শৃঙ্খলা না থাকলে জীবনে কোনও কিছুই ঠিকমতো শেখা যায় না, বলছিলেন শিশু মনোবিদ হিরণ্ময় সাহা। তাঁর মতে, চরিত্র গঠনের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা বোধ খুব জরুরি। আর তা শিশুকে শেখানো উচিত একেবারে প্রথম থেকে। 

১। শৃঙ্খলার গোড়ার কথা হল ঠিক সময়ে ঠিক কাজ। একেবারে ছোট থেকে শিশুকে স্নান-খাওয়া-ঘুমনো নির্দিষ্ট সময়ে অভ্যাস করানো দরকার। শিশু যখন স্কুলে যাওয়া শুরু করবে, তখন থেকে বাড়িতে পড়াশোনার নির্দিষ্ট সময়ও বেঁধে দিন।

২। একই সময়ে রোজ এক কাজ করতে বাচ্চার বিরক্তি আসতে পারে। একঘেয়েমি কাটাতে ওকে অবসরে পছন্দের কাজ করতে দিন।

৩। অনেক বাচ্চা খাওয়া নিয়ে খুব সমস্যা করে। পুষ্টিগুণ বজায় রেখে রোজকার খাবারকে কী ভাবে আরও সুস্বাদু ও মুখরোচক করা যায় দেখুন। খাওয়ার সমস্যা এতে মিটবে।

৪। টিভি-ইন্টারনেট-মোবাইল নিয়ে সন্তান সব সময় মেতে কিনা নজর করুন। খারাপ জিনিস দেখার প্রভাব কিন্তু আচরণে পড়বেই।

অসময়ে টিভি দেখার জন্য বাচ্চা অশান্তি করলে প্রশ্রয় দেবেন না। বুঝিয়ে দিন অবসরে টিভি দেখার সময়টাও নির্দিষ্ট। প্রয়োজনে টিভির প্লাগ খুলে রাখুন। প্রথমে হয়তো আপনার সন্তান চেঁচামেচি করবে। কিন্তু পরে ঠিক বুঝবে ওর ভালর জন্যই এই সিদ্ধান্ত।

৫। বাবা-মা দু’জনেই কর্মরত হলে শিশুর জন্য বরাদ্দ সময় কমে যায়। এ থেকে যে ক্ষোভ শিশুমনে জন্মায় তা তাকে অনেক সময় বিশৃঙ্খল করে তোলে। তাই শিশুকে যতটা পারেন সময় দিন।

৬। সন্তানের মন বোঝাটাও কিন্তু জরুরি। ওর কখন কী দরকার, কেন ও বিশেষ ধরনের আচরণ করছে, সেটা ভাল করে বুঝুন।

৭। সন্তানের আচরণে শৃঙ্খলা ফেরাতে হলে আপনার আচরণও সুশৃঙ্খল হওয়া দরকার।

৮। শিশুকে বকাবকি, মারধর একেবারে করবেন না। হিতে বিপরীত হবে।

৯। অন্যায় আবদার করে বা চেঁচামেচি করে নয়, ভাল আচরণেই যে পছন্দের জিনিস পাওয়া সম্ভব এটা সন্তানকে বুঝিয়ে দিন।

১০। গল্পের ছলে শিশুকে জীবনের শিক্ষা দিন। এতে সু-অভ্যাস গড়ে উঠবে। আপনার সন্তান হবে সুশৃঙ্খল।