Advertisement
E-Paper

আসল মার্কশিট না দেওয়ায় স্কুলে বিক্ষোভ

গণবিক্ষোভের জেরে ভেঙে গেল প্রচলিত রীতি। ছু’টির দিনেও স্কুল খুলে মাধ্যমিক উত্তীর্ণ ছাত্রছাত্রীদের হাতে আসল শংসাপত্র তুলে দিলেন কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার ঘটনাটি ঘটেছে ময়ূরেশ্বরের লোকপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে। ঘটনাচক্রে ওই স্কুলের পরিচালন সমিতি রয়েছে তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ মে ২০১৪ ০২:০০

গণবিক্ষোভের জেরে ভেঙে গেল প্রচলিত রীতি। ছু’টির দিনেও স্কুল খুলে মাধ্যমিক উত্তীর্ণ ছাত্রছাত্রীদের হাতে আসল শংসাপত্র তুলে দিলেন কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার ঘটনাটি ঘটেছে ময়ূরেশ্বরের লোকপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে। ঘটনাচক্রে ওই স্কুলের পরিচালন সমিতি রয়েছে তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণে। এ দিন তৃণমূল নেতৃত্বের হস্তক্ষেপেই পড়ুয়ারা তাদের আসল শংসাপত্র হাতে পায় বলে স্কুল সূত্রেই জানা গিয়েছে। বিজেপির জেলা সভাপতি দুধকুমার মণ্ডল অবশ্য জানিয়েছেন, চাপে পড়েই স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের অবস্থান বদল করতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যত নিয়ে এ ধনের ‘মর্জিমাফিক’ আচরণ বরদাস্ত করা যায় না। একই বক্তব্য সিপিএমের ময়ূরেশ্বর জোনাল সম্পাদক অরূপ বাগেরও। তিনি জানান, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে, ছাত্রছাত্রীদের আসল শংসাপত্র ‘আটকে’ রাখাটা কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুধু এ বারই নয়, র্দীঘদিন ধরেই ওই স্কুল কর্তৃপক্ষ মাধ্যমিকের ফল প্রকাশিত হওয়ার পরে পড়ুয়াদের আসল মার্কশিট আটকে রেখে বদলে জেরক্স দেওয়া হয়। এর মূলে রয়েছে, ভাল ফল করা ছাত্রছাত্রীরা যাতে অন্য কোনও স্কুলে গিয়ে ভর্তি না হতে পারে। তারা যেন নিজেদের পুরনো স্কুলেই ভর্তি হতে ‘বাধ্য’ হয়। সে ক্ষেত্রে ওই সব মেধাবী পড়ুয়ারা উচ্চ মাধ্যমিকেও ভাল নম্বর নিয়ে পাশ করে স্কুলের সুনাম রাখবে, এই আশায় থাকেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। এত দিন এ নিয়ে তেমন কোনও ক্ষোভ-বিক্ষোভ দেখা না গেলেও এ বারে তা ব্যাপক গোলমালে আকার নেয়।

স্কুল সূত্রে খবর, এ বার ওই স্কুলের ২৩৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৫৪ জন মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হয়েছে। ৬৪৩ নম্বর পেয়ে সর্বোচ্চ স্থান পেয়েছে তীর্থেন্দু পাল। সোমবার স্কুল কর্তৃপক্ষের দেওয়া জেরক্স করা মার্কশিট নিয়ে বিশ্বভারতীতে ফর্ম তুলতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়ে ওই ছাত্র। তার কথায়, “বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দেন, আসল মার্কশিট ছাড়া ভর্তির ফর্ম মিলবে না। পরে অবশ্য স্কুলের এক শিক্ষকের হস্তক্ষেপে ফর্ম মেলে।” তীর্থেন্দুর মতো ভাগ্য ভাল ছিল না ওই স্কুলের আরও কিছু ছাত্রের। আসল মার্কশিট দেখাতে না পারায় তারা ফর্ম পায়নি বলেই অভিযোগ।

তার জেরে অনেকেরই মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। কারণ, গত ২ মে থেকে স্কুলে ছুটি চলছে। খুলবে আগামী ৩১ মে। মাঝে গত ২২ মে ছাত্রছাত্রীদের ফলাফল জানানোক পাশাপাশি মার্কশিটের জেরক্স দেওয়া হয়। পড়ুয়াদের অভিযোগ, স্থানীয় ভাবে ওই জেরক্সের জন্য ৭৫ পয়সা খরচা হলেও তাদের থেকে স্কুল কর্তৃপক্ষ ২ টাকা করে নেন। স্বাভাবিক ভাবেই গোটা বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনমানসে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। স্কুল খোলার পরে মার্কশিট নিতে গেলে অন্যত্র ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় ক্ষোভ বাড়ে অভিভাবকদের মধ্যে। এ দিন তাই সকাল থেকেই স্কুল চত্বরে ভিড় জমান ছাত্রছাত্রী ও তাদের অভিভাবকেরা।

তাঁদের অভিযোগ, শুধু এ ক্ষেত্রেই নয়, ছাত্র ভর্তি, আদিবাসী ছাত্রাবাস পরিচালনা থেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষক নিজের মর্জিমাফিক নিয়ম তৈরি করেছেন। তাতে পড়ুয়ারাই নানা ভাবে হয়রান হয়। শেষে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তিনি পিছু হঠতে বাধ্য হন। সমস্ত অভিযোগ নিয়ে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক অভিজিত্‌ দে-র সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

এ দিন অবশ্য বিক্ষোভে আঁচ পেয়ে স্কুলে যান পরিচালন সমিতির সম্পাদক তথা স্থানীয় তৃণমূল নেতা প্রভাকর মণ্ডল, পরিচালন সমিতির সদস্য তথা ব্লক তৃণমূল সভাপতি চন্দ্রনীল ঘোষ, তৃণমূলের সংশ্লিষ্ট ঢেকা অঞ্চল সভাপতি সুশান্ত পাল, জেলা পরিষদের খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ জটিল মণ্ডল প্রমুখ। প্রভাকরবাবু বলেন, “প্রচলিত রীতি মেনেই আসল মার্কশিট আটকে রাখা হয়েছিল। কিন্তু সেটা করা আমাদের ভুল হয়েছে। এ দিনই ১৫ জন পড়ুয়াকে আসল মার্কশিট দেওয়া হয়েছে। অন্যদেরও দিয়ে দেওয়া হবে।” জেরক্সের পাশাপাশি রেজাল্ট আনতে যাওয়ার খরচ বাবদ পড়ুয়াদের কাছ থেকে ২ টাকা করে নেওয়া হয়েছিল বলে তিনি জানিয়েছেন।

ঘটনার কথা শুনে জেলা স্কুল পরিদর্শক (মাধ্যমিক) আশরফ আলি মির্ধা বলেন, “ছাত্রছাত্রীদের আসল মার্কশিট এ ভাবে আটকে রাখা যায় না। এমনটা করা উচিতও নয়। এ ক্ষেত্রে কী হয়েছে, আমার জানা নেই। তবে কেউ যদি লিখিত ভাবে আমার কাছে অভিযোগ করেন, তা হলে খতিয়ে দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেব। তবুও বিষয়টি দেখছি।”

madhyamik result marksheet mayureswar
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy