Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০৮ ডিসেম্বর ২০২১ ই-পেপার

আন্তর্জাতিক

খুন করে পুঁতে দিয়েছিল প্রেমিক, স্বপ্নে মিলল রহস্যের সমাধান!

নিজস্ব প্রতিবেদন
কলকাতা ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ১০:৩২
এক বছরের উপর সৎমেয়ে মারিয়া হারিয়ে গিয়েছে। সৎমা অ্যান স্বপ্ন দেখলেন, কেউ যেন তাঁর মেয়েকে খুন করছে, পুঁতে ফেলছে কোনও এক শস্যাগারে! সেই ভিত্তিতেই খোঁজ শুরু হল মেয়ের। রেড বার্ন মার্ডার মিস্ট্রি কিন্তু সমাধান হয়েছিল নাকি এভাবেই।

মারিয়ার জন্ম ১৮০১ সালে ইংল্যান্ডে সাফল্কের পোলস্টেড গ্রামে। মা মারা গিয়েছিলেন অল্প বয়সে। বাবা বিয়ে করেন অ্যানকে। সুন্দরী মারিয়া বিয়ের আগেই দুই সন্তানের মা হয়েছিলেন। তার পর উইলিয়াম কর্ডর নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর আলাপ। কর্ডর পরিচিত মহলে লেডি কিলার নামেই পরিচিত ছিলেন। কর্ডরের মাধ্যমেও অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন মারিয়া।
Advertisement
কর্ডর মারিয়াকে বিয়ে করতে চাইলেন। কিন্তু সামাজিক বাধা থাকায় পালাবেন বলেই ঠিক করেন তাঁরা। রেড বার্ন নামে স্থানীয় একটি শস্যাগারের সামনে দেখা করার কথা ছিল তাঁদের। ঠিক ছিল, ইপসউইচে গিয়ে বিয়ে করবেন। কিন্তু ১৮২৭ সালের মে মাসের পর মারিয়ার আর দেখা মেলেনি।

কর্ডর মারিয়ার পরিবারকে চিঠি দিয়ে জানাতেন, তাঁরা ভাল আছেন। কিন্তু মারিয়া কখনওই চিঠি না লেখায় সন্দেহ বাড়তে থাকে। কর্ডর বলতেন, মারিয়ার আগের সন্তানদের মুখোমুখি হতে হবে, তাই লিখছেন না, কিংবা বলতেন, তাঁর হাত কেটে গিয়েছে।
Advertisement
সেই সময়ই এক রাত্রে নাকি স্বপ্ন দেখেন অ্যান, মারিয়াকে খুন করা হচ্ছে শস্যাগারের পাশে। স্বপ্নের সূত্রে খোঁড়া শুরু হয় মাটি। বেরিয়ে আসে একটি কঙ্কাল। পোশাক, দাঁত, কঙ্কালের গড়ন ও হাতে গলায় একটি সবুজ রুমাল জড়ানো দেখে চেনা যায়, কঙ্কালটি মারিয়ার। সবুজ রুমালটি ছিল কর্ডরের। শুরু হয় মামলা।

১৮২৮ সালের মে মাসে অর্থাৎ প্রায় ১০০ বছর আগের এই মামলাটি ছিল সংবাদপত্র ও আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয়বস্তু। এই খুন নিয়ে লেখা হয় গান, কবিতা, উপন্যাস। তৈরি হয় সিনেমা। কিন্তু মারিয়ার খুনী কে? কর্ডর কি খুন করেছে মারিয়াকে? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে রোজ আদালতে ভিড় করতেন হাজার হাজার মানুষ।

পুলিশ জানায়, মারিয়াকে প্রথমে গুলি করা হয়, তার পর শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছিল। ধারালো অস্ত্রের আঘাতও ছিল তাঁর গায়ে, জানিয়েছিলেন বিশেষজ্ঞরা। ফরেন্সিক সায়েন্স সেই সময় উন্নত না থাকায় সঠিক ভাবে মারিয়ার খুনের কারণ সম্পর্কে জানা যায়নি। তবে বারবার জেরা করার পর কর্ডর স্বীকার করেন তিনি খুনী। যদিও প্রথমে বলেছিলেন, মারিয়া আত্মহত্যা করায় সেই ‘পাপ’ ঢাকতে তিনি সমাধিস্থ করেছিলেন।

এর পর কর্ডরের ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয় আদালতের তরফে। ১৮২৮ সালের ১১ অগস্ট ফাঁসির ঠিক আগের মুহূর্তে কর্ডর স্বীকার করেন, তিনি অপরাধী। এই শাস্তি তাঁর ভাগ্যে লেখা ছিল।

কর্ডরের ফাঁসির পর তাঁর জামাকাপড় ও ফাঁসির দড়িও বিক্রি হয় চড়া মূল্যে। কর্ডরের চামড়া ছাড়িয়ে সেই চামড়া দিয়ে বাঁধাই করা হয় একটা বই। সেই বইয়ে লেখা ছিল, কর্ডরের কুকীর্তির কথা। সেই বই আদালত চত্বরেই বিক্রি শুরু হয়েছিল চড়া দামে।

প্রশ্ন হল, স্বপ্ন দেখেই কি খুনের রহস্য সমাধানে উদ্যোগী হলেন পুলিশ-প্রশাসন। একটা তত্ত্ব অনুযায়ী, অ্যানের সঙ্গে মারিয়ার বয়সের তফাত ছিল সামান্যই। অ্যানের সঙ্গে কর্ডরের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। তাঁরা দু’জনে মিলে মারিয়াকে খুনের পরিকল্পনা করেন। কিন্তু কর্ডর পালিয়ে যান অ্যানকে সঙ্গে না নিয়েই। অ্যান কোনও ভাবে জানতে পারেন মারিয়ার খুনের কথা।

পরবর্তীতে কর্ডর বিয়ে করেছেন, এই খবর পেয়েই অ্যান প্রতিশোধ নেবেন বলেই ভুয়ো স্বপ্নের কথা বলা শুরু করেন স্বামীকে। যদিও আদালতে নাকি কর্ডর কখনওই অ্যানের নাম উচ্চারণ করেননি। তাই এই হত্যা রহস্য নিয়ে এখনও পর্যন্ত ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে।

স্থানীয়দের কেউ কেউ বলেন, ওই এলাকায় মারিয়া মার্টিনের আত্মাকে নাকি ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় এখনও। তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে ওই এলাকায় যাওয়া নিয়ে ভীতি তৈরি হয়েছে।

তবে অনেকেই বলেন, পুরোটাই মিথ। একেবারে অবৈজ্ঞানিক। তবে ১০০ বছর পেরিয়ে গেলেও ইংল্যান্ডের ওই এলাকায় ঘটনাটি নিয়ে চর্চা রয়েই গিয়েছে।