Advertisement
০৫ ডিসেম্বর ২০২৩
Visva Bharati University

অনুপমের কথায় ‘অনুপ্রাণিত’ উপাচার্য

গেরুয়া শিবির ঘনিষ্ঠ অনুপম আসায় বিশ্বভারতীতে পড়ুয়া-বিক্ষোভের আশঙ্কা থাকলেও এ দিন তেমন কিছু হয়নি।

বিশ্বভারতীতে অনুপম খের। সোমবার। ছবি: বিশ্বজিৎ রায়চৌধুরী

বিশ্বভারতীতে অনুপম খের। সোমবার। ছবি: বিশ্বজিৎ রায়চৌধুরী

নিজস্ব সংবাদদাতা
শান্তিনিকেতন শেষ আপডেট: ১৪ মার্চ ২০২৩ ০৯:৪০
Share: Save:

ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে কীভাবে জীবনে এগিয়ে যেতে হবে, বিশ্বভারতীতে এসে নিজের জীবনের উদাহরণ দিয়ে সেই গল্পই শোনালেন অভিনেতা অনুপম খের। তা শুনে উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী জানালেন, তিনি বিশ্বভারতীতে বাধার সম্মুখীন হয়ে দায়িত্ব ছাড়ার কথাও ভেবেছেন। তবে অনুপমের বক্তব্য শুনে ‘অনুপ্রাণিত’ উপাচার্য জানান, নিজের কাজ চালিয়ে যাবেন তিনি।

সোমবার বিশ্বভারতীর লিপিকা প্রেক্ষাগৃহে বক্তৃতা করতে আসেন অনুপম। ‘ব্যর্থতার শক্তি’ শীর্ষক ওই বক্তৃতায় অনুপম শৈশবে কাশ্মীর থেকে তাঁর ও তাঁর পরিবারের বিতাড়িত হওয়ার কথা, শিমলায় তাঁর বড় হয়ে ওঠার কথা বলেন। নাটক নিয়ে পড়াশোনা, প্রথম সিনেমায় সুযোগ পাওয়ার আগে নিজের দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের কথা এ দিন বলেন তিনি। অনুপম জানান, নিজের বাবার কাছে তিনি শিখেছিলেন কোনও ব্যক্তি ব্যর্থ হয় না, কোনও একটি ঘটনা ব্যর্থ হতে পারে। তাই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিদের সূত্রে জানা গিয়েছে, উপাচার্য জবাবি ভাষণে জানান, বিশ্বভারতীতে আসার ছ’মাস পর থেকেই কর্মী ও অধ্যাপকদের একাংশের সঙ্গে তাঁর বিরোধ বাধে। উপাচার্যের অভিযোগ, তাঁকে কাজ করতে বাধা দেওয়া হয়, আটকে হেনস্থাও করা হয়। উপাচার্য জানান, তখন তিনি একাধিকবার পদ ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভাবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। অনুপম খেরের এ দিনের বক্তব্য তাঁকে আরও এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে বলেও জানান উপাচার্য।

গেরুয়া শিবির ঘনিষ্ঠ অনুপম আসায় বিশ্বভারতীতে পড়ুয়া-বিক্ষোভের আশঙ্কা থাকলেও এ দিন তেমন কিছু হয়নি। এ দিন দুপুর ২টো নাগাদ বিশ্বভারতীর রতন কুঠীতে পৌঁছন তিনি। সেখানে কিছুক্ষণ বিশ্রাম করে দুপুর ৩টে নাগাদ রবীন্দ্রভবনের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় ধরে রবীন্দ্রনাথের পাঁচটি বাড়ি এবং রবীন্দ্র মিউজিয়াম ঘুরে দেখেন তিনি। প্রথম বার বিশ্বভারতী আসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামায় পড়াশোনা করার সময় রবীন্দ্রনাথের নাটকের বিষয়ে বিভিন্ন রকম পড়াশোনা করতে হত। তখন থেকেই ইচ্ছে ছিল বিশ্বভারতীতে আসার। কিন্তু নানা কারণে তা আর হয়ে ওঠেনি। এ বার শান্তিনিকেতনে এসে মন্দিরে আসার মতো অনুভূতি হচ্ছে।” অনুপম খের আসার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই তাঁর বিজেপি ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিশ্বভারতীর পড়ুয়া-শিক্ষক-প্রাক্তনীদের একাংশ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কিছু মানুষ থাকেন যাঁরা কাজ করেন আর কিছু মানুষ থাকেন যাঁরা শুধুই ফাঁকা কথা বলেন। আমি কাজ করতে ভালোবাসি। কাজ করেছি বলেই ৩৮ বছরের কর্ম জীবনে ৫৩৪ টি সিনেমা করেছি। আর যারা ফাঁকা কথা বলে, তারা যেখানে ছিল সেখানেই থেকে যায়।”

বাংলা সিনেমা জগতে নিয়োগ দুর্নীতির যোগের অভিযোগ প্রসঙ্গেও তিনি বলেন, “একটা পেটিতে অনেক ভাল আপেলের সঙ্গে কয়েকটি খারাপ আপেলও থাকে। কিন্তু সে জন্য গোটা পেটিকে খারাপ বলা চলে না। বাংলা ছবি অনেক বিখ্যাত শিল্প সৃষ্টি করেছে এবং এখনও করছে। কয়েক জনের জন্য সকলকে বদনাম করা উচিত নয়।” এ রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসা নিয়ে বারবার সরব হয়েছে বিজেপি-সহ বিরোধীরা। সে প্রসঙ্গে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “এসব শুনলে দুঃখ হয়। হিংসা একটা জায়গাকে শেষ করে দিতে পারে।”

রবীন্দ্রভবন থেকে বেরিয়ে সরাসরি লিপিকা প্রেক্ষাগৃহে বক্তৃতা করতে পৌঁছন অনুপম। অনুপমের বক্তব্যের শেষে বিশ্বভারতীর সঙ্গীত ভবনের পড়ুয়ারা ‘ভানুসিংহের পদাবলী’ পরিবেশন করে। অনুষ্ঠানের শেষে উপাচার্য অনুপমকে জানান বিশ্বভারতীর সঙ্গীত ভবনের পড়ুয়ারা যথেষ্ট প্রচার পায় না। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিদের সূত্রে জানা গিয়েছে, অনুপম জবাবে বলেন, “পড়ুয়াদের প্রচার না পাওয়া প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতা।” তবে ব্যক্তিগত স্তরে তিনি মুম্বই ও দেশের অন্যত্র এই অনুষ্ঠান পরিবেশনের ব্যবস্থা করবেন বলেও আশ্বাস দেন অনুপম।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement

Share this article

CLOSE