Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২০ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

বৈঠকে বসতে চলেছে পুরুলিয়ার পরীক্ষা কমিটি

পরীক্ষার্থীদের হার বাড়লেও কেন মাধ্যমিকে পিছিয়ে মেয়েরা, উদ্বেগ

প্রশান্ত পাল
২৫ মে ২০১৫ ০০:৫১

মাধ্যমিকে ছাত্রীর সংখ্যা বেড়েছিল পুরুলিয়ায়. কিন্তু ফলে দেখা গেল পাশের হারে পিছিয়ে পড়েছে ছাত্রীরা। আর ছাত্রীদের মধ্যে পাশের হার না বাড়ার ফলে সার্বিক প্রভাব পড়েছে জেলার ফলেও।

পুরুলিয়া জেলা মাধ্যমিক পরীক্ষা কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, এ বার জেলায় ১৭,৯৭৭ জন ছাত্র পরীক্ষায় বসেছিল। তার মধ্যে পাশ করেছে ১৪,৫৬১ জন। আর ছাত্রীর সংখ্যা ছিল ১৭,৩৭০ জন। তার মধ্যে পাশ করেছে ১১,৮৬২ জন। শতাংশের বিচারে যেখানে ছাত্রদের পাশের হার ৮১ শতাংশ, সেখানে ছাত্রীদের পাশের হার ৬৮.২৯ শতাংশ। ছাত্র-ছাত্রী মিলিয়ে জেলায় মাধ্যমিকে পাশ করেছে গড়ে ৭৪.৮০ শতাংশ। অথচ রাজ্যের পাশের হার ৮২.৬৬ শতাংশ।

অর্থাৎ পুরুলিয়ায় রাজ্যের পাশের হারের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে ছাত্রেরা ফল করলেও পিছিয়ে পড়েছে ছাত্রীরা। সামগ্রিক ভাবে এর ফলে এই জেলা রাজ্যের অন্যান্য জেলার তুলনায় নীচের দিকে রয়ে গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সদস্য তথা জেলা মাধ্যমিক পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক কামাখ্যাপ্রসাদ ত্রিপাঠি বলেন, ‘‘ছাত্রীদের ফল খারাপ হওয়ার কারণে জেলার সার্বিক গড় কমে গিয়েছে। তবে আশাকরি আগামী দিনে ছাত্রীরা আরও ভাল ফল করবে।’’

Advertisement

মাধ্যমিকে এ বার ছাত্রীর সংখ্যা বেড়েছিল। কিন্তু পাশের হারে প্রভাব পড়ল কেন? কামাখ্যাবাবুর কথায়, ‘‘কোথাও তো একটা সমস্যা হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে যতটুকু খবর পেয়েছি তাতে দেখা যাচ্ছে মফস্সলের দিকে বিশেষত গ্রামের স্কুলের ছাত্রীদের ফল ততটা ভাল হয়নি। তুলনামূলক ভাবে খানিকটা ভাল ফল হয়েছে শহর বা শহর লাগোয়া স্কুলগুলিতে।’’ তাঁর মতে, বর্তমানে যে ভাবে পরীক্ষা নেওয়া হয় বা যে ধরনের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হয় ছাত্রীদের কাছে তা বুঝতে সমস্যা হয়ে থাকতে পারে। হয়তো স্কুলে সংশ্লিষ্ট বিষয় যাঁরা পড়ান তাঁরা ছাত্রীদের কাছে এই পরীক্ষা পদ্ধতি পরিষ্কার ভাবে বোঝাতে পারেননি। তারই প্রভাব পড়েছে ফলাফলে। তাঁর কথায়, ছাত্রীদের কাছে যাতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষক বা শিক্ষিকা গোটা বিষয়টি পরিষ্কার করতে পারেন সে বিষয়ে আলোচনা হওয়া দরকার। প্রয়োজনে ‘রিফ্রেসার্স কোর্স’ও হতে পারে। তবে ছাত্ররা বুঝতে পারলে একই স্কুলের ছাত্রীদের কাছে পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে অস্পষ্টতা কী ভাবে থাকে, তা নিয়েও শিক্ষকদের অনেকে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন।

মাধ্যমিক পরীক্ষা কমিটির আর এক সদস্য তথা বিজয়ডি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কল্যাণপ্রসাদ মাহাতো অবশ্য মনে করেন, কন্যাশ্রী বা নিয়মিত স্কুলে গেলে সাইকেল দেওয়া এ সবের কারণে হয়তো ছাত্রীদের বেশি করে স্কুলমুখী করা গিয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে স্কুলছুট কমেছে। স্কুলে ছাত্রীদের ধরে রাখাও যাচ্ছে। কিন্তু বাড়ি ফিরে পরীক্ষার জন্য যে ভাবে প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন সেটা ছাত্রীরা নিচ্ছে কি না ক’জন অভিভাবক খবর রাখেন? বিশেষত গ্রামাঞ্চলের কথা বলছি। শহর বা শহর লাগোয়া স্কুলগুলিতে যে সমস্ত ছাত্রীরা পড়ে তাঁরা প্রাইভেট টিউশনের উপরে নির্ভর করে। কিন্তু গ্রামে টিউশন পড়ার সুযোগ কম থাকে, ফলে বাড়িতে পরীক্ষার প্রস্তুতি তারা কতটা নিতে পারছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।’’

আবার কাশীপুর জনার্দন কিশোর মেমোরিয়াল গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মিতালি গঙ্গোপাধ্যায় মনে করেন, ‘‘কোনও ছাত্রছাত্রী যদি নিয়মিত ক্লাস করে, পরীক্ষায় তার সুফল মিলবে। তবে সংশ্লিষ্ট ছাত্র বা ছাত্রীর বাড়ির পরিবেশও একটা ‘ফ্যাক্টর’। আমি তার কাছে ভাল ফল চাইলে, পড়াশোনার উপযুক্ত পরিবেশ তাকে দিতে হবে।’’ আবার তিনি এমনও মনে করছেন, পাশ-ফেল প্রথা উঠে যাওয়াও মাধ্যমিকে সাফল্য কমের একটা কারণ। কারণ মাধ্যমিকের প্রস্ততি তো শুরু হয় অনেক আগে থেকেই। সেখানে কোনও ছাত্রীর ভিতরে যদি এই বিষয়টি কাজ করে যে ‘আমি ফেল করব না’, তা হলে পাশ করার তাগিদ তার কেমন ভাবে তৈরি হবে?

আবার কিছু শিক্ষক আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে বিষয়টি বিশ্লেষণ করেছেন। তাঁরা জানাচ্ছেন, এখনও কিছু পরিবারে ছেলে ও মেয়ের মধ্যে তফাৎ করা হয়। ছেলেকে পড়ার জন্য সময় দেওয়া হলেও মেয়েকে ততটা সময় দেওয়া হয় না। তাদের অনেক সময় বাড়ির কাজও করতে হয়। এ ছাড়া দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের জমিতে চাষবাসের কাজেও নামানোও হয়। তা হলে তারা স্কুলে কোনও ভাবে পৌঁছলেও বাড়িতে বইখাতা খোলার ফুরসৎ কখন পাবে? কল্যাণবাবু জানান, ছাত্রীদের ফল কেন খারাপ হল, কী ভাবে উন্নতি করা যাবে, এ নিয়ে শীঘ্রই জেলায় তাঁরা বৈঠকে বসবেন।

আরও পড়ুন

Advertisement