কারণ, ওঁরা আর মুখ লুকিয়ে থাকতে নারাজ। অপরাধ যে তাঁদের নয়। অন্যের দোষে ক্ষতি হয়েছে যথেষ্ট। বাড়তি লাঞ্ছনার বোঝা কমাতেই হবে। সমাজের মন বদলানোর দায়িত্ব নিয়ে তাই বেরিয়ে পড়েছেন নিজেরাই। 

অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী রানি (নাম পরিবর্তিত) প্রতিদিনের মতোই স্কুলে গিয়েছিল। ফাঁকা শৌচাগারে যেতে দেখে তার পিছু নেন শিক্ষক। সেখানেই হয় যৌন নির্যাতন। সেই থেকে স্কুলে যাওয়া বন্ধ রানির। উত্তরপ্রদেশের মেহরনি গ্রামের ‘নিচু জাতের’ মেয়েটির পাশে দাঁড়ায়নি প্রশাসন, পড়শিরা। ‘উঁচু জাতের’ শিক্ষক সসম্মানে যাচ্ছেন স্কুলে।   

রাজস্থানের তরুণী ঊর্মিলাকে (নাম পরিবর্তিত) বিক্রি করা হয়েছিল দীনেশ মালির কাছে। চলত অসহনীয় নির্যাতন। পালিয়ে থানা পর্যন্ত পৌঁছেও লাভ হয়নি। দীনেশ পাল্টা চুরির অভিযোগ করেন ঊর্মিলার নামে। জেলে যান নির্যাতিতাই। 

স্বেচ্ছাসেবীদের সাহায্যে এখন সমাজের সঙ্গে লড়াইয়ে নেমেছেন রানি-ঊর্মিলারা। তাঁদের মতো আরও হাজার হাজার মহিলা আছেন যে এ দেশে, যাঁরা যৌন হিংসার পাশাপাশি শিকার সামাজিক অত্যাচারেরও। অন্য সব অপরাধের থেকে এই ক্ষেত্রেও আলাদা যে যৌন হিংসা। এখনও বারবার আক্রান্তকেই পড়তে হয় সামাজিক রোষে। সামাজিক এই হিংসার প্রতিবাদ জানিয়ে সম্মান ফিরে পেতে সংগঠিত হয়েছেন হাজার পাঁচেক মহিলা। দেশ জুড়ে শুরু হয়েছে ‘ডিগনিটি মার্চ’। আক্রান্ত শিশু, কিশোরী, তরুণীরা এ প্রদেশ থেকে ও প্রদেশে ঘুরে জোর গলায় শোনাচ্ছেন সেই হিংসার কথা, যার শিকার তাঁরা। সঙ্গে আছে ‘রাষ্ট্রীয় গরিমা অভিযান’ ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। 

ইতিমধ্যে ৯টি রাজ্য ঘুরে শুক্রবার প্রতিবাদীদের সেই দল এসেছে এ শহরে। বিভিন্ন জায়গায় জড়ো হয়ে জানিয়েছেন, আক্রান্তদের লাঞ্ছনা আর মেনে নেওয়ার নয়। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ২৪টি রাজ্যের ২০০টি জেলায় সফর শেষ করবেন তাঁরা। আয়োজকদের তরফে আসিফ শেখ জানালেন, যৌন হেনস্থা রোধে হচ্ছে নানা কাজ। তবে অত্যাচারের পরে ‘ভিকটিম শেমিং’ বন্ধ খুব জরুরি। দোষ যার, শাস্তিও যেন তারই হয়— চলছে সেই লড়াই। 

আজ, শনিবারের গন্তব্য বর্ধমান। তার পরে সকলে পাড়ি দেবেন ঝাড়খণ্ড।