ঝাঁ চকচকে শপিং মল। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দোকানের পাশাপাশি শিশু এবং মহিলা ক্রেতাদের সুবিধার জন্য সেখানে রয়েছে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরিকাঠামো। কিন্তু সেই সব সুবিধা এবং পরিকাঠামোর কথা জানেনই না অনেকে। অন্তত তেমনই দাবি করেছেন মহিলা ক্রেতারা। শপিং মল কর্তৃপক্ষের অবশ্য দাবি, ক্রেতাদের সচেতনতার অভাবেই বিষয়গুলি গ্রাহকদের কাছে ‘অচেনা’ থেকে গিয়েছে।      

সম্প্রতি কলকাতার একটি শপিং মলে সন্তানকে প্রকাশ্যে স্তন্যদান এবং তাতে নিরাপত্তারক্ষীর বাধা দেওয়ার ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। শপিং মলগুলিতে মা এবং শিশুদের জন্য আলাদা ঘর রয়েছে কি না, সে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন নেটিজেনেরা। হলদিয়ার সিটি সেন্টার এলাকায় রয়েছে একটি শপিং মল। মঞ্জুশ্রী এলাকা থেকে সরে গিয়ে ২০১৫ সালে মলটি সিটি সেন্টার এলাকায় তৈরি হয়েছে। আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সেখানে ভিড় জমান ক্রেতারা। 

শপিং মল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন,  তিন তলা ওই মলে রয়েছে মায়েদের বিশ্রামঘর, শিশুদের ‘চেঞ্জিং রুম’। মায়েরা চাইলে সেখানে শিশুদের স্তন্যদান এবং তাদের জমাকাপড় বদলাতে পারবেন। যদিও গ্রাহকেরা জানাচ্ছেন অন্য অভিজ্ঞতার কথা। সম্প্রতি নিজের সাত মাসের সম্তানকে নিয়ে ওই শপিং মলে কেনাকাটা করতে গিয়েছিলেন চৈতন্যপুরের এক মহিলা। ওই মহিলার কথায়, ‘‘ছেলে খিদে পেয়েছিল। মলের মধ্যে স্তন্যদান করতে অসুবিধা হয়েছিল। তাই মলের বাইরে পার্কে গিয়ে অপেক্ষাকৃত ফাঁকা এলাকায় তাকে স্তন্যদান করি।’’ কিন্তু এ জন্য শপিং মলেই তো রয়েছে আলাদা ঘর? বাইরে গেলেন কেন? জবাবে ওই মহিলা জানান, এ রকম যে ঘর রয়েছে, তা তিনি জানতেন না।

একই কথা মহিষাদলের বাসিন্দা সুস্মিতা জানার মুখে। তিনি বলেন, ‘‘এতবার মলে এসেছি। কিন্তু এখানে মহিলা এবং শিশুদের জন্য আলাদা ঘর রয়েছে, তা জানতাম না।’’ একাধিক মহিলা একই দাবি করেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, শিশুকে স্তন্যদান করতে হলে, তাঁরা তা বাড়িতেই করেন। 

সম্প্রতি শপিং মলে গিয়ে দেখা গেল, ফার্স্ট ফ্লোরে রয়েছে মহিলা ও শিশুদের জন্য পৃথক ঘর। সেখানে সোফা, ডেটল, গ্লাস, জল, ভেন্ডিং মেশিন, টিস্যু কাগজ, টাওয়েল-সহ সব উপকরণ রয়েছে। ওই ঘরের উল্টো দিকেই রয়েছে ‘স্টাডি রুম’। সেখানে শপিং মলে কেনাকাটা করতে আসা কোনও পড়ুয়া পড়াশুনো করতে পারেন। 

কিন্তু এত আয়োজনের পরেও গ্রাহকেরা ওই পরিষেবা উপভোগ করতে পারছেন না কেন? এ প্রসঙ্গে শপিং মল কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের সচেতনতার অভাবকে দায়ী করেছেন। তাঁরা জানাচ্ছেন, একাধিক জায়গায় এবং ফ্লোর ম্যাপে ওই ঘরের উল্লেখ রয়েছে। শপিং মলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজার পার্থদেব দাস বলেন, ‘‘শহুরে গ্রাহক ছাড়াও গ্রাম্য এলাকা থেকেও অনেকে আসেন। তাঁরা অনেক সময়ই এই পরিষেবা যে রয়েছে, তা বুঝতেই পারেন না। তবে মলে হাউস কিপিং স্টাফ, নিরাপত্তা রক্ষীরা সাধ্য মতো তাঁদের সাহায্য এবং সচেতন করেন।’’