Abhishek Banerjee

‘এমন ভাবে ভোট দিন যাতে ১০০ বছর আপনাদের লাইনে দাঁড় করাতে ভয় পায়’! মালদহে অভিষেকের নিশানায় বিজেপি

সোমবার মালদহে রোড শো ছিল অভিষেকের। সেই রোড শো শেষে অভিষেক একের পর এক প্রশ্নবাণে বিঁধেছেন বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ২১:৩৭
Share:

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।

এসআইআর হোক বা রান্নার গ্যাস কিংবা নোটবন্দি— কেন বার বার লাইনে দাঁড়াতে হবে সাধারণ মানুষকে? সোমবার মালদহে ভোটপ্রচারে গিয়ে এমন প্রশ্নই তুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আর্জি, ‘‘এমন ভাবে আপনারা ভোট দিন যাতে আগামী ১০০ বছর ওরা (বিজেপি) মানুষকে লাইনে দাঁড় করানোর আগে ভাবে।’’

Advertisement

সোমবার মালদহে রোড শো ছিল অভিষেকের। সেই রোড শো শেষে অভিষেক একের পর এক প্রশ্নবাণে বিঁধেছেন বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে। সেখানেই তৃণমূলের ‘সেনাপতি’ বলেন, ‘‘ওরা মানুষকে নোটবন্দি, এসআইআর, রান্নার গ্যাসের জন্য লাইনে দাঁড় করিয়েছে— এখন স্বাধীনতার ৭৮ বছর পরেও কি মানুষকে নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে লাইনে দাঁড়াতে হবে?’’ তার পরেই অভিষেক বলেন, ‘‘এমন ভাবে ভোট দিন যাতে আগামী ১০০ বছর মানুষকে লাইনে দাঁড় করানোর আগে ওরা ৫০ বার ভাবতে বাধ্য হয়।’’

সম্প্রতি পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী তথা প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ কলকাতায় হামলা করার হুমকি দিয়েছিলেন। সেই প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, ‘‘এখন প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চুপ। আমরা তাঁর (খোয়াজা আসিফ) নাম চিরকুটে লিখে রেখেছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র সরকার গঠন হলে কঠোর জবাব দেব। কেউ কলকাতাকে হুমকি দিচ্ছে, আর প্রধানমন্ত্রী কোচবিহারে এসে কেবল তৃণমূল সরকারকে উৎখাত করার কথা বলছেন।’’ একই সঙ্গে কেন্দ্রকে পাক অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে) ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন অভিষেক। তাঁর কথায়, ‘‘বিজেপি আমাদের পাকিস্তানি এবং বাংলাদেশি বলে, অথচ যখন বাংলাদেশ বা পাকিস্তান থেকে আসা মানুষ দিল্লি বা কলকাতায় হামলার হুমকি দেয়, তখন ওরা চুপ থাকে। প্রধানমন্ত্রী কেন ব্যবস্থা নেন না? যান, পাক অধিকৃত কাশ্মীর ফেরত নিয়ে আসুন— এটা দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রধানমন্ত্রী মোদী যদি তা করেন, তবে ১০ কোটি বাঙালির সঙ্গে তৃণমূলও তাঁকে সমর্থন করবে।’’

Advertisement

ভিন্‌রাজ্যে গিয়ে এ রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্থার প্রসঙ্গ তোলেন অভিষেক। বক্তৃতায় উঠে এসেছে ‘বাংলাকে অপমান’ করার কথাও। অভিষেকের হুঙ্কার, ‘‘আমরা কী খাব, কী পরব— তার অধিকার পূর্বপুরুষদের থেকে পেয়েছি। দিল্লির বহিরাগত নেতারা দেননি। এই মাটি সকলের। কেউ যদি ভাবে নাম বাদ দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেবে, তবে খুব ভুল ভাবছে।’’ অভিষেকের আর্জি, ‘‘গণতান্ত্রিক ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘প্রতিটি বুথের দায়িত্বে যারা আছেন, তাঁদের ভোটের দিন সজাগ প্রহরীর মতো কাজ করতে হব। মানুষের ভোটাধিকার রক্ষা করতে হবে।’’

ভোট ভাগাভাগি হওয়ার প্রসঙ্গও উঠে এসেছে অভিষেকের বক্তৃতায়। উল্লেখ্য মালদহের দুই লোকসভা আসন ২০২৪ সালে হেরে গিয়েছিল তৃণমূল। সেই বিষয় উল্লেখ করে অভিষেক বলেন, ‘‘আমি আপনাদের অনুরোধ করেছিলাম ভোট যেন ভাগ না হয়। মালদা উত্তর এবং মালদহ দক্ষিণ— এই দুটি আসনে যদি তৃণমূল জিতত, তবে বাংলায় এসআইআর হত না।’’ আইএসএফ এবং আসাদউদ্দিন ওয়েসির দল মিম-কে কটাক্ষ করেছেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘‘এক দিকে বিজেপি জিতেছে আর অন্য দিকে কংগ্রেস, আর লাইনে দাঁড়াতে হল কাদের? এখানে ভোট ভাগ করার জন্য অনেক বিজেপি এজেন্ট আছে— সে মিম হোক বা আইএসএফ।’’

Advertisement

অভিষেকের মতে, ‘‘আসন্ন বিধানসভা ভোটে মালদহে যদি ১২-০ ব্যবধানে তৃণমূল জেতে, তবে আমরা ২৫০টি আসন পার করব। বিজেপিকে ৫০-এর নিচে নামিয়ে আনার দায়িত্ব আপনাদের।’’ তৃণমূল নেতার প্রশ্ন, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর কাছ আপনাদের কেন কিছু প্রমাণ করতে হবে? আপনাদের রক্ত দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি। আপনাদের স্পর্শ করার আগে তাদের আমার মৃতদেহের উপর দিয়ে যেতে হবে।’’ হরিচন্দ্রপুর-সহ মালদহের বিভিন্ন জায়গায় মমতার সরকারের আমলে কী কী উন্নয়ন হয়েছে, তার খতিয়ানও তুলে ধরেন অভিষেক।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement