাধিকবার আড়রা পঞ্চায়েতে অভিযোগ জানালেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। সোমবার ওই এলাকার ৩০-৪০টি বাড়িতে জল ঢুকে পড়ে। রঘুনাথপুর ১ পঞ্চায়েত সমিতির বনভূমি দফতরের কর্মাধ্যক্ষ ডি মনোজ জানিয়েছেন, বিষয়টি ব্লক প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

রাস্তায় জল জমে নাকাল হয়েছেন পুরুলিয়া শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সূর্যসেন পল্লির বসিন্দারা। জল নামাতে পুরসভা পাম্প চালালেও কিছুক্ষণ পরেই সেটি বিকল হয়ে পড়ে। পরে আরও একটি পাম্প এনে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। ঝালদা পুরশহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে কয়েকটি কাঁচা বাড়ি ভাঙার খবর পাওয়া গেলেও ওই এলাকায় কোনও ত্রাণশিবির খোলা হয়নি। প্রশাসন সূত্রের খবর, টানা বৃষ্টিতে পুরুলিয়ার কয়েকটি রাস্তায় কজওয়ের উপর দিয়ে জল বয়ে যাওয়ায় যান চলাচলে সমস্যা হয়েছে।

এ দিকে, কাশীপুর-বাঁকুড়া রাস্তায় কাশীপুর ব্লকের কাপিষ্টা এবং গৌরাঙ্গডির মাঝের কজওয়েটির উপরে জল উঠে গিয়েছিল। বাঘমুণ্ডি ব্লকের অযোধ্যা-শিরকাবাদ রাস্তায় অযোধ্যা পাহাড়ের সামনে বান্দু নদীর কজওয়েটিও জলের তলায় চলে যায়। ফলে শিরকাবাদ থেকে অযোধ্যার যাওয়ার রাস্তা বেশ কিছু ক্ষণ বন্ধ থাকে। কাশীপুরেরই সোনাথলি পঞ্চায়েতে দুধভেরিয়া নদীর সেতু জলমগ্ন হয়ে পড়ায় কাশীপুর থেকে সোনাথলি যাওয়ার রাস্তা বন্ধ হয়ে পড়ে। রঘুনাথপুর থানার নীলডি গ্রামের কাছে গোবরান্দা-নীলডি রাস্তায় কালভার্ট ভেঙে পড়ায় সেটিও এ দিন বন্ধ ছিল।



Tags:

আরও পড়ুন

Advertisement