×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২১ এপ্রিল ২০২১ ই-পেপার

মহাকালীরূপে পূজিতা হন দেবী কঙ্কালী

নিজস্ব সংবাদদাতা
বোলপুর ১৫ নভেম্বর ২০২০ ০৫:০৯
আরাধনা: শনিবার সন্ধ্যায় কঙ্কালীতলায়। ছবি: বিশ্বজিৎ রায়চৌধুরী

আরাধনা: শনিবার সন্ধ্যায় কঙ্কালীতলায়। ছবি: বিশ্বজিৎ রায়চৌধুরী

কৃষ্ণা অমবস্যার রাতে কঙ্কালীতলায় কালীরূপে পুজো হয় দেবী কঙ্কালীর। প্রতিবছর এই পুজো দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে কয়েক হাজার হাজার ভক্ত সমাগম ঘটে। কিন্তু করোনা আবহের কারণে এবছর কালী পুজোয় কঙ্কালীতলায় সেই চেনা ভিড় উধাও। করোনার কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সমস্ত পুজোর আয়োজন করা হয়েছিল এ দিন। বীরভূমের সতীপিঠগুলির মধ্যে অন্যতম পীঠস্থান কঙ্কালীতলা। কথিত, এই স্থানে মায়ের কাঁকাল পড়েছিল সেই থেকে এই স্থান কঙ্কালীতলা নামে পরিচিত।

চৈত্র সংক্রান্তির দিন প্রতিষ্ঠা দিবস হিসেবে এখানে কঙ্কালীদেবীর বাৎসরিক পুজো হয়ে থাকে। এমনিতে প্রতিদিনই দেবীর পুজোর ব্যবস্থা রয়েছে। সারা বছরই এই পীঠস্থানে ভক্তদের আনাগোনা লেগে থাকে। প্রতিবছর কৃষ্ণা বা কার্তিক অমাবস্যা তিথিতে এখানে বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়। করোনা বাদ সাধলেও এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ভক্তরা বিশ্বাস করেন, এই দিনে কিছু মানত করলে মনস্কামনা পূর্ণ হয়, সেই কারণে প্রতিবছর কালীপুজোর দিন কঙ্কালীতলাতে প্রচুর ভক্তের সমাগম হয়।

অন্য বছর এই দিনে কঙ্কালীতলায় হাজার হাজার মানুষের সমাগম হলেও, এবার মন্দিরে ভিড়ের চিহ্নই নেই। সকালে পুজো দেওয়ার লাইনে পারস্পরিক দূরত্ব বিধি মেনে লোকজনকে দাঁড়াতে দেখা যায়। কাউকে ভিতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। কালীপুজো উপলক্ষে এ দিন সকাল থেকেই শুরু হয় বিশেষ পুজো, আরতি হোম যজ্ঞ। পুজোর দিন এখানে নিরামিষ ভোগ নিবেদনের রীতি রয়েছে। সেই রীতি মেনে এ দিন মধ্যাহ্নে পুষ্পান্ন, ডাল পাঁচ রকমের ভাজা, ফুলকপির তরকারি, পাঁচমিশালী টক ও পায়েস ভোগ নিবেদন করা হয়। সন্ধ্যারতি ও মন্দিরের পাশে থাকা কুন্ডে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিশেষ যজ্ঞের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কঙ্কালীতলা মন্দিরের সেবায়েত জয়ন্ত চৌধুরী, নারায়ণ চৌধুরীরা বলেন, ‘‘কালী পুজো উপলক্ষে এ দিন দেবী কঙ্কালীকে মহাকালী রূপে পুজো করা হয় এখানে। রাত অবধি পুজো চলে। এবার করোনার জন্য ভিড় নেই।’’

Advertisement
Advertisement